মধ্যরাত থেকে নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট

১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, নভেম্বর ২৯, ২০১৯ জাতীয়
nouk

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ নৌ-শ্রমিকদের গেজেট মোতাবেক বেতন প্রদান ও সদরঘাটে শ্রমিকনেতাদের উপর হামলার বিচারসহ ১১ দফা দাবিতে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারাদেশে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন নৌযান শ্রমিকরা। ফলে যাত্রী ও পণ্যবাহীসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে।

নৌযান শ্রমিকদের আটটি সংগঠনের জোট বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন এ ধর্মঘটের ডাক দেয়। এ নিয়ে গত এক বছরে তিনবার ধর্মঘটের ডাক দিল ফেডারেশন।

নেতাদের দাবি, নৌযান মালিক ও সরকার বারবার ওয়াদা ভঙ্গ করায় তারা ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এবার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করবেন না।

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফেডারেশনের পক্ষ থেকে ১১ দফা উপস্থাপন করা হলেও তাদের মূল দাবি ২০১৬ সালে প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী সর্বস্তরের শ্রমিকদের বেতন দিতে হবে।

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহ আলম ভূঁইয়া বৃহস্পতিবার বিকেলে বলেন, ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত তারা তিনবার ধর্মঘটে গেছেন। প্রতিবারই শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ধর্মঘট প্রত্যাহার করানো হয়। পরবর্তীতে মালিকরা দাবি মেনে নেন না।

শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম বলেন, আমাদের দাবি মেনে নেয়ার বিষয়ে মালিকপক্ষের আগ্রহ দেখছি না। এমন পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিয়ে নৌযান চালাতে চান না শ্রমিকরা। তাই তারা কর্মবিরতি পালনে যাচ্ছেন।

এর আগে বুধবার শ্রম মন্ত্রণালয়ে ফেডারেশনের দাবি নিয়ে বৈঠক করেছিল সরকার। সেখানে অনেক দাবি মেনে নিলেও মালিকপক্ষ উপস্থিত না থাকার অজুহাতে এ ধর্মঘটে যাচ্ছে শ্রমিক ফেডারেশন। তবে বৈঠক সফল হয়েছে জানিয়ে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেয় আরেক সংগঠন নৌযান শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ ঐক্য পরিষদ। এর একদিন পরই ধর্মঘটে যাচ্ছে শ্রমিক ফেডারেশন।

যে ১১ দফা দাবিতে ধর্মঘটে যাচ্ছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০১৬ সালের ঘোষিত গেজেট মোতাবেক কেরানি, কেবিনবয় ও ইলেকট্রিশিয়ানসহ সব নৌ-শ্রমিককে বেতন প্রদান, ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাস প্রদান ও হয়রানি বন্ধ, সব নৌ-শ্রমিককে মালিক খাদ্যভাতা প্রদান, এনডোস, ইনচার্জ, টেকনিক্যাল ভাতা পুনর্নির্ধারণ, কর্মস্থলে ও দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণকারী শ্রমিকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ।

Loading...