‘আব্বু-আম্মু ক্ষমা করে দিও, কবরেও আমার জায়গা হবে না’

১:০২ অপরাহ্ণ | বুধবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯ খুলনা, দেশের খবর

সময়ের কণ্ঠস্বর, কুষ্টিয়া- এইচ.এস.সি নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে চিরকুট লিখে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার দোয়ারকাদাস আগরওয়াল মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। নিহত ওই শিক্ষার্থীর নাম নূপুর খাতুন (১৯)।

মঙ্গলবার দুপুরে কলেজ অধ্যক্ষের কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। তবে বিষপানের আগে বাড়িতে একটি চিরকুট লিখে যায় নূপুর। চিরকুটটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত নূপুর হরিণারায়রপুর এলাকার বাবুল আহমেদের মেয়ে।

দোয়ারকাদাস আগরওয়াল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান বলেন, কয়েক দিন আগে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বাছাইয়ের চূড়ান্ত পরীক্ষার রেজাল্ট দেয়া হয়। ওই পরীক্ষায় নুপুর চারটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়। সে কলেজেও অনিয়মিত ছিলো বলে জানান অধ্যক্ষ।

জানা যায়, গতকাল নুপুরের মা তাকে সঙ্গে নিয়ে দুপুরে কলেজে আসে। এ সময় তার শিক্ষকরা জানান, চারটি বিষয়ে নূপুর ফেল করেছে। এরপর তার মা তাকে বকা দেয়। সে সময় নুপুর কোন কথাবার্তা বলছিলো না, চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলো। কিছুক্ষণ পরে হঠাৎ সে মেঝেতে পড়ে যায়, তার কাছে থাকা একটি কাঁচের বোতল ছিটকে পড়ে। ওই বোতলে বিষাক্ত কিছু ছিলো বলে ধারনা করা হচ্ছে। কলেজের শিক্ষকরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। চিকিৎসক বিষপানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে শিক্ষকদের দাবি কলেজে আসার আগেই নূপুর বিষপান করে।

নূপুরের মা লাভলী খাতুন বলেন, বাড়ি থেকে স্বাভাবিকভাবে আমার মেয়ে কলেজে যায়। কলেজে যাওয়ার পর সে আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছিল না। কথা বলতে বলতেই মাটিতে পড়ে যায়। কলেজে যাওয়ার আগেই বিষপান করে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে নূপুরের উদ্ধারকৃত চিরকুটে লিখে যান, ‘আব্বু-আম্মু আমায় ক্ষমা করে দিও। আমি কখনও চাই না আমার জন্য তোমরা কষ্ট পাও। আমি ভালোভাবে পড়াশোনা করতে চেয়েছিলাম, অনেক স্বপ্ন ছিল আমার। আমি জানি আমাকে নিয়েও অনেক স্বপ্ন ছিল তোমাদের। আমি যে তোমাদের একমাত্র মেয়ে। আমি পৃথিবী থেকে চলে গেলাম। আমায় ক্ষমা করো। আর আমার জন্য একটুও কষ্ট পাবে না। আমি চাই আমার মরাটা (লাশ) যেন স্বাভাবিকভাবে মাটি দেয়া হয়।

আত্মহত্যা করলে পুলিশ আসে, তারা যা সব করে (ময়নাতদন্ত) আমার যেন না করা হয়। এভাবে মরে গেলে তো কোথায় যেন পাঠায় লাশ কাটার জন্য। ওটাতে আমার খুব ভয় লাগে। আমাকে স্বাভাবিকভাবেই মাটি দিও। পুলিশরা যেন অন্য সবার মতো আমার লাশকে কষ্ট না দেয়, আমায় যেন স্পর্শ না করে। আমায় ভালোভাবে মাটি দিও। ও আম্মু আমার যে মরে যাওয়ার পর অনেক ভয় লাগবে, আমাকে তো কবরে জায়গা দেবে না, আমার যে খুব কষ্ট হবে। ক্ষমা করে দিও। কলেজের স্যাররা চাইলে হয়তো আমার ভবিষ্যৎ নষ্ট হতো না।’

নূপুরের বাবা বাবুল আহমেদ জানান, মেয়েটা আমার অভিমানী। নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার কারণেই হয়তো অভিমানে বিষপান করেছে।

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার এসআই আরিফ বলেন, মৃত্যুর আগে নূপুর একটি পত্র লিখে যায়। কারও কোনো অভিযোগ ছিল না। জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়া পরিবারের সম্মতিতে মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

Loading...