সংবাদ শিরোনাম
এবার মিয়ানমারসহ ৭ দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা | রংপুরে শিশু ধর্ষণের চেষ্টা মামলায় গ্রেফতার হয়নি অভিযুক্ত সম্রাট | গণতন্ত্রের সূচকে ৮ ধাপ অগ্রগতি বাংলাদেশের | সমুদ্রের নিচেই সংরক্ষণ হচ্ছে টাইটানিক | লক্ষ্মীপুরে পিক-আপের চাপায় স্কুল ছাত্র নিহত   | ভাষা সৈনিক মুহম্মদ আবু সিদ্দীককে কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন | সবাই তাকিয়ে, নির্বাচনে বিচ্যুতি হলে কাউকে ছাড়বো না: সিইসি | সুনামগঞ্জ কালেক্টরেটের কর্মচারীদের ৩য় দিনের মত কর্মবিরতি পালন | শাহজাদপুরে মাদক ব্যবসায়ী কর্তৃক সাংবাদিক লাঞ্ছিত, প্রাণনাশের হুমকি, থানায় অভিযোগ | শিবির সন্দেহে ঢাবিতে ৪ শিক্ষার্থী‌কে রাতভর ছাত্রলীগের নির্যাতন |
  • আজ ৯ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

‘এই ধরণের বিচার বাংলাদেশে চলতে পারে না, দরকার হলে বাড়ি ফিরে যাব’

৬:১৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯ জাতীয়

রবিউল ইসলাম, সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- এক বিচারপতির ছেলেকে সরাসরি হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবে গেজেট প্রকাশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট শুনতে তৃতীয়বারের মতো হাইকোর্ট অপারগতা প্রকাশ করায় বিস্মিত হয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আলোচিত আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

তিনি বলেছেন, এই ধরণের বিচার বাংলাদেশে চলতে পারে না। শেষ বিন্দু পর্যন্ত এই রিট নিয়ে লড়ব, দরকার হলে প্র্যাকটিস বাদ দিয়ে বাড়ি ফিরে যাব। তারপরও এটা দেখে যেতে চাই।

বুধবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এর আগে সকালে বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট শুনতে তৃতীয়বারের মতো এ অপরাগতা প্রকাশ করেন। আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক ও ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

পরে ‘বিষণ্ণ মন নিয়ে’ নিজের ভেরিফাইট ফেসবুক পেজে লাইভে এসে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, একজন বিচারপতির ছেলে এমসিকিউ পরীক্ষায় দুইবার ফেল করার পরও বার কাউন্সিল দ্বারা তাকে সরাসরি হাইকোর্টের মেম্বার ঘোষণা করা হয়েছে। এই মামলা নিয়ে আমরা প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছি। আমার মতো একজন ভদ্রলোক বাদি হওয়ার পরও শুধুমাত্র অভিযোগে একজন বিচারপতির ছেলের নাম থাকার কারণে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে এ পর্যন্ত ছয়জন বিচারপতি বিব্রতবোধ করেছেন। বলেছেন তারা এটা শুনতে পারবেন না।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, আগে বিচার তো শুনবেন! পরে বিচার যদি না করেন নাই, আমাদের বিদায় করে দেন, রিজেক্ট করে দেন। কিন্তু একজন বিচারপতির ছেলের নাম থাকার কারণে অভিযোগ শুনতেই পারবেন না, এর চেয়ে দুঃখ আমি মনে করি বাংলাদেশের বিচার বিভাগের জন্য আর কিছু হতে পারে না।

একজন বিচারপতির ছেলে হওয়ার কারণে এই ধরণের সুবিধা পাইতে পারেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে মনে হচ্ছে যে, বঙ্গবন্ধু যদি বেঁচে থাকতেন তাহলে সরাসরি তার বাসায় গিয়ে বিচার দিতাম, নিশ্চয়ই এই বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু চাননি। এখন আমরা বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধান বিচারপতির কাছে যাব। তাদের কাছে এই বিচার দিতে চাই।

সম্প্রতি বিচারপতিদের অভিসংশনের ক্ষমতা সংসদের হাতে না নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়ে ভুল করেছিলেন বলে জানালেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, কয়দিন আগে যখন বিচারপতিদের অভিসংশনের জন্য সংসদের বিল পাশ করা হয়েছিল যে সংসদের এই ক্ষমতা থাকবে, যেসব বিচারপতিরা এই যে অভিসংশনের মুখোমুখী হবেন।

“তখন আমি বিচারপতিদের পক্ষে ছিলাম। বলেছিলাম সংসদ না বরং আইন বিভাগের কাছেই দায়িত্ব থাকা উচিৎ, সুপ্রিম কোর্টের কাছেই ক্ষমতা থাকা উচিৎ। কিন্তু আজকে যে পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি এখন মনে হচ্ছে যে, আইন বিভাগের কাছে না বরং সারা বিশ্বে মতো সংসদের কাছেই এই ক্ষমতা থাকা উচিৎ। কারণ অনেক বিচারপতিরা আজকে প্রমাণ করেছেন যে তাদের নিজেদের ছেলে-মেয়েদের বিচার করতে সক্ষমতা রাখেন না। এর চেয়ে লজ্জা আর কিছু হতে পারে না।”

ব্যারিস্টার সুমন আরও বলেন, এত লজ্জা নিয়ে আজকে আমার মনে হচ্ছে যে, এই কোর্টে প্যাকটিস করে দুই চার টাকা ইনকাম করে পেট চালানোর চেয়ে নিজের অঞ্চলে গিয়ে গরুর রাখাল হওয়া অনেক ভালো। কারণ শুধু খাবাবের অভাবে মানুষ মরে না, যখন মন মরে যায় তখন মানুষ এমনিতেই মরে যায়।

এই রকম বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু কোনদিন চাননি মন্তব্য করে সুমন বলেন, ন্যায় বিচারের কথা বলেন আর যাই বলেন, যদি বিচারটা শোনার মতো যোগ্যতাই আমাদেরকে না দেন তাহলে এই বাংলাদেশকে কবে বানাবেন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ?

ফেসবুক লাইভে এই আইনজীবী বলেন, আমরা যদি স্বার্থের কারণে এই বিচার চেয়ে না থাকি তাহলে আমাদের জয় একদিন হবেই হবে। কারণ মানুষের মনের মাঝে জায়গা এইভাবে নেওয়া যায় না।

বিচারপতির ছেলের বিরুদ্ধে ‘শেষ দরজা’ পর্যন্ত লড়তে চান জানিয়ে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, এত তারাতারি ছাড়ব না। শেষ দরজা পর্যন্ত দেখতে চাই, নইলে আমাদের মহান রাব্বুল আলামিন তো আছেন তার কাছে হইলেও আমরা বিচার দেব।

সম্প্রতি ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহানের আপত্তিকর ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার মামলায় ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ মামলারও বাদি ছিলেন ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন।

এ বিষয়টি টেনে আজ সুপ্রিমকোর্টের এই আইনজীবী বলেন, একটা ভিডিও করার কারণে ওসি মোয়াজ্জেমকে যখন সাজা দেওয়া হয় তখন সবাই হাত তালি দেন। আর একজন বিচারপতির ছেলের বিরুদ্ধে যখন অভিযোগ উঠে তখন শুনতেই চান না এটা কোন ধরণের বিচার?

“আমি মনে করি তার বিচার যদি না শুনেন তাহলে ওসি মোয়াজ্জেমকে আট বছরের সাজা দেই আমরা কি কারণে? বিচারপতির ছেলে বলে ছেড়ে দিবেন আর ওসি মোয়াজ্জেম বলে তাকে আটক রাখবেন, এই ধরণের বিচার বাংলাদেশে চলতে পারে না।”

Loading...