ড্রিমলাইনার আনতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন ৪৫ জন!

১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- ড্রিমলাইনার ‘সোনার তরী’ আনতে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে যাচ্ছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ৪৫ সদস্য। এই তালিকায় আছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পিএস, পিআরও, বিমানের পিআরও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিমানের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রয়োজন না থাকলেও বেশকিছু সদস্য সিয়াটলে যাওয়ার দলে যুক্ত হয়েছেন। এটি বিমানের খরচের তালিকাই শুধু দীর্ঘ করবে।

তিনি বলেন, এতবড় একটি বহরের সদস্যরা ৭-৮ দিন সিয়াটলের পাঁচতারকা মানের হোটেল থাকবেন। সেখানে বোয়িংয়ের কারখানা পরিদর্শন ছাড়াও সফরকারী সদস্যরা ঘোরাফেরা করবেন। বিষয়টি নিয়ে অনেকেই রসিকতা করছেন যে তারা পিকনিককে যাচ্ছেন।

একটি উড়োজাহাজ আনতে বিমানের বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে সিয়াটলে ৪৫ জন কর্মকর্তা যাওয়ার বিষয়টিকে বড় ধরনের ব্যয় বলে আখ্যায়িত করেছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বিমান চালিয়ে আনবেন পাইলট। তাদের সহযোগিতা করবেন ক্রুরা। এখানে বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব, সহকারী একান্ত সচিব, তথ্য কর্মকর্তার নাম যুক্তরাষ্ট্রগামীর তালিকায় কেন? অবশ্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী এবং সচিব মো. মুহিবুল হক এই সফরে নেই।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন বিভাগের প্রধান শরিফুল হাসান এ প্রসঙ্গে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বোয়িং থেকে কেনা ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ‘সোনার তরী’ আনতে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ৪৫ জনের বিশাল এক বহর। আমার শুধু জানতে ইচ্ছা করছে, বিমানটা কী দুজন পাইলট আকাশে উড়িয়ে আনবেন নাকি ৪৫ জন মিলে ঠেলে। রাষ্ট্রীয় টাকায় ৪৫ জনের এমন পিকনিকের মানে কী চক্ষু লজ্জা বলেও কী কিছু থাকতে নেই।’

এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক পরিচালনা পর্ষদ সদস্য কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, বহর দেখে মনে হচ্ছে, এটি আনন্দ ভ্রমণ। সিয়াটলে কোনো কাজ নেই এমন কর্মকর্তাদের পাঠানো কোনোভাবেই ঠিক না।

এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক এয়ার মার্শাল ইনামুল বারী বলেন, ‘উড়োজাহাজ আনতে যাওয়া অন্যান্য সময়ের বহরগুলো পর্যালোচনা করে এবারের বহর সাজানো হয়েছে।’ বহরে অপ্রয়োজনীয় কর্মকর্তাদের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রসঙ্গত, সেপ্টেম্বর মাসের ১৭ তারিখ চতুর্থ ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৮ ‘রাজহংস’ উদ্বোধনের পর থেকে আলোচনায় আসে-বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে আরও দুটি বোয়িং যুক্ত হচ্ছে। এদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই দুটি বোয়িং কেনার আগ্রহ দেখান। পরে জানা যায়, আরও বড় আকৃতির বোয়িংয়ের ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার কিনতে যাচ্ছে বিমান। এরপর মাসখানেক ধরে বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে বিমান দর-কষাকষি করে।

জানা গেছে, বিজয়ের মাসেই দুটি ড্রিমলাইনারের উড়োজাহাজ বিমানবহরে যুক্ত হবে। একটি যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল থেকে বাংলাদেশের পথে রওনা দেবে ১৯ ডিসেম্বর। দ্বিতীয়টি সেখান থেকে উড়বে ২১ ডিসেম্বর।

বিমানবহরে বর্তমানে উড়োজাহাজ রয়েছে ১৬টি। নতুন দুটি ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজ নিয়ে বিমানের উড়োজাহাজ হবে ১৮টি। এগুলোর মধ্যে নিজস্ব উড়োজাহাজের সংখ্যা ১০। বাকি ৬টি লিজে আনা। নিজস্ব ১০টি উড়োজাহাজের সবই বোয়িং কোম্পানি থেকে কেনা। এর মধ্যে ৪টি ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৮, চারটি ৭৭৭-৩০০ ইআর ও দুটি ৭৩৭-৮০০।

Skip to toolbar