‘স্যরি কেন বলবো? মরে তো যাননি, ভেতরে ডিআইজি স্যার বিরক্ত হচ্ছেন’

১:৩৪ অপরাহ্ণ | রবিবার, ডিসেম্বর ৮, ২০১৯ ঢাকা, দেশের খবর

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- পেশাগত দায়িত্ব পালনে রাজধানীর শ্যামলী থেকে মোটরসাইকেল যোগে নিউমার্কেট যাচ্ছিলেন শাহরিয়ার হাসান নামে এক সংবাদ কর্মী। পথে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার ব্যবহৃত পাজেরো জিপ তার মোটরসাইকেলের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে শাহরিয়ার পড়ে গিয়ে আহত হন।

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) ধানমন্ডি-২৭ মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরে অভিযোগ করেছেন বলে জানান ভুক্তভোগী সাংবাদিক শাহারিয়ার হাসান। তিনি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বার্তা-২৪ এর অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদক।

ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিক শাহরিয়ার বলেন, আমি বাইক চালিয়ে ধানমণ্ডি থেকে অফিসে যাচ্ছিলাম। এসময় একটা পাজেরো গাড়ি (ঢাকা মেট্রো ঘ-১৩ ২৮০৪) আমাকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে বাইক নিয়ে আমি বাসের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে রাস্তায় পড়ে যাই। পরে উঠে দাঁড়াতেই দেখি গাড়িটা দ্রুত গতিতে চলে যাচ্ছে। বাইক স্টার্ট দিয়ে দ্রুত পাজেরো গাড়িটির গতিরোধ করি, গাড়ির সামনে দাঁড়াই’।

এ সময় গাড়ি থেকে বের হয়ে চালক (পুলিশের ইউনিফর্ম পরিহিত) বলেন- ‘রাস্তা ছেড়ে সরে যান।’ পরে পুলিশের পোশাক পরা আরেকজন গাড়ি থেকে নেমে বলেন কী হয়েছে? আমি বলি গাড়ির ভেতরে কে আছে তাকে নামতে বলুন। এমন ভাবে গাড়ি চালাচ্ছেন আমি তো এখনি মরে যেতাম। সরিটাও তো বলতে পারতেন।

চালক জবাবে বলেন, ‘সরি কি বলব। মরে তো যাননি। ভেতরে ডিআইজি স্যার বিরক্ত হচ্ছেন, রাস্তা ছাড়েন- এই বলে চালক আমার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।

শাহরিয়ার আরও বলেন, ‘ঘটনার বেশ কিছু সময় পর গাড়ি থেকে পুলিশ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অফিসার বেরিয়ে আমার বাইকের ছবি তুলেন।’ ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘রাস্তা ছাড়েন ভাই, ডিআইজি স্যার বসে আছেন।’

এসময় গাড়িটির চালক উল্টো বলেন, ‘ক্ষতিপূরণ দেন। না হয় ট্র্যাফিক ডাকি।’ উত্তরে আমি বলি- ‘ডিআইজি তো কি হয়েছে। গাড়ি চাপা দিয়ে মেরে ফেলবেন একটা সরি পর্যন্ত বলবেন না। নামতে বলেন, তার মুখটা দেখি।’

একপর্যায়ে চালক আবার বলেন, ‘স্যার বিরক্ত হচ্ছে ভাই, রাস্তা ছাড়েন।’ পরে পায়ের ব্যথা অনুভব করায় তাদের গাড়িটি ছেড়ে দেই বলে জানান শাহরিয়ার।

এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) মীর সোহেল বলেছেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক। গাড়ির নম্বর পেয়েছি। ওই গাড়িতে কে ছিল বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

Loading...