৪৮ বছর পেরিয়ে গেলেও জাকলী আজও খুঁজে পায়নি তার বাবা-মাকে!

৭:৩০ অপরাহ্ণ | শনিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯ দেশের খবর, রংপুর

আব্দুল করিম সরকার পীরগঞ্জ (রংপুর) থেকে: রংপুরের পীরগঞ্জে মেহেরন নেছা জাকলী (৫৫) আজও তার বাবা মাকে খুঁজে পায়নি। প্রিয়জন হারা জাকলী বয়সের ভারে ৪৮ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া বাবা-মাকে খুঁজে পাননি তিনি।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কুচবিহারের দিনহাটা স্মরনার্থী ক্যাম্পে হারিয়ে যায় জাকলী। তৎকালীন সময়ে হারিয়ে যাওয়া ৭ বছরের শিশু জাকলীকে নিয়ে আসে পীরগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম সংগঠক সাবেক সাংসদ প্রয়াত এ্যাড: গাজী রহমান। তার বাসায় স্থান জোটে কাজে ঝি হিসেবে। সেখানে বড় হয়ে উঠে জাকলী। প্রকৃতি নিয়মে বেড়ে উঠা জাকলী এক সময় যৌবনে পা দেয়।

গাজী রহমান গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর উপজেলার ঘেগার বাজার এলাকার দুলা মিয়া নামের এক যুবকের সাথে বিয়ে দেন। সেখানে ৬ পুত্র কন্যা সন্তান জন্ম দেন জাকলী। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে জাকলীর স্বামী এক সময় অকাল মৃত্যুর পর বাস্তুভিটা টুকু দখল করে নেয় তার স্বামীর ছোট ভাই ফুল মিয়া। সন্তানদের নিয়ে হতাশা ও ভরাক্রান্ত মন নিয়ে ফিরে আসেন পূর্বের ঠিকানায়।

এদিকে গাজী রহমানের বাড়ীর ভিটের এক পার্শ্বে ছোট একটি ঘর তুলে সন্তানদের নিয়ে বসবাস শুরু করেন। কয়েক বছর পূর্বে গাজী রহমান মৃত্যু বরণ করেন। এর পরে শেষ আশ্রয় টুকু ভেঙ্গে নিয়ে যেতে হয় রংপুর-ঢাকা মহা সড়কের পার্শ্বে ইক্ষু ক্রয় কেন্দ্রের পরিত্যক্ত ভবনের একটি কক্ষে বসবাস করে আসলে পরবর্তীতে আবারও গাজী রহমানের বারান্দায় রাত্রি যাপন করেন জাকলী। বর্তমান সেখান থেকেই শেষ বয়সে এসে ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

সরেজমিন গিয়ে জাকলীর সাথে কথা হলে শিশু কালের কোন কথা স্মরণ নেই তার। শুধু এটুকু বলতে পারে তার বাবার নাম মলং হাজি, ভাইয়ের নাম তমিজ মেকার, মায়ের নাম নছিমন, ভারতের কোচবিহার দিনহাটা এলাকায় থানার পাশে তাদের বাড়ি ছিলো।

৫৫ বছরের এই জীবনে জাকলী অনেক চড়াই-উৎরাই দুঃখ বেদনা নিয়ে বেঁচে আছেন। তিনি আরো জানান, যখন তাদের কথা মনে হয়, তখন হাউ-মাউ করে কেঁদে উঠি।

স্বাধীনতা যুদ্ধের ৪৮ বছরে তার ভাগ্যে একটা সনদ পর্যন্ত জোটেনি। শেষ বয়সে এসে তার নামে বিধবা বা বয়স্ক ভাতার কার্ড আজও পর্যন্ত তিনি পাননি। সমাজের দানশীল, সুধী মহল ও উর্ধতন কর্তৃপক্ষ অসহায় জাকলীর সহযোগিতায় এগিয়ে আসবেন এমনটাই প্রত্যাশা তার।

Loading...