সংবাদ শিরোনাম
যে কারণে পাকিস্তানি সমর্থকদের ‘জানোয়ার’ বলেছিলেন গিবস | পাকিস্তান সফরে টাইগারদের শুভকামনা জানালেন সাকিব | ‘সুবিচার নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগ সরকার বদ্ধপরিকর’- প্রধানমন্ত্রী | সিরিয়ায় রাশিয়ার বিমান হামলায় নিহত ৪০ | নিশ্চয়ই অপরাধে জড়িত ছিলেন বলেই গ্রেফতার, শরিয়ত বয়াতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী | ‘প্রয়োজনে ভোট পিছিয়ে ব্যালটে ভোট নিন’- মির্জা ফখরুল | ভারতে চার দলের সিরিজে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের মেয়েরা | ‘ঢাকার দুই সিটিতে ১৮টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ’- ইসি সচিব | ইচ্ছানুযায়ী বাবার কবরের পাশে শায়িত হলেন এমপি ইসমাত আরা | ‘শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী থেকে সরানোর ষড়যন্ত্র চলছে’- কাদের |
  • আজ ৯ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ছাত্রত্ব বাতিল হচ্ছে অধ্যক্ষকে পুকুরে ফেলা ৪ ছাত্রলীগ নেতার

৮:৩৯ অপরাহ্ণ | শনিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ
rajs

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষকে পুকুরের পানিতে ফেলে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় চার শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল হচ্ছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করাসহ ১৬ ছাত্রের বিরুদ্ধেই নেওয়া হচ্ছে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।

এর মধ্যে চার শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কার, পাঁচ শিক্ষার্থীর মূল সনদপত্র আগামী তিন বছর আটকে রাখা এবং সাত শিক্ষার্থীকে টিসি (ট্রান্সফার সার্টিফিকেট) দিয়ে অন্য ইনস্টিটিউটে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

অপরাধী চিহ্নিত হওয়া এ সকল ছাত্রের সবাই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। এরই মধ্যে এসব সিদ্ধান্ত কার্যকরের জন্য কারিগরি শিক্ষাবোর্ড ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাজশাহী পলিটেকনিকে রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছে ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ।

ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ করা শিক্ষার্থীরা হলেন- অধ্যক্ষকে পুকুরে ফেলে দেওয়ার মূল হোতা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ২০১৫-১৬ সেশনের কম্পিউটার বিভাগের ৮ম পর্বের শিক্ষার্থী কামাল হোসেন ওরফে সৌরভ, একই সেশনের ইলেকট্রো মেডিক্যাল বিভাগের ৭ম পর্বের শিক্ষার্থী রায়হানুল ইসলাম, ২০১৭-২০১৮ সেশনের ইলেকট্রনিক্স বিভাগের ৫ম পর্বের ছাত্র মুরাদ হোসেন ও ২০১৮-২০১৯ সেশনের মেকানিক্যাল বিভাগের ৩য় পর্বের শিক্ষার্থী সাজিব হোসেন।

এ ঘটনায় সরাসরি জড়িতের প্রমাণ মেলায় প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা পাঁচ শিক্ষার্থীর মূল সনদসহ অন্য কাগজপত্র আগামী তিন বছরের জন্য স্থগিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। এরা হলেন- ইনস্টিটিউটের ২০১৫-২০১৬ সেশনের ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের ছাত্র কৌশিক জামান ওরফে বনি, ইলেকট্রো-মেডিক্যাল বিভাগের সালমান রহমান ওরফে টনি, পাওয়ার বিভাগের সাব্বির অহম্মেদ, মেকাট্রনিক্স বিভাগের হাসিবুল হাসান ও কম্পিউটার বিভাগের মারুফ হোসেন।

এছাড়া তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনার সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার দায়ে সাত শিক্ষার্থীকে বদলির সুপারিশ করা হয়েছে। এরা হলেন- ২০১৫-২০১৬ সেশনের পাওয়ার বিভাগের ৬ষ্ঠ পর্বের (অকৃতকার্য) নাঈম ইসলাম, ২০১৬-২০১৭ সেশনের ইলেক্ট্রনিক্স বিভাগের ৭ম পর্বের প্লাবন কুমার কুন্ডু, মেকাট্রনিক্স ৭ম পর্বের মেহেদী মাহমুদ, মেকানিক্যাল বিভাগের ৭ম পর্বের মেহেদি হাসান, ২০১৭-১৮ সেশনের ইলেকট্রনিক্স বিভাগের ৫ম পর্বের ওমর আজিজ, ২০১৮-২০১৯ সেশনের ৩য় পর্বের কম্পিউটার বিভাগের মাহবুবুর রহমান ও পাওয়ার ৩য় পর্বের মাসুদ রানা মীম।

এর আগে মিডটার্মে ফেল এবং ক্লাসে অনুপস্থিত থাকা দুই শিক্ষার্থীকে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ দিতে অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিনের ওপর চাপ দেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে গত ২ নভেম্বর কার্যালয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়।

এরই জের ধরে ওই দিন দুপুরে অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করার পর টেনে-হিঁচড়ে ক্যাম্পাসের ভেতরের পুকুরের পানিতে ফেলে দেয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে মামলা করেন অধ্যক্ষ। এতে সাতজনের নাম উল্লেখসহ ৫৭ জনকে আসামি করা হয়। এ ঘটনায় সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়।

Loading...