সংবাদ শিরোনাম
তারেক এতো দূর্নীতি, অন্যায় ও মানুষ খুন করেছে তার সাহস নাই বাংলাদেশে আসার: কৃষিমন্ত্রী | ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ: ডিএনএ পরীক্ষায়ও মিলেছে মজনুর সম্পৃক্ততা | কুকরি মুকরিতে পর্যটকদের বাড়তি আনন্দ দিতে যোগ হয়েছে রংবেরঙের নৌকা | ভারতের পাটনায় বোরকা পরে কলেজে আসলে জরিমানা | লক্ষ্মীপুর ৫ম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে ৭০বছরের বৃদ্ধ গ্রেফতার | সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে জাবি ছাত্রের অনশন | সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যে ঢাবি শিক্ষার্থীর অবস্থান | ‘সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে বিএসএফ দুঃসাহস দেখাতে পারছে’ | শাহজাদপুরে ইয়াবা বিক্রেতা ও গরুচোরসহ ৭জন আটক | ইশতেহার অনুষ্ঠানে ফখরুল-তাবিথকে আমন্ত্রণ করলেন আতিকুল |
  • আজ ১৩ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রুম্পার কবরের সামনে বসে কাঁদছেন পুলিশ কর্মকর্তা বাবা!

১২:২০ অপরাহ্ণ | শনিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০১৯ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- রাজধানী ঢাকার স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির নিহত শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের সদর উপজেলার বিজয়নগরে চলছে শোকের মাতম।

একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে বাবা-মা দু’জনই এখন শোকে বিহ্বল। বাবা রুকন উদ্দিন নিজেকে সামলে নিতে পারছেন না কোনো ভাবেই। বার বার ছুটে যাচ্ছেন মেয়ের কবরের পাশে। সেখানে বসে অঝোরে কাঁদছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

আর মেয়ের শোকে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন মা নাহিদা আক্তার পারুল। স্বজনরা তাকে সান্ত্বনা দিয়েও কান্না থামাতে পারছেন না। দুদিন ধরে কিছুই খাননি। শারীরিকভাবে অসুস্থও হয়ে পড়েন।

তিনি বারবার চিৎকার করে বলেন, জরুরি কাজের কথা বলে গেলো, ফিরলো লাশ হয়ে। আমার মেয়েকে কতো কষ্ট দিয়ে ওরা মেরেছে। মরার সময় মেয়েটা কতবার জানি, মা-মা বলে চিৎকার করেছে।

তিনি আরও বলেন, ইউনিভার্সটিতে ছাত্রছাত্রীদের শিফট আলাদা হওয়ায় দুদিন ধরে মেয়ের মনও খারাপ ছিল। তার সঙ্গে কারো বিরোধ ছিল কি, না তা বলতে পারছি না।

নাহিদা আক্তার পারুল বলেন, বুধবার সকালে ডিম ভাজি করে নিজ হাতে খাইয়ে দিয়েছি। এটাই যে শেষ খাওয়া কে জানতো? সন্ধ্যায় তার চাচাতো ভাই শুভর নিকট ব্যাগ-মোবাইল দিয়ে চলে যায়। বাসার দ্বিতীয় তলাও রুম্পা উঠেনি। এমন কী জরুরি কাজ ছিল? যার জন্য এতো দ্রুত ছুটে যায়। দিন-রাত অপেক্ষায় ছিলাম- এইতো মেয়ে ফিরবে-ফিরে আসবে। এলো লাশ হয়ে; আমার মেয়েকে কেন মেরে ফেললো, আমি বিচার চাই, বিচার চাই।

এদিকে রুম্পার মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা। রুম্পার হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। তারা বলছেন, অপরাধীদের দ্রুত সনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

গতকাল শুক্রবার বিকালে বিজয়নগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় রুম্পার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। মেয়ের কবরের সামনেই বসে অঝোরে কাঁদছেন পুলিশ কর্মকর্তা বাবা মো. রুককুন উদ্দিন। স্বজনরা তাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, যার যায় সেই বুঝে। আমি মেয়ে হারাইনি, আমি আমার সর্বস্ব হারিয়েছি। কত কষ্ট করে মেয়েকে লালন-পালন করে বড় করেছি। সামনে কত সুন্দর ভবিষ্যৎ পড়েছিল তার। অথচ তার আগেই মেয়েকে পৃথিবী থেকে চলে যেতে হলো।

রুম্পার ফুফু চামেলী খাতুন জানান, কারো সঙ্গে সম্পর্ক ছিল কিনা, জানি না। এভাবে একটা মেয়েকে মেরে ফেলবে? আমরা হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।

রুম্পার বাবা মো. রুককুন উদ্দিন হবিগঞ্জ জেলার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক হিসাবে কর্মরত। মা নাহিদা আক্তার পারুল গৃহিণী। এক ভাই ও এক বোনের রুম্পা সবার বড়।

উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে রাজধানীর ইনার সার্কুলার রোড থেকে রুম্পার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার ভোর ৫টায় রুম্পার লাশ গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের চরনিলক্ষীয়া ইউনিয়নের বিজয়নগরে নিয়ে আসা হয়। সেখানে বেলা ১০টায় জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাদী রুবিলা খাতুনের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

Loading...