দাম নেই, টেকনাফে সড়কের দু,পাশে পড়ে আছে হাজার হাজার মে. টন লবণ

১:৩৬ অপরাহ্ণ | বুধবার, নভেম্বর ২০, ২০১৯ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- দেশের একমাত্র লবণ উত্পাদনকেন্দ্র কক্সবাজারের উপকূলীয় মাঠে চাষিরা যে মুহূর্তে নতুন মৌসুমের উত্পাদন কাজে নেমেছেন, তখনই বাজারে গুজব ছড়ানো হচ্ছে এই বলে যে—এবার লবণ সংকট দেখা দিয়েছে।

বাস্তবে দেশে লবণের কোনো সংকট নেই জানিয়ে কক্সবাজারের লবণ চাষি, ব্যবসায়ী ও মিল মালিকরা জানিয়েছেন, এখনো পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় লাখ মেট্রিক টন লবণ মাঠে ও গুদামে মজুদ রয়েছে। যা দিয়ে আগামী তিন মাস দেশের মানুষের চাহিদা মিটবে অবাধে।

তাদের অভিযোগ দেশের লবণ খাতকে ধ্বংস করে আমদানি নির্ভরতা বাড়াতে এই গুজব রটানো হয়েছে। এদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টেকনাফসহ পুরো জেলায় হাজার হাজার মেট্টিক টন লবণ এখনো অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। মালিকরা এসব লবণ মাঠের আশে পাশে মজুদ করে রেখেছেন। উৎপাদন খরচের বিপরীতে লবণের মূল্য অনেক কম হওয়ায় তারা বিক্রি না করে মাঠে লবণ ফেলে রেখেছেন।

গত ২ মৌমুসের লবণ অবিক্রিত অবস্থায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের দু,পাশে অবিক্রিত লবণ মওজুদ করে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখেছেন।

বিসিক সুত্র জানায়, গত মৌসুমে কক্সবাজারে ১৮ লক্ষ ২৪হাজার মেট্টিক টন লবণ উৎপাদন হয়েছে। বিক্রির পর বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে সাড়ে ৪ লাখ মেট্টিক টন লবণ অবিক্রিত আছে। লবণ নিয়ে পরিস্থিতি এমন অবস্থায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে খোদ কৃষক এবং ব্যবসায়ীরা লবণ চাষে আগ্রহ হারাতে বসেছেন। কমমূল্যের কারণে হাজার হাজার মেট্টিক টন লবণ সেখানে অবিক্রিত অবস্থায় মাঠে পড়ে আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিমণ লবণের মূল্য ১শ ৯০ টাকা। এই হিসাবে প্রতি কেজি ৫ টাকার কম। প্রতিমণ লবণ উৎপাদনে কৃষকের খরচ পড়েছে ২শ টাকা।

লবণ ব্যবসায়ী আব্দুল গাফফার ও আব্দুস ছালাম কালু জানান, উৎপাদনের চেয়ে মূল্য কম হওয়ায় বিগত মৌসুমের ১৫ টন লবণ অবিক্রিত পড়ে আছে। খরচ না পোষালে কিভাবে লবণ ব্যবস্যা করব? প্রতি বছর লোকসান দিয়ে এভাবে ব্যবসা করা যায় না।

হ্নীলা লবণ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হোছাইন মুহাম্মদ আনিম জানান, ন্যায্য মূল্য পাওয়ার আশায় গত মৌসুমে লবণ জমিয়ে বড় ধরণের ভূল করেছি। লবণ চাষ করে বর্তমানে লাখ লাখ টাকার ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েছি।

হ্নীলা লবণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ছাবের খাঁন জানান, শুধু হ্নীলাতেই ১৫ হাজার মেট্টিক টন লবণ অবিক্রিত পড়ে আছে। উৎপাদন খরচের চেয়ে মূল্য কম হওয়ায় লোকসান হচ্ছে বিধায় ওই লবণ এখনো জমা রেখেছেন। পরবর্তী মৌসুম চলে আসার সময় হলেও ব্যবসায়ীরা লবণ বিক্রি করতে পারছেন না। তিনি লবণের ন্যায্য মূল্য বৃদ্ধির জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বিসিক টেকনাফের ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান জানান, লবণ নিয়ে গুজব ছড়িয়ে লাভ নেই। মূল্য কম হওয়ায় টেকনাফেও ১৫ হাজার মেঃ টন লবণ অবিক্রিত আছে।

ব্যবসায়ীরা জানায়, নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে লবণের মৌসুম। ইতিমধ্যে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে লবণ উৎপাদন শুরু হয়েছে। গেল মৌসুমেও অন্তত ছয় লাখ মেট্রিক টন লবণ উদ্বৃত্ত ছিল।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) কক্সবাজারের লবণ শিল্প উন্নয়ন প্রকল্প কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৯-২০ মৌসুমে বিসিকের চাহিদা ১৮ লাখ ৪৯ হাজার মেট্রিক টন। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৮ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। ২০১৮-১৯ মৌসুমে কক্সবাজার জেলায় উৎপাদনযোগ্য লবণ জমির পরিমাণ ছিল ৬০ হাজার ৫৯৬ একর। চাষির সংখ্যা ছিল ২৯ হাজার ২৮৭ জন। ওই মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮ লাখ মেট্রিক টন। বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন, যা বিগত ৫৮ বছরে লবণ উৎপাদনের মধ্যে রেকর্ড।

Loading...