• আজ ৯ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ফেসবুকে দুই কলেজছাত্রীর ‘অনৈতিক’ ফাঁদ, নোয়াখালীতে গ্রেফতার ৩

১১:১৬ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ডিসেম্বর ৮, ২০১৯ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

সময়ের কণ্ঠস্বর, নোয়াখালী- অনলাইনে নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ২ কলেজ ছাত্রীর যৌনতার ফাঁদে পড়ে নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলার অনেক মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী সর্বস্বান্ত হয়েছে।

এমন একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে নোয়াখালী জেলা সিআইডি পুলিশ ২ কলেজ ছাত্রীসহ তাদের সহযোগী বিকাশ এজেন্টের এক দোকানদারকে প্রথমে আটক করে।

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কুয়েত প্রবাসী সাইফুল ইসলামের অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা সিআইডি পুলিশ কার্যালয়ে অভিযুক্ত ২ কলেজ ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের পর অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়।

সিআইডি জানায়, আটকদের জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এছাড়া তাদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে বিপুল অর্থ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। পরে অভিযোগকারীর মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে, বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খাঁনপুর গ্রামের জিল্লুর রহমান’র মেয়ে মারজাহান আক্তার (১৯), সেনবাগ উপজেলার কেশার পাড় ইউনিয়নের লেদুয়া গ্রামের গোলাম মাওলার মেয়ে শাহজাদী মজুমদার (২০), নোয়াখালী পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের জয়কৃঞ্চপুর গ্রামের হোসেন আহমদ’র ছেলে বিকাশ এজেন্ট দোকানদার মোশারফ হোসেন মনু।

অভিযোগকারী ওই কুয়েত প্রবাসী জানান, তাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রূপের জালে ফেলে কয়েক দফায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন এই দুই ছাত্রী। একইভাবে আরও দুই প্রবাসী যুবকের কাছ থেকে তারা কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তাদের ফাঁদে পড়ে অনেকে সর্বস্বান্ত হয়েছেন।

নোয়াখালী সিআইডির উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম বলেন, কুয়েত প্রবাসী এক যুবকের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই দুই কলেজছাত্রী ও তাদের সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। পরে প্রতারণা মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নোয়াখালীতে একাধিক নারী চক্র ফেসবুক, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জারে ইউরোপ প্রবাসীর মেয়ে সেজে প্রবাসী যুবকদের বিয়ে করে ইউরোপে নেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। এছাড়া বন্ধুত্ব করে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে সেসবের ভিডিও-ছবির মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে এসব চক্রের বিরুদ্ধে।

এসআই শাহ আলম বলেন, এসব চক্রের সদস্যরা মানবিক সহায়তার আবেদন, অসুস্থ রোগীর বানোয়াট ছবি দেখিয়ে সাহায্যের নামে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এজন্য তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকগুলো আইডি ব্যবহার করে। টাকা হাতিয়ে নেয়ার পর আইডিগুলো বন্ধ করে দেয়।

Loading...