সংবাদ শিরোনাম
শাজাহান খানের ভাড়াটে শ্রমিকরা এবার মাঠে নামলে খবর আছে : ভিপি নুর | ঘাটাইলে সাংবাদিকের ওপর হামলা, চেয়ারম্যানকে গ্রেফতারের দাবিতে স্মারকলিপি | মির্জাপুরে কৃষি জমির মাটি ইটভাটায় নিতে নদীতে বাঁধ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ! | পেটের ব্যথা সইতে না পেরে গলায় ফাঁস দিলেন ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা | মাঝ আকাশে দুই বিমানের সংঘর্ষ, নিহত ৪ | কচুরিপানা চিবিয়ে খাচ্ছে যুবক, ভিডিও ভাইরাল | সাভারের প্রাইভেটকারে যাত্রী তুলে ছিনতাই, গ্রেপ্তার ২ | টুঙ্গিপাড়ায় অগ্নিকান্ডের পর ৬টি পরিবারের মানবেতর জীবনযাপন | ট্রেলারেই সাড়া জাগিয়েছে নিরব-প্রিয়াঙ্কার ‘হৃদয় জুড়ে’ (ভিডিও) | রাণীনগরে শিক্ষার্থীদের সামনেই শিক্ষিকাকে থাপ্পর মারলো দপ্তরী,  থানায় মামলা! |
  • আজ ৭ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ধ্বংস হতে চলেছে ৪০০ বছরের পুরনো সেতু!

৯:৪৬ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৩, ২০১৯ ইতিহাস-ঐতিহ্য
foridpur

হারুন-অর-রশীদ,ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ ইতিহাস ঐতিহ্যের সংরক্ষণ দুরে থাক আমরা যেন তাকে ধ্বংসে সুখ খুঁজে পাই। হ্যাঁ, এটি শতভাগ সত্য, যার প্রমাণ ছবির এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি। উন্নয়নের নামে আজ ধ্বংস হতে যাচ্ছে এমন একটি স্থাপনা যা শুধুমাত্র বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পদ নয় এটি বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ।

ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটাতে বরাবরই আমরা দায়িত্বহীনতা ও অসচেতনতার পরিচয় দিয়েছি ও নতুন নির্মাণ আমরা করেছি অনেক। কিন্তু পুরাতনের সঙ্গে সংযোগ রাখতে পারি নাই বরং দূরে ঠেলেছি ধ্বংস করেছি নিজের স্বার্থে লুট করেছি সামান্য ইট সুরকিও। উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীনতম ও দীর্ঘতম সড়ক- ‘উত্তরপথ’ বা ‘শের শাহ সড়ক’ অথবা ‘বাদশাহী সড়ক’ কিম্বা ‘গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড’ এর আজ বাংলাদেশের অংশে যশোহর ও ফরিদপুরের বোয়ালমারী ছাড়া কোথাও সড়কটির অস্তিত্ব নেই।

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর বাজার থেকে হাটখোলারচর হয়ে মধুমতি নদের শেখ হাসিনা সেতু পর্যন্ত সোজা যে সড়কটি দেখা যায় এটিই ঐতিহাসিক গ্রান্ড ট্রাংক রোড। আজও সড়কটির হাটখোলাচর বটতলায় মোঘল আমলে নির্মিত ঐতিহাসিক স্মৃতি স্মারক হিসেবে, কালের স্বাক্ষী হয়ে টিকে আছে- ইট-চুন-সুরকী দিয়ে নির্মিত ছবির এই সেতুটি।

কালের স্বাক্ষী সেতুটি উন্নয়নের নামে আজ ভেঙ্গে ফেলার আয়োজন চুড়ান্ত করা হয়েছে। বাইপাস সড়ক তৈরি শেষ, হয়তো দুই- একদিনের মধ্যে শুরু হবে ভাঙ্গা! চারশত বছরের ঐতিহাসিক স্থাপনাটি হয়তো এ সপ্তাহ মধ্যেই মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। ধ্বংস করা যতটা সহজ কিন্তু শত চেষ্টা করেও কি নির্মাণ করা যাবে শুধুমাত্র ইটের সাথে ইটের চাপ সৃষ্টি করে অর্ধচন্দ্রাকৃতির এমন একটি সেতু? যার কোথাও লোহা বা কাঠের বর্গা ব্যবহার করা হয়নি, অথচ চারশত বছর নান্দনিক শৈলীর উপর সগর্বে এখনও টিকে আছে।

ঐতিহাসিক স্মরকবহনকরা নৃতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের ধারক সেতুটি রক্ষা করেই নির্মাণ করা সম্ভব নতুন সেতু। যাতে মানুষের মনে এই জনপদের দীর্ঘ ঐতিহ্যময় ইতিহাসের স্মৃতি উদ্রেক করিতে পারে। নতুন প্রজন্ম স্বচক্ষে পাঠ নিতে পারে ইতিহাসের। দর্শনীয় স্থানের তালিকায়ও অনায়াসে স্থান করে নিতে পারে নান্দনিক এই সেতুটি। সরকারের নিকট জোর দাবি সড়কটি রক্ষা করতে না পারার গ্লানির সাথে যেন যুক্ত না হয় আর একটি গ্লানি। সেতুটি রক্ষার জোর দাবি জানিয়েছে সুধী সমাজ ও সচেতন মহল।

Loading...