সংবাদ শিরোনাম
করোনায় মৃতের সংখ্যা ৯৫ হাজার ছাড়াল, আক্রান্ত ১৬ লাখ | যুক্তরাজ্যে পিপিই’র জন্য সতর্ক করে বাংলাদেশি ডাক্তার নিজেই মারা গেলেন | করোনার মধ্যেও বায়ুদূষণে শীর্ষে ঢাকা | সীমান্তে দেড় শতাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় | বরিস জনসনের অবস্থার উন্নতি, আইসিইউ থেকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর | সিঙ্গাপুরে নতুন করে আরো ১১৯ জন বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত | টাঙ্গাইলের সেই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইজিপিকে নোটিশ | দরিদ্রদের থেকে কেড়ে নেয়া সেই ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার, আটক দুই | ধর্ষণের শিকার রক্তাক্ত শিশুকে নিয়ে থানায় মায়ের আহাজারি | কোন জেলায় কতজন করোনা রোগী শনাক্ত |
  • আজ ২৭শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

৩৬ ঘন্টা সম্মুখ যুদ্ধের পর এই দিনে পাক হানাদার মুক্ত হয়েছিল মাদারীপুর

১১:২৯ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯ ঢাকা, দেশের খবর, ফিচার

মেহেদী হাসান সোহাগ, স্টাফ রিপোর্টার- ১০ ডিসেম্বর মাদারীপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে সদর উপজেলার সমাদ্দার ব্রিজের কাছে একটানা ৩৬ ঘন্টা সম্মুখ যুদ্ধে পরাজিত হয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করলে মাদারীপুর পাক হানাদার মুক্ত হয়।

এ সংবাদ মুক্তিকামী মানুষের কাছে পৌছালে বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের মত জয়বাংলা শ্লোগান দিয়ে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসে আনন্দ উল্লাস করে। যুদ্ধে শহীদ হন মাদারীপুরের সর্ব কনিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা সরোয়ার হোসেন বাচ্চু।

জানা গেছে, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে জেলার সবক‘টি থানা মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে চলে আসে। এ কারণেই পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা মাদারীপুর শহরের এ.আর হাওলাদার জুট মিলের অভ্যন্তরে ও নাজিমউদ্দিন কলেজে অবস্থান নেয়। মুক্তিযোদ্ধারা চারদিক থেকে তাদের ঘিরে রাখে। ৮ ডিসেম্বর দুপুরে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক আবদুল মতিনের ড্রাইভার আলাউদ্দিন কলাগাছিয়া মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে সংবাদ পৌঁছে দেয় যে, ৯ ডিসেম্বর ভোর রাতে পাকি বাহিনী মাদারীপুর থেকে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে পালিয়ে যাবে।

এ সংবাদ পেয়ে বিভিন্ন অঞ্চলের ৩ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা বর্তমান সদর উপজেলার ঘটকচর থেকে সমাদ্দার ব্রিজের পশ্চিম পাড় পর্যন্ত মহাসড়কের দু‘পাশে প্রায় ৪.কিমি ব্যাপী অবস্থান নেয়। ৯ ডিসেম্বর ভোর ৫ টায় হানাদার বাহিনী গোলবারুদ, অস্ত্র ও কনভয়সহ তাদের বাঙালি দোসর রাজাকার, আলবদর, আলসামস ও মুজাহিদ বাহিনী নিয়ে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে ঘটকচর ব্রিজ পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমন শুরু করে। মুক্তিযোদ্ধাদের তাড়া খেয়ে হানাদার বাহিনী দ্রুত গাড়ি চালাতে থাকে। অবস্থা বেগতিক দেখে তারা একটি কনভয় থেকে নেমে কভার ফায়ার করতে করতে আরো দ্রুত সকল গাড়ি নিয়ে এগুতে থাকে। এ সময় হানাদার বাহিনীর ফেলে যাওয়া কনভয় থেকে মুক্তিযোদ্ধারা বিপুল পরিমান অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করে নেয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের গুলি বর্ষণে ভীত হয়ে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করে হানাদার ও তাদের দোসরদের একটি অংশ সমাদ্দার ব্রিজের দুইপাশে পূর্বে তৈরি করা বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়ে পাল্টা গুলি ছুড়তে থাকে। অপর অংশ সমাদ্দার ব্রিজ পাড় হয়ে রাজৈর থানার টেকেরহাটের দিকে পালিয়ে যায়।

এদিকে সমাদ্দার ব্রিজে ৯ ডিসেম্বর সারা দিন সারা রাত এবং ১০ ডিসেম্বর সারা দিন সম্মুখ যুদ্ধ চলে মুক্তিযোদ্ধা ও হানাদার বাহিনীর মধ্যে। তুমুল যুদ্ধের এক পর্যায়ে হানাদার বাহিনীর গোলা-বারুদ স্তিমিত হয়ে আসলে ১০ ডিসেম্বর বিকেলে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে হ্যান্ডমাইকযোগে পাক বাহিনীকে আত্মসর্পনের আহবান জানানো হয়। এতে সাড়া দিয়ে হানাদার বাহিনী রাইফেলের মাথায় সাদা কাপড় উড়িয়ে বাঙ্কার থেকে বেরিয়ে এসে সন্ধ্যার আগেই হানাদার বাহিনীর মেজর আবদুল হামিদ খটক ও ক্যাপ্টেন সাঈদ, ৩৭ পাকিসেনা, ১৪ জন মুজাহিদ নিয়ে মোট ৫৩ জন মুক্তিযোদ্ধা খলিল বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পাকি বাহিনীর আত্মসমর্পনের মধ্যদিয়ে মাদারীপুর শত্রুমুক্ত হয়। এ সংবাদ মাদারীপুরে পৌঁছালে হাজার হাজার মুক্তিকামী মানুষ বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের মত জয়বাংলা শ্লোগান দিয়ে রাস্তায় নেমে আনন্দ উল্লাসে ফেটে পড়ে। এই যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিল খলিল বাহিনী। যুদ্ধে শহীদ হন মাদারীপুরের সর্ব কনিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা সরোয়ার হোসেন বাচ্চু। এ যুদ্ধে ২০ হানাদার সেনা নিহত হয়।

প্রতি বছর মাদারীপুর দিবস যথাযথভাবে উদযাপনের জন্য ব্যাপক কর্মসুচি গ্রহণ করা হয়। এবারও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা কর্মসুচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধে তৎকালীন খলিল বাহিনীর প্রধান, বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান খান বলেন, এক সাগর রক্ত আর লক্ষাধিক মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হলেও দেশের মাটিতে এখনও এদেশীয় দোসররা ঘুড়ে বেড়াচ্ছে। তাই বিজয়ের এ মাসেই যুদ্ধপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকরের দাবি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের। মাদারীপুর মুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে মাদারীপুর জেলা প্রশাসন নান কর্মসুচী গ্রহন করেছে।

Loading...