ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! পা হারানোর পর এবার হাত ভাঙল সেই পারভেজের

১১:০৭ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- প্রায় আড়াই বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার বাস থেকে একাই ৪০ জনকে উদ্ধার করেছিলেন হাইওয়ে পুলিশের কনস্টেবল পারভেজ মিয়া। বীরত্বের সে গল্প ছড়িয়ে পড়েছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। পেয়েছিলেন পুলিশের সর্বোচ্চ সম্মাননা বিপিএম পদক। সেই পারভেজই গত ২৭ মে পিকআপ ভ্যানের চাপায় ডান পা হারান। সেই ক্ষত শুকিয়ে না উঠতেই ৯ ডিসেম্বর রাতে বাথরুমে পরে গিয়ে ডান হাত ভেঙে ফেলেন।

বুধবার সকালে পারভেজ মিয়া তার ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে হাত ভাঙার খবরটি জানান। তিনি লিখেছেন, ‘৯/১২/২০২০ রাতে টয়লেট থেকে পরে গিয়ে ডান হাত ভেঙে গেল। ভাঙা জীবন আর কত কাল। আল্লাহ আর কত দিন পরীক্ষা নিবা, রহম করো আল্লাহ।’

৭ জুলাই ২০১৭। সকাল থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। দুপুরের দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করছিলেন পারভেজ। খবর আসে গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক থেকে একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডোবায় পড়েছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যান তিনি। আবর্জনায় ভর্তি ডোবা। বৃষ্টির পানি জমে আরও বেশি দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। আশপাশে মানুষের ভিড়। কিন্তু কেউই উদ্ধার কাজে নামছেন না। অন্যদিকে, বাসের ভেতরে আটকা পড়া মানুষের তখন বাঁচার আকুতি।

‘আমি তখন একাই ডোবায় নামি। একটি ইট দিয়ে বাসের জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে যাই। প্রথম উদ্ধার করি তিন মাসের এক শিশুকে। এরপর একাই ২৬ জনকে বাইরে নিয়ে আসি। ততক্ষণে অন্যরাও এগিয়ে এসেছে। সবার চেষ্টায় নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যায় ৪০টি প্রাণ।’ —বলছিলেন পারভেজ।

ভাগ্যের কী পরিহাস। যে মানুষটার অছিলায় ৪০ জনের জীবন বাঁচল, সে মানুষটাই পঙ্গু হয়ে গেল। ওই ঘটনার সময় কে ভেবেছিল তার ভাগ্যে এমন পরিণতি লেখা ছিল।’

২০১৯ সালের (২৭ মে) ডিউটিতে থাকাকালীন অবস্থায় মুন্সিগঞ্জের জামালদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পিকআপ ভ্যানের চাপায় থেঁতলে যায় পারভেজের ডান পা। জীবন বাঁচাতে অস্ত্রোপচার করে পারভেজের পা কেটে ফেলেন চিকিৎসক।

পারভেজ বলছিলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। আমার পঙ্গুত্ব পরিবারের জন্য অন্ধকার ডেকে এনেছে। পরিবারে আমিই একটু পড়াশোনা করেছিলাম। আল্লাহর রহমতে পুলিশে চাকরি পাই। ১২-১৪ হাজার টাকা বেতন। এরপরও সবাই আমার ওপর নির্ভরশীল। জানি না এখন কীভাবে পুরো পরিবারের ভার বহন করব।’

Loading...