সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১৬ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

হাফিজের অত্যাচারে অতিষ্ঠ রসুলপুরবাসী প্রতিবাদ করলেই হামলা

৭:১৮ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯ ঢাকা
Tangail

খাদেমুল ইসলাম মামুন, ঘাটাইল প্রতিনিধিঃ   ঘাটাইল উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের প্রভাবশালী হাফিজ উদ্দিনের পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জবরদখলসহ নানা অসামাজিক কর্মের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, হাফিজ উদ্দিনের অত্যাচারে ঘাটাইল উপজেলার রসুলপুর, ঢলুয়াপাড়া, গর্জনাপাড়া ,মধুপুর উপজেলার দক্ষিণ শালিকা গ্রামের লোকজন অতিষ্ট। হাফিজ উদ্দিনরা সাত ভাই তাদের পরিবারের সদস্য  সংখ্যা বেশী তাই অত্যাচারিত লোকজন তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পায়। তারা সব ভাইয়েরা মিলে দশ বছর পূর্বে ৫০ শতাংশ জমি ওয়াকফ করে দিয়ে পাশের শালিকা গ্রামে বাজার স্থাপন করেন। আবার কৌশলে ওয়াকফকৃত জমি তাদের দখলে রেখে বাজারের জমি চড়াদামে বিক্রি করেছেন।

অভিযোগ আছে হাফিজের পরিবারের চাঁদাবাজি কারনে শালিকা বাজার থেকে অনেকে ব্যবসা বন্ধকরে চলে গেছেন। বাজারের ছোটখাট চুরি সংঘটিত হওয়ার ব্যাপারেও পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ হাফিজের পরিবারের উপর। এলাকার লোকজন বর্তমানে এই পরিবারটিকে হাফিজ বাহিনীর বলে থাকে। গত ২৫ নভেম্বর সকালে শালিকা বাজারের পাশে ‘গৃহবধু রাইচ এন্ড মশলা মিল’এর মালিক মো.সিরাজুল ইসলাম কফিল (৩৬)এর নিকট হাফিজের লোকজন চাঁদা দাবী করে। চাঁদা না দেয়ায় ঐ দিন বিকাল চার ঘটিকার দিকে,লিটন এর নেতৃত্বে মাজেদুল(৩০) ছোহরাব (৩৪),শরাপত (৪৫) কফিলকে মারপিট করে আহত করে দোকান লুট করে নিয়ে যায়।

আহত কফিলকে প্রথমে ঘাটাইল উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন অবস্থার অবনতি দেখে পরবর্তীতে কর্তব্যরত চিকিৎসক টাঙ্গাইল সেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ বিষয়ে ঘাটাইল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন হামলার শিকার কফিলের বড় ভাই মো.শহিদুল ইসলাম। ঘটনাটি ঘাটাইল থানার এস আই মো.জহির ঘটনার তদন্ত করছেন। এ বছরই আয়নাল হকের আলভি ইলেকট্রিক ও হার্ডওয়ার্ডের দোকানে চুরি হলে চোর ধরা পড়লেও হাফিজ বাহিনীর পৃষ্টপোষকতার কারণে এর কোন বিচার হয়নি। এ ঘটনায় আয়নাল হক প্রতিবাদ করলে গত ৯/২/২০১৯খ্রি.তারিখ আয়নালের দোকানে হামলা চালিয়ে মারধর করে দোকান লুট করে। এ বিষয়ে মধুপুর থানায় আয়নাল বাদী হয়ে হাফিজ বাহিনীর বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের করেছেন। আদালতে মামলাটির চার্জসিট প্রদান করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। এছাড়াও আব্দুল মালেক নামে এক কাপড় ব্যবসায়ীর দোকানে পরপর দুইবার চুরি হয়।

মহিষমারা ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. মুছা মিয়া বলেন হাফিজের পরিবার এমন কোন অপর্কম নাই যা করতে পারে না,গত ৫/৪/২০১৪ সালে আমার কাছে চাঁদা দাবী করে চাদা দিতে অস্বীকার করায় একটি ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার ১২৫ সিসি মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দেয় এবং মারপিট করে। এ বিষয়েও হাফিজ বাহীনির বিরুদ্ধে মধুপুর থানায় মুছামিয়ার স্ত্রী একটি মামলা দায়ের করেন।

গত ২৮/১১/২০১৬খ্রি,শালিকা গ্রামের আ.গফুর(৬০) এর বাড়িতে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ভাংচুর ও লুটাটের কারণে মধুপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন আ.গফুর।মামলা নং জিআর ২২৮(২)১৬। এখানেই শেষ নয়, হাফিজ বাহিনীর প্রধান হাফিজের ছোট বোন ভাইদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সহোদর ভাইয়ের বিরুদ্ধে মারপিট ও হয়রানির অভিযোগ এনে ঘাটাইল থানায় এজাহার দায়ের করেছিল।

জাফর আলী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মো.জাফর আলী বলেন, সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করাই তাদেও কাজ । এ ছাড়াও তাদের রয়েছে সুনির্দিষ্ঠ মাদক বিক্রি ও সেবন গ্রুপ।এ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য মাজেদুল, লিটন, সোলায়মান, জুলো চোরা, মুনসুর, রমজান, শামীম, আনজু মিয়া, আজিজুল। বিভিন্ন কৌশলে চলে এদের মাদক ব্যবসা। বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন,এক পানের দাম ১০০টাকা। ওদের নির্দিষ্ট গ্রাহকরাই শুধু ওই পান কিনে নেন।

চলতি বছরে একাধিক বার পুলিশের নিকট ধরা পড়লেও নানা কৌশলে ছাড়া পেয়ে ফিরে আসে পুরনো ব্যবসায়। মাদক ব্যবসা চালাতে গিয়ে লিটন চোরাই পথে ভারত যাওয়ার সময় ধরাপড়ে দুই বছর জেল খেটে এসেছে। স্কুল পড়–য়া ছেলেদের বিপথগামী করতে হাফিজ তার নিজের ছেলে ও ভাতিজাদের দ্বারা একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে মাদক ব্যবসা করে যাচ্ছে দীর্ঘ দিন যাবৎ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, হাফিজ বাহিনির সাথে ক্ষমতাসীন দলের বর্ণ চোরা নেতাদের দৌরাত্ব এতো বেড়েছে যে,বাজারে এক নর সুন্দরের দোকান ঘর যেন জলসা ঘর, যেখানে মদ নারী সবই মিলে। প্রকাশ্যে বসছে চোলাই মদের আড্ডা। হাফিজের প্রতিবেশি আব্দুল মজিদ (৫৫) বলেন ,এদের কথা বলে লাভ নাই, আজ থেকে ৫ বছর আগে আমার ছেলে এ বাজারে মিল করেছিল। ওদের চাঁদা না দেয়ায় মিথ্যা ঘটনায় ফাসিয়ে ২২হাজার টাকা জরিমানা নিয়েছে হাফিজ। শালিকা বাজারের ঔষধ ব্যবসায়ী ডা: বারেক সরকার বলেন,সত্যিই পরিবারটি অনেক দোষে দোষী এদের অপরাধের শেষ নেই।

ঢলুয়া গ্রামের হোমিও চিকিৎসক আ.মালেক বলেন, ওদের ঘটনা বলে শেষ দেয়া যাবে না।

Loading...