সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ২৪শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ভারত সফরে গেলেন না পররাষ্ট্রমন্ত্রী

৬:৫৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯ আন্তর্জাতিক

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও বিজয় দিবসের আগে ‘ব্যস্ত সময়সূচি’ থাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের নির্ধারিত নয়াদিল্লি সফর বাতিল করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘হ্যাঁ, দেশে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেই তিনি (মোমেন) যাচ্ছেন না।’

তিনি জানান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম শাহরিয়ার আলম শুক্রবার মাদ্রিদের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক বর্তমানে দ্য হেগে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

ড. মোমেন আগামী জানুয়ারিতে ভারত সফরে যেতে পারেন বলে অন্য এক কর্মকর্তা ইউএনবিকে জানিয়েছেন।

তবে ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি দাবি করেছে, ভারতের নাগরিক সংশোধনী বিল (সিএবি) পাস হওয়ার পর দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সৃষ্ট সহিংসতার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন ভারত সফর বাতিল করেছেন। তবে তারা জানিয়েছে, ঠিক কী কারণে তিনি এ সফর বাতিল করেছেন, বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তা জানানো হয়নি।

গত রোববার ভারতের লোকসভায় বহুল বিতর্কিত নাগরিক সংশোধনী বিল পাস হয়। এ বিলকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে ‘মুসলিমবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার বিলটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘ভারত ঐতিহাসিকভাবে একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। সেখান থেকে পদস্খলন হলে ভারতের যে ঐতিহাসিক অবস্থান, তা দুর্বল হয়ে যাবে।’

এদিকে নাগরিকত্ব বিলকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের একাধিক রাজ্য। বিলের প্রতিবাদে ত্রিপুরা, আসাম, মণিপুর, অরুণাচলের মানুষ বিক্ষোভে নেমেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে একাধিক জায়গায় সেনা নজরদারি জোরদার করা হয়। আসামের রাজধানী গুয়াহাটিতে জারি করা হয় কারফিউ।

সেই সঙ্গে ১০ জেলায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের পূর্ব নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করে দিয়েছে। বিপর্যস্ত সড়ক ও রেল পরিষেবা। অবরোধের জেরে অন্তত ১০টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।

বিক্ষোভ থামাতে আশ্বাস দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও টুইটারে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। এরপরেও বিক্ষোভ থামানো গেল না আসামে। বরং কারফিউ ভেঙে গুয়াহাটির রাস্তায় নেমে এসেছে সাধারণ মানুষ।

Skip to toolbar