• আজ ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

থেমে নেই পাচারকারীরা, নয়া কৌশলে সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে মাদকদ্রব্য!

১২:০০ অপরাহ্ণ | রবিবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো মাদক পাচার প্রতিরোধে নানামুখী পদক্ষেপ নিলেও পাচারকারীরা থেমে নেই। তারা নানা কৌশলে মাদক পাচার ও বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে অভিনব কৌশলে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে দেশের ভেতর ঢুকছে মাদকদ্রব্য। পুলিশ-বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে নিত্যনতুন কৌশল আবিষ্কার করছেন মাদক চোরাচালানকারীরা।

প্রতিবেশী ভারত থেকে আসা গরুর পেটের সাথে বেঁধে আনা হচ্ছে গাঁজা। এমনকি, কনডমের মাধ্যমে মানুষের মুখ বা পায়ূপথ দিয়ে পেটে ঢুকিয়ে ইয়াবা আসছে দেশে। এক প্রতিবেদনে এমনই জানিয়েছে বার্তা সংস্থা ইউএনবি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্যান্য সীমান্তবর্তী জেলার মতো কুমিল্লার সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মাদকের চালান ঢুকছে দেশের ভেতর। এর প্রভাবে কুমিল্লার প্রতিবেশী জেলাগুলোতে মাদকাসক্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

প্রতিনিয়ত অভিনব সব কৌশলে কুমিল্লার সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদকের চোরাচালান অব্যাহত রাখছে চোরাচালানকারীরা। তাদের সাথে যেন কুলিয়ে উঠছে না বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ ও র‌্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থা।

জানা গেছে, ভারত থেকে রাতে আসা গরুর পেটের সাথে বেঁধে দেশের ভেতর ঢুকছে গাঁজা। এ পদ্ধতিকে চোরাচালানিরা নাম দিয়েছে ‘ক্যাটল ক্যারিং’। এছাড়াও বড় পেঁয়াজের ভেতরের অংশ ফেলে দিয়ে তার ভেতর ঢুকিয়ে আনা হচ্ছে ইয়াবা ট্যাবলেট। অভিনব পন্থায় আখ কেটে তার ভেতরে করেও পাচার হচ্ছে এই সর্বনাশা মাদক। এমনকি কনডমে পুরে ইয়াবা ট্যাবলেট বাহকদের মুখ বা পায়ূপথ দিয়ে পেটে ঢুকিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে।

কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের মৌসুমি ফল যেমন তরমুজ, কাঁঠাল, লাউ, কুমড়ার ভেতরে করে আনা হচ্ছে ফেনসিডিল-ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য। ছোট-বড় নানা যানবাহনেও নানা কৌশলে এ মাদক পাচার অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত অতিক্রম করে যা পরবর্তীতে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে।

সীমান্তবর্তী এলাকার বিভিন্ন সূত্রের দাবি, পাচার হয়ে আসা এসব মাদকের চালানের খুবই সামান্য ধরতে পারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র‌্যাব, পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ধরা পড়ে অল্প টাকায় ভাড়া খাটা মাদক বহনকারীরা। এতে ধরা-ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায় মূলহোতারা।

কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে- হেরোইন, গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা, বিয়ার, বিভিন্ন ধরনের মদ, রিকোডেক্স সিরাপ, সেনেগ্রাসহ নানা প্রকার মাদক ও যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট এবং বিভিন্ন ধরনের নেশা জাতীয় ইনজেকশান।

এ বিষয়ে কুমিল্লার মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মাঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘কিছুদিন আগেও ইয়াবা ট্যাবলেট মিয়ানমার থেকে কক্সবাজার হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার হতো। বর্তমানে মিয়ানমার থেকে সরাসরি ভারতের ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়ে কুমিল্লায় ঢুকছে।’

কুমিল্লা সীমান্তে মাদক চোরাচালান রোধে বিজিবির পাশাপাশি র‌্যাব, পুলিশ ও মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর কাজ করছে উল্লেখ করে মাঞ্জুরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘চোরাকারবারীরা নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করলেও, আমরাও পাল্টা কৌশল নিচ্ছি। মাদকসহ তাদেরকে আটক করা হচ্ছে। মাদকদ্রব্য চোরাচালান প্রতিরোধে আমাদের প্রয়াস সার্বক্ষণিক থাকবে।’

Skip to toolbar