জেলজীবন বদলে দিয়েছে সেই ঐশীর জীবন

১০:১৭ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৩, ২০১৯ ঢাকা
oishi

রাজু আহমেদ,ষ্টাফ রিপোর্টার: জেলজীবন বদলে দিয়েছে মাদকের ভয়াল নেশায় আচ্ছন্ন হয়ে নিজ হাতে নিজের বাবা-মা, পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও স্বপ্না রহমানকে হত্যা করে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কন্যা সেই ঐশীকে। পুরোপুরিভাবে নেশা কেটেছে তার।

২০১৫ সালে বাবা-মাকে হত্যার দায়ে মামলা হয়েছিলো তার বিরুদ্ধে। সেই মামলার রায়ে ফাঁসির আদেশ হলেও ২০১৭ সালে আপিল বিভাগ ঐশীর ফাঁসির দণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন দেয়। মামলার রায়ের পর থেকেই কাশিমপুরের মহিলা কারাগারে রয়েছে ঐশী। কয়েদি ওয়ার্ডে অধিকাংশ সময় অনুশোচনায় কাটলেও পাশাপাশি নিয়মিত ঘুম আর গল্পগুজব করেও বাকী সময় কাটছে তার।

কাশিমপুর মহিলা কারাগারের তথ্যানুযায়ী, ‘ঐশী এখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। তার নেশা কেটে গেছে শতভাগ। জেলে অন্য সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গে স্বাভাবিক নিয়মেি তার জীবন কাটছে। ’এদিকে কারাগারে থাকা ঐশীকে দেখতে যান কেবল তার চাচা। এ ছাড়া নিকট কিংবা দূরবর্তী স্বজন-পরিজনদের আর কেউ তার খোঁজ নেয় না। এক চাচা প্রতি মাসে নিয়ম করে কাশিমপুর মহিলা কারাগারে যান। তার জন্য জামা-কাপড়, খাবার ও পিসির (প্রিজনারস ক্যান্টিন) জন্য টাকা দিয়ে যান। দীর্ঘদিন চাচাকে না দেখলে অস্থির হয়ে পড়ে ঐশী। জেল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন চাচাকে আসতে বলার জন্য।

একসময় ঢাকার নামকরা একটি ইংলিশ মিডিয়ামের ছাত্রীজীবনে নিয়মিত ডিজে পার্টিসহ ইয়াবা-গাঁজার মতো নেশায় আসক্তি হয়ে উঠেছিল তার নিত্যসঙ্গী। ক্রমাগত মাত্রাধিক নেশা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন করে তুলেছিল। নেশার ঘোরে নিজের মা-বাবাকে খুন করার পরদিন নিজ থেকে পুলিশে ধরা দেয় ঐশী।

Loading...