‘যুগ বদলায়, মুখ বদলায় না’

৩:৩৭ অপরাহ্ণ | শনিবার, নভেম্বর ৩০, ২০১৯ ঢাকা
zug

এইচ এম মেহেদী হাসানাত স্টাফ রিপোর্টার: দীর্ঘ দেড়যুগ পরে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কলাবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সম্মেলনে সাবেক সভাপতি চারু চন্দ্র গাইন ও সাধারণ সম্পাদক সুশীল কুমার বৈদ্যকে পূনরায় সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত করা হয়েছে। এ ভাবে কমিটি গঠন করলে আগামীতে নেতৃত্ব সংকট দেখা দিবে বলে তরুন নেতৃবৃন্দ মনে করছেন। তাই তারা নবীন এবং প্রবীন নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

গত শুক্রবার উপজেলার কালীগঞ্জ বাজারে কলাবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সুভাষ চন্দ্র জয়ধর সম্মেলনটির উদ্বোধন করেন।

কলাবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি চারু চন্দ্র গাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম হুমায়ুন কবির। এছাড়াও সম্মেলনে উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল কৃষ্ণ বিশ্বাস, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার, পৌর মেয়র হাজী মো: কামাল হোসেন শেখ, সাবেক পৌর মেয়র এইচ এম অহিদুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক বদরুল আলম বদর, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া দাড়িয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আয়নাল হোসেন শেখ, আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মতিয়ার রহমান হাজরা, ইউপি চেয়ারম্যান মাইকেল ওঝা বক্তব্য রাখেন।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে কলাবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক তরুন নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় দেড় যুগ আগে চারু চন্দ্র গাইনকে সভাপতি ও সুশীল চন্দ্র বৈদ্যকে সাধারণ সম্পাদক করে কলাবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়। ৭বছর আগে এখানে সম্মেলন হয়েছিল। কিন্তু সেই সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ কমিটি করতে ব্যর্থ হয়েছিল। গতকাল আবার এখানে সম্মেলন হলো। এই সম্মেলনে পূরাতন যারা ছিল তাদেরকেই রেখে দেওয়া হয়েছে। তা হলে এই সম্মেলন করে কি লাভ হলো। যদি নবীন-প্রবীনদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হতো তা হলে ভাল হতো।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বাবুল হাজরা বলেন, যদি প্রবীনদের দিয়েই কমিটি গঠন করা হয় তাহলে এক সময় এখানে নেতৃত্ব শূন্যতা দেখা দিবে। তাই যারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক আছেন তাদেরকে যোগ্যতা অনুযায়ী উপজেলা কমিটিতে স্থান দিয়ে ইউনিয়ন কমিটির পরিবর্তন আনা উচিৎ। তা না হলে নতুন নেতৃত্ব তৈরী হবে না। আমরা চাই নেতৃত্বের পরিবর্তন। নতুন নেতৃত্ব তৈরীতে এখানে একটি জটের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এখানে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, কৃষকলীগসহ সহযোগি সংগঠনগুলোর সম্মেলন হচ্ছেনা। আমি দ্রুত সময়ের মধ্যে সকল সহযোগি সংগঠনগুলোর সম্মেলনের দাবি জানাচ্ছি।

প্রবীনদের দিয়ে কমিটি গঠনের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, আমরা গত ২৯ নভেম্বর থেকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন শুরু করেছি। আগামী ৯ডিসেম্বর পর্যন্ত ১টি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নের সম্মেলন চলবে। এরপর উপজেলা সম্মেলন হবে। ইউনিয়ন সম্মেলনে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মতামতের ভিত্তিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্ধারণ করা হচ্ছে।

Loading...