‘বঙ্গবন্ধুর ছবি রাখার জন্য অনেক মাইর খাইছি’- জুলহাস

১২:৩১ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯ ফিচার
jul

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ প্রথম দেখায় মনে হতে পারে তিনি হয়তো কোন প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পর্যায়ের কোন কর্মকর্তা। আসলে তিনি সরকারী বা বেসরকারী কোন প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী নন। তিনি একজন ঝালমুড়ি বিক্রেতা! তার নাম জুলহাস হাওলাদার।

জুলহাসের বাবা ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা। বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারের সমস্ত দায়িত্ব পড়ে তার ওপর। মা আর ভাই-বোনদের নিয়ে কতদিন আর কতরাত অনাহারে, অর্ধাহারে কেটেছে জুলহাসদের জীবন। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অসুস্থ প্রতিবন্ধী শিশু ছেলেকে সুস্থ করার সংগ্রাম। রাজধানীর শাহবাগ মোড়ের পাশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়েরর গেটের বাইরে ফুটপাথে ঝালমুড়ি বিক্রি করেন তিনি।

কয়েক বছর আগে জুলহাসের বাবা মারা গেছেন। বাবার মুক্তিযোদ্ধা সনদের একটি কপি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি লেমিনেটিং করে ফুটপাথে তার ভাসমান দোকানের সামনে লাগিয়ে রেখেছেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও বাবার আদেশ মানতে তিনি সব সময় বঙ্গবন্ধুর ছবি সঙ্গে রাখেন।

জুলহাস জানান, তার বাবা মারা যাওয়ার আগে তাকে বলেছিলেন, যার জন্য এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। তাকে কোনদিনও ভুলে যেও না। তাই সেই থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি সঙ্গে রাখেন। এই ছবিটা দোকানে রাখার জন্য মার খেতে হয়েছে। ছবি ঝুলিয়ে রেখেছেন কেন? সে জন্য কয়েকটা ছেলে তাকে মেরেছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাসে বা ফুটপাথ দিয়ে যাওয়ার সময় মানুষ যখন আমার দিকে তাকিয়ে থাকেন, তখন আমার খুব ভাললাগে। ঝালমুড়ি বিক্রির সময় আত্মীয়-স্বজন বা এলাকার মানুষের সঙ্গে দেখা হলে লজ্জা লাগে। লজ্জা লাগলে ভাবি চুরি করে তো খাচ্ছি না। রোজগার করে খাচ্ছি। সরকারকে ভ্যাট দিচ্ছি।

মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী হিসেবে নিয়মিত ভাতা পান জুলহাসের মা। পেয়েছেন জমিও। তাই নিজের জন্য আর কিছু চাওয়ার নাই তার। জুলহাসের একটাই চাওয়া- ছেলের চিকিৎসা। টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে পারছেন না তিনি। সুস্থ করে ছেলেকে বাঁচিয়ে রাখাই তার একমাত্র প্রার্থনা।

Loading...