রায়ে সন্তুষ্ট দিয়ার বাবা, অসন্তুষ্ট আসামিপক্ষের আইনজীবীরা!

১০:৫২ অপরাহ্ণ | রবিবার, ডিসেম্বর ১, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ
dia

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব (১৭) ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম (১৬) নিহতের ঘটনায় করা মামলায় জাবালে নূর পরিবহনের দুই চালকসহ তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (১ ডিসেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েশ এ রায় ঘোষণা করেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- দুই চালক মাসুম বিল্লাহ ও জুবায়ের সুমন এবং তাদের সহকারী কাজী আসাদ (পলাতক)।

রায় ঘোষণার পরে দিয়া খানম মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম কালু বলেন, আমিও তো ড্রাইভার। ১৭ বছর ধরে গাড়ি চালাচ্ছি। আমার দ্বারা তো কখনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। জাবালে নূরের দুই চালক মাসুম বিল্লাহ ও জুবায়ের সুমন ছিলেন অদক্ষ ড্রাইভার। তারা ড্রাইভার নামে কলঙ্ক। তাদের সাজা পাওয়া উচিত ছিল। আদালত তাদের যাবজ্জীবন দেয়ায় আমি ও আমার পরিবার অনেক খুশি।

তিনি আরও বলেন, চালকের অদক্ষতার কারণে আজ আমি সন্তানহারা। রাস্তায় রাস্তায় কান্না করে ঘুরছি। কোনো মালিক যেন কখনো অদক্ষ ড্রাইভারদের গাড়ি চালাতে না দেন। মালিকদের প্রতি আমার অনুরোধ রইলো। আজ আমি আদালতের রায়ে অনেক খুশি।

তবে এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। একই সঙ্গে তারা উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন। রায় ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বাসচালক মাসুম বিল্লাহর আইনজীবী হাসিম উদ্দিন বলেন, রায়ে আমরা অবশ্যই অসন্তুষ্ট। ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তাদের সন্তুষ্ট করতে আদালত এ রায় দিয়েছেন।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় কোনো চাক্ষুস সাক্ষী পাওয়া যায়নি। শুধু আসামিদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির প্রেক্ষিতে এ রায় দেয়া হয়েছে। রায়ের কাগজ পেলে বিষয়গুলো বুঝতে পারব। আমরা উচ্চ আদালতে যাব, আশা করছি উচ্চ আদালতে গেলে আমরা ন্যায়বিচার পাব। দুর্ঘটনাস্থলের কাছেই বাসস্ট্যান্ড থাকা সত্ত্বেও ফ্লাইওভারের গোড়ায় ছাত্ররা জোর করে বাস থামাত। সেদিনও সম্ভবত এমন কিছু ঘটেছিল, যেখানে বাসের চালক কোনোভাবেই দায়ী নয়।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আরেক বাসচালক জুবায়ের সুমনের আইনজীবী টি এম আসাদুল হক বলেন, আমরা ন্যায়বিচার পাইনি, অবশ্যই আমরা উচ্চ আদালতে যাব। সাক্ষ্যপ্রমাণে বলা হয়েছে, আমার মক্কেল জুবায়ের সুমনের গাড়িটি চলমান ছিল। পেছন থেকে অন্য একটি গাড়ি তার গাড়িটি ধাক্কা দেয়। তার গাড়ি দ্বারা কোনো হতাহতের ঘটনা হয়নি। আসামিকে যাবজ্জীবন দিতে হলে মৃত্যুর কারণ প্রমাণ করতে হয়। কিন্তু সুমনের গাড়ি দ্বারা কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটেনি।

Loading...