• আজ ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মাটিহীন চাষে সফল নোবিপ্রবির আসাদ

৮:৩২ অপরাহ্ণ | রবিবার, জানুয়ারি ৫, ২০২০ সাফল্যের বাংলাদেশ
trunno

এস আহমেদ ফাহিম,নোবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ মাটিবিহীন সবজি ও মাছ চাষ তথা ‘অ্যাকোয়াপনিক্স’ নিয়ে গবেষণায় সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তরের সামুদ্রিক মৎস্য জরিপ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ( নোবিপ্রবি) এর ফিশারিজ ও মেরিন সায়েন্স বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান আসাদ।

আসাদুজ্জামান আসাদ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১০ সালে ফিশারিজ ও মেরিন সায়েন্স বিভাগ থেকে ফিশারিজে স্নাতক এবং ২০১২ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।সেখানে অধ্যয়নরত অবস্থায় অ্যাকোয়াপনিক্স এর প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন তিনি।

২০১২ সালের আগস্টে পরিকল্পনা কমিশন এবং ডানিডার অর্থায়নে অধ্যাপক আবদুস সালামের নেতৃত্বে একদল গবেষক দল বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে খুলনা জেলায় ঘূর্ণিঝড় সিডর ও আইলা আক্রান্ত এলাকায় মাটিবিহীন মাছ ও সবজি চাষের ব্যবস্থাপনা প্রচলন করেন। সেই গবেষক দলে কাজ করেন আসাদুজ্জামান আসাদ।

যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে সম্প্রতি তিন দিনের ‘অ্যাকোয়াপনিক্স কনফারেন্স-২০১৯’-এ বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন তিনি।ইতোমধ্যে শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অধীনে গবেষণার অর্জিত ফল তুলে ধরেছেন বিশ্ব পরিমণ্ডলেও।

অ্যাকোয়াপনিক্স পদ্ধতিতে কোনো সার ব্যবহার করা হয় না। তাই এর পুষ্টিমান খুব ভালো। বাংলাদেশে এই পদ্ধতিতে প্রায় ২১ ধরনের শাকসবজি ও ফল উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে।’এই পদ্ধতিতে আবদ্ধ পরিবেশে ভেতরে মাছ চাষ করা হয়। মাছের অতিরিক্ত খাবার পচে ও মলমূত্র জমা হয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়! সেই ময়লা পানি পাত্রে রাখা সবজি বেডে (পাথর, নারিকেল ছোবড়া ও ইটের সুরকি দিয়ে তৈরি) সরবরাহ করা হয়। গাছের মূলে থাকা ডিনাইট্রিফায়িং ব্যাকটেরিয়া এ সময় ময়লা পানির বিভিন্ন উপাদান ভেঙে গাছের জন্য খাবার তৈরি করে এবং পানি পরিস্কার হয়ে পুনরায় মাছের পাত্রে ফিরে যায়। এটি একটি রি-সারকুলেটিং অ্যাকোয়া কালচার সিস্টেম। সবজি বেড ও ব্যাকটেরিয়া মেকানিক্যাল ও বায়োলজিক্যাল ফিল্টার হিসেবে কাজ করে।

তরুণ এই গবেষকের মতে, বাংলাদেশে অ্যাকোয়াপনিক্স নিয়ে অনেকেই কাজ করছেন। তিনি কতৃজ্ঞতা প্রকাশ করেন তার গবেষক দলের জ্যেষ্ঠ গবেষকদের প্রতি। একই সঙ্গে লব্ধ জ্ঞান কাজে লাগাতে চান দেশের কল্যাণে।

Loading...