আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট বলছে ছেলে অথচ ডাক্তার ধরিয়ে দিলেন মেয়ে

১১:২৪ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, নভেম্বর ২৫, ২০১৯ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর জেনারেল হাসপাতালে দিপ্তী রানী দাস নামে এক প্রসূতির জন্ম দেয়া সন্তান নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। জন্ম দেয়া সন্তান ছেলে নাকি মেয়ে এই নিয়ে বাঁধে বিপত্তি!

প্রসূতির স্বজনদের দাবি আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট অনুযায়ী দিপ্তীর ছেলে সন্তান হওয়ার কথা, কিন্তু সিজারিয়ান অপারেশনের পর তাদের কোলে কন্যা শিশু তুলে দেয়া হয়েছে।

অপরদিকে হাসপাতালে চিকিৎসকদের দাবি সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে দিপ্তী রানী দাসের কন্যা শিশু জন্ম হয়েছে। তার স্বজনদের কোলে কন্যা শিশুই তুলে দেয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে রোববার দুপুরে সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহ আলম, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও সেবিকারা দীর্ঘ আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের জানান, দিপ্তী রানী দাসের কন্যা সন্তানই জন্ম হয়েছে। আল্ট্রাসনোগ্রাম করা চিকিৎসকগণ জানান, তারা দিপ্তী রানী দাসের আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে সম্ভাব্য সন্তান নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

জানা যায়, রোববার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর জেনারেল হাসপাতালে পৌর এলাকার পাইকপাড়ার সজিব দাসের স্ত্রী দিপ্তী রানী দাসের সিজারিয়ান অপারেশন হয়। সিজারিয়ান অপারেশনের পর হাসপাতালের সেবিকারা (নার্স) দিপ্তী রানী দাসের মা শোভা রানী বিশ্বাসের কোলে কন্যা শিশু তুলে দিলে তিনি তার নাতিনকে কোলে নিতে আপত্তি করেন।

এই সময় শোভা রানী বিশ্বাস জানান, তার মেয়েকে তিনবার আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয়েছে। প্রতিবারই চিকিৎসক তার মেয়ের গর্ভে ছেলে সন্তান আছে বলে তাদের জানান। যে কারণে তিনি কন্যা শিশুর জন্ম হওয়ার বিষয়টি মানতে পারছেন না।

সরেজমিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে জানা গেছে, রোববার বেলা ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিনটি শিশুর জন্ম হয়।

সিজারিয়ান অপারেশন করা প্রসূতিরা হলেন- সদর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের শারমীন আক্তার, সদর উপজেলার সুহিলপুর গ্রামের শাহ আলমের স্ত্রী তামান্না আক্তার এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার পাইকপাড়া গ্রামের সজিব দাসের স্ত্রী দিপ্তী রানী দাস।

সিজারিয়ান অপারেশনে শারমীন আক্তার ও তামান্না আক্তার ছেলে এবং দিপ্তী রানী দাস কন্যা শিশুর জন্ম দেন।

অপারেশনের পর হাসপাতালের সেবিকারা শারমীন আক্তার ও তামান্না আক্তারের অভিভাবকদের কোলে ছেলে শিশু এবং দিপ্তী রানী দাসের মায়ের কোলে কন্যা শিশু তুলে দেন। এ সময়ই জটিলতার সৃষ্টি হয়।

দিপ্তীর মা শোভা রানী বিশ্বাস তার নাতিনকে কোলে নেয়ার সময় আপত্তি করেন। তিনি তামান্না আক্তারের স্বজনদের কাছে দেয়া ছেলে সন্তানটি তার নাতি বলে দাবি করেন।

এদিকে তামান্না আক্তারের স্বজন মো. বকুল মিয়া জানান, সিজারিয়ান অপারেশনে তামান্না আক্তারের ছেলে হয়েছে। সেবিকারা তাদের কোলে ছেলে সন্তানই তুলে দিয়েছে। দিপ্তী রানীর মা শোভা রানী বিশ্বাস কেন তার নাতিকে নিজের নাতি বলে দাবি করেছেন এটি তার বোধগম্য নয়।

এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জোর গলায় বলছেন, নবজাতক নিয়ে তাদের কোনো ধরনের ভুল হয়নি। এনিয়ে কারো বিতর্ক করাও উচিত নয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, কাছাকাছি সময়ে জন্ম নেয়া তিন শিশুকে তাদের নিজ নিজ স্বজনদের কোলেই দেয়া হয়েছে। এর পরও কোনো ধরনের শঙ্কা থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শওকত হোসেন বলেন, ‘এ নিয়ে ভুল বুঝাবুঝির কোনো ধরনের সুযোগ নেই। একটা সিজারের আধা ঘণ্টা পর আরেকটা সিজার হয়। ডাক্তারও ছিলেন আলাদা। তারপরও যদি এ নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকে তাহলে মেয়ে শিশুর ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।’