বাউফলে আধাপাকা ধানে লেদা পোকার আক্রমন

৭:৩৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯ বরিশাল
Bowfal

কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার আধাপাকা আমন ধানে লেদা পোকার আক্রমন দেখা দিয়েছে। ঘুর্নিঝড় বুলবুলের পড় প্রান্তিক কৃষকেদের ধানে এ ধরনের পোকার আক্রমনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তাই কোন কোন কৃষক ধান আধা পাকা অবস্থায় কেটে ফেলছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ৩৬হাজার হেক্টর জমিতে আমান ধান চাষ হয়েছে। যার মধ্যে ২০ হাজার হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) ও ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে দেশি জাতের আমন ধান।

সরজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের আমন ক্ষেতে লেদা পোকার আক্রমন। কৃষকরা চেষ্টা করছেন পোকার আক্রমন থেকে রক্ষা পেতে। কিন্তু কোন প্রকান ঔষধ ব্যবহারে কোন সুফল না হওয়ায় আধা পাকা ধান কেটে ঘরে তুলছেন।

ধানদী গ্রামের কৃষাণী পারুল বুলবুলের ঝড়ো বাতাসে ক্ষয়-ক্ষতির পরে এবার আধা-পাকা ধানে শীষকাটা লেদা পোকার আক্রমনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তিনি আধা কানি (স্থানীয় মাপ) জমিতে ধান চাষ করেছেন। তার দাবী এ জমিতে যদি লেদা পোকার আক্রমন না হতো তাহলে এ জমি থেকেই ৮০ মন ধান পাওয়া যেত। অথচ এখন পোকার আক্রমনের আরনে ২০মন ধান পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ।

পাশের ক্ষেতে ধান কাটছিলেন সুলতানাবাদ গ্রামের মোসলেম দেওয়ান, হারুন বিশ্বাস, ইদ্রিস বিশ্বাস ও সেরাজ মাতবর। ক্ষেতের ধান কাটার উপযুক্ত সময় আরো অন্তত পনের দিন সামনে থাকলেও লেদা পোকার আক্রমন থেকে সামান্য রেহাই পেতে আগেভাগে আধা-পাকা ধান কেটে ঘরে তুলছেন।

কেবল ধানদী-সুলতানাবাদ গ্রামের কৃষক-কৃষাণীরাই নয়, তাঁতেরকাঠি, কেশবপুর, ভরিপাশা, নওমালা, শৌলা, বীরপাশা, কনকদিয়া, দাশপাড়াসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ও বিচ্ছিন্ন চন্দদ্বীপের কৃষক-কৃষাণীদের সঙ্গে কথা বলেও জানা গেছে শীষকাটা লেদা পোকার আক্রমনে আশানুরুপ ফলন পেতে হতাশার কথা।

সুলতানাবাদ গ্রামের মোসলেম দেওয়ান জানান, ‘বাজারের ওষুধেও কোন কাজ করে নাই। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে এবার বৃষ্টিপাতের কারণে সঠিক সময়ে শুকাতে পারেনি ধান ক্ষেত। স্যাতস্যাতে ভাব এখনও ক্ষেতে। দিনের বেলায় লেদা পোকা ধানের গোছার গোড়ায় লুকিয়ে থাকে আর রাতে শীষ কাটে। পোকারা ধান খায় না। তবে শীষ ও শীষের কানা কেটে ধান ঝড়িয়ে সর্বনাশ করছে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্লাবন্ট ফাইটোলোজির এসোসিয়েট প্রফেসর ড. শাহ মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আবহায়ার বিরুপ প্রভাবে অসময়ে বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টিপাত, রোদ, তাপমাত্রা, শীত, গাছের শক্তিমত্তা এসব কারণে পোকার আক্রমন হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং কৃষি অধিদপ্তরের বেশি বেশি কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পোকা দমনে কৃষক-কৃষাণীর সচেতনতা সৃষ্টি খুবই জরুরী হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পোকাটির নাম স্থানীয় ভাষায় লেদা পোকা বলা হয়। যে সব জমিতে পানি আছে সে সব জমিতে এ পোকার আক্রমন হয়নি। কৃষি অফিসের লোকজন লিফলেট বিতরণসহ মাঠে কৃষকদের সচেতন করে নিয়মিত প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। পোকার আক্রমনে ১% থেকে ২% ক্ষতি হতে পারে। বুলবুলের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এ উপজেলা থেকে এবার ১ হাজার ৪০ টাকা মন হিসেবে (২৬ টাকা কেজি) ২৫৬৪ মেট্টিকটন ধান কেনার সিদ্ধান্তের নিয়েছে সরকার। এতে ক্ষতিগ্রস্থ্য কৃষকরা কিছুটা হলেও উপকৃত হবেন।

Loading...