সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ২৭শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সিরাজদিখানে আলু চাষে কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা

১১:২৭ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০১৯ ঢাকা, দেশের খবর

মোঃ রুবেল ইসলাম তাহমিদ, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি- আলু বাঙ্গালির হাতের নাগালে এক অন্যতম সবজির মধ্যে প্রধান, যা সব রকম তরকারীতে প্রযোজ্য। বাংলাদেশের বৃহত্তম আলু উৎপাদনকারী অঞ্চল ‘বিক্রমপুর’ মুন্সীগঞ্জের লৌহজং ও সিরাজদিখানে গোটা জনপদ এখন কর্মযোগ্যে ব্যস্ত।

দুই উপজেলার ২৪ টি ইউনিয়নের চতুরদিকে তাকালেই এখন দেখা মিলবে শেষ মুহুর্তে আলুর আবাদ, কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন এ কাজে। বাড়িতে নারীরাও বীজ আলু কাটার কাজে ব্যস্ত।

গতবারের তুলনায় এ বছর আলুর ভালো ফলন ও আলু চাষে লাভবান হওয়ায় উপজেলার কৃষকরা এবার বেশ উদ্দীপনা ও উৎসাহ নিয়ে আলু চাষ করছেন। কৃষকরা রোপন করা তাদের সখের আলু ৩ মাস পর অর্থাৎ আলু উত্তোলন শুরু হবে আগামী মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে। কারণ আলু রোপনের পর তা পরিপূর্ণ হয়ে উঠতে সময় লাগে তিন মাস।

এ মৌসুমে আলু আবাদে উপজেলার কৃষকদের কাজে সহায়তা করেন বাড়ির নারীরাও। তাদের মধ্যে কেউ বীজ আলু কেটে দিচ্ছেন। আলু কাটার পর শ্রমিকরা তা জমিতে নিয়ে রোপণ করছেন।

বর্তমানে বাজারে আলুর চড়া দাম। বীজ আলু কাটার পর অবশিষ্ট কাটা আলু ব্যবসায়ীরা বাড়িতে গিয়ে ৯-১০ টাকা কেজি দরে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। আলুর দাম বেশি হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, আলু রোপণের আদর্শ সময় নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ২৫ দিন পর্যন্ত। গত বছর দুই উপজেলায় আলু চাষ হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার ৪ শত ৫০ হেক্টর জমিতে। এবছর ১৯ হাজার ১শত হেক্টর জমিতে আলুচাষ হতে পারে। গত বছরের তুলনায় সবমিলিয়ে ১শত পঞ্চাশ হেক্টর জমি আলু চাষ কম হবে।

উপজেলার কেরাইন ইউনিয়নের কৃষক মো. রহমান বলেন, আমি ৭ কানি জমি আলু চাষ করছি। গত ৩ বছর ধরে আলুর দাম কম থাকায় আমার প্রায় ৪ লাখ টাকার মত লোকশান হয়েছে। এখন আলুর চাষাবাদেও উপর ভয় হয়। কি চাষ করবো তা নিয়ে চিন্তা করে পাই না।

সিরাজদিখান উপজেলার কৃষি কর্মকতা সুবোধ চন্দ্র রায় বলেন, বাংলাদেশে এখন আলুর চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেশি রয়েছে। এখন আমরা কৃষকদেরকে আলুর পাশাপাশি অন্যান্য ফসল ও সবজি আবাদ করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। এখানে একটি সবজির কোল্ড স্টোরেজ থাকলে সবজি আবাদে কৃষকরা আরো উৎসাহিত হতো।

Loading...