• আজ ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা

৯:৪২ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, নভেম্বর ২৯, ২০১৯ স্পট লাইট

সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত মো. সালাহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে তার প্রথম স্ত্রী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে সামসুন নাহার সুইটি নামের ওই নারী বাদী হয়ে কুমিল্লার নারী ও শিশু আদালতে মামলাটি করেন। এ সময় সুইটির সঙ্গে তার বাবা ও দুই সন্তান উপস্থিত ছিলেন।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্তের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নিশাত সালাউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় সামছুন নাহার সুইটি তার স্বামী পুলিশ ইন্সপেক্টর মো. সালাহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে তিনটি বিয়ে করা, যৌতুকের জন্য তাকে মারধর করা, ১১ লাখ টাকা যৌতুক দাবি, পরকীয়ায় আসক্তিসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনেন। তবে এ সব অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে কোন কথা বলতে রাজি হননি ইন্সপেক্টর মো.সালাহ উদ্দিন।

আদালতে করা মামলার তথ্য ও বাদী পক্ষের লোকজনের সঙ্গে কথা জানা গেছে, ২০০৬ সালের ১৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার উত্তর মাদাশা গ্রামের মো. সামশুল আলমের ছেলে মো. সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় রাজধানী ঢাকার শ্যামপুর কদমতলী থানার পূর্ব দোলাইরপাড় এলাকার মো. বজলুর রহমানের মেয়ে শামসুন নাহার সুইটির। বর্তমানে তাদের সংসারে ৯ বছর বয়সী এক ছেলে এবং ৫ বছর বয়সী এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। দুই সন্তান নিয়ে শাসছুন নাহার সুইটি বর্তমানে কুমিল্লা নগরীর পুরাতন চৌধুরি পাড়া এলাকার ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।

মামলার বাদী শামসুন নাহার সুইটি বলেন, বিয়ের সময় সালাহ উদ্দিন সিএমপিতে পিএসআই পদে কর্মরত ছিলো। সে সময় আমার বাবার কাছে থেকে বিভিন্ন সমস্যার কথা বলে সে ৫ লাখ টাকা ধার নেয়। সেই টাকা আজও পরিশোধ করেনি। এছাড়া আমার নিজের ৩০ ভরি স্বর্ণলংকারও নিয়ে গেছে সে। ২০১৪ সালে ৬ ফেব্রুয়ারি তাহমিনা আক্তার পান্না নামে বি-বাড়িয়া জেলার এক মেয়েকে আমার অজান্তে বিয়ে করে। সেখানেও একটি সন্তান রয়েছে। আদালতে আমি সেই বিয়ের নিকাহনামা দাখিল করেছি। গত ৮-৯ মাস ধরে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানা এলাকার আজমিরি খন্দকার ওরফে পপি আক্তার মেরি নামে এক মেয়ের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এখন শুনছি তাকেও নাকি বিয়ে করেছে। এভাবে একাধিক নারীর সঙ্গে তার পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে।

গত কয়েক মাস ধরে সে আমাকে মারধর করে ১১ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছে। সে বলছে ১১ লাখ টাকা দিলে দ্বিতীয় স্ত্রী পান্নাকে বিদায় করে দিবে। আর টাকা না দিলে আমাদের বাসা থেকে বের করে দিবে। সে এখন বাচ্চাদের এবং সংসারের কোন খরচও দেয় না।

শামসুন নাহার সুইটি আরো বলেন, সালাহ উদ্দিনের কারণে পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। আমি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুরোধ করবো তাকে যেন চাকরিচ্যুত করা হয়। কারণ সে নিজেইতো একজন জুলুমবাজ। সে কিভাবে মানুষের ন্যায় বিচার পেতে কাজ করে?

সুইটির বাবা মো. বজলুর রহমান বলেন, গত চার মাস থেকে সালাহ উদ্দিন আমাকে বলছে আমার মেয়েকে নিয়ে যেতে। না হয় সে আমার মেয়েকে মেরে ফেলবে। আমাদেরকেও বিভিন্ন হুমকি দিয়ে বলে তার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুটো পাওয়ারই আছে। বেশি বাড়াবাড়ি করলে আমাদের খবর আছে।

সময়ের কণ্ঠস্বর/ফয়সাল

Loading...