• আজ ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব ইজতেমাঃ জুমার নামাজে অংশ নিতে সড়কে মুসল্লিদের অবস্থান

১:০৬ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, জানুয়ারি ১০, ২০২০ ইসলাম
izta

ইসলাম ডেস্কঃ শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। আজ শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে লাখ লাখ মুসল্লির ঢল এখন ময়দানমুখী। যারা ময়দানে জায়গা পাননি তারা সড়ক মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছেন। আবার অনেকে বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসা ও ময়দানের আশপাশে খালি জায়গায় চট কিংবা বিভিন্ন সামানা বিছিয়ে অবস্থান নিচ্ছেন।

ইজতেমার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কানায় কানায় পরিপূর্ণ ইজতেমা ময়দান। ইতোমধ্যে হাজার হাজার মুসল্লি ময়দানের বাইরে অবস্থান নিয়েছেন এবং অনেকে জায়গা না পেয়ে বিভিন্নস্থানে দাঁড়িয়ে বসার জায়গার ব্যবস্থা করছেন। যারা ময়দানের বাইরে রয়েছেন তারা পানি, টয়লেট ও খাওয়া দাওয়াসহ বিভিন্নভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এতো মুসল্লি কোথায় জায়গা দিবেন এনিয়ে দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন আয়োজক কমিটি।

বিভিন্ন জেলার কিশোর, যুবক, বয়োজ্যেষ্ঠ সব শ্রেণির মানুষ ইজতেমা মাঠে আসা শুরু করেছেন। অনেকে দীর্ঘ চল্লিশ বা ১২০ দিন ইসলামের দাওয়াত শেষ করে ইজতেমায় শরিক হচ্ছেন। আবার কেউ কেউ ইজতেমা শেষে দেশ-বিদেশ ঘুরে ইসলামের দাওয়াত দিতে ৪০ বা ১২০ দিনের জন্য বেরিয়ে পড়বেন। ধনী, দরিদ্র সবাই এখানে এক শামিয়ানার নিচে একসঙ্গে অবস্থান করছেন।

মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ ব্যবহার্য দ্রব্যাদি কাঁধে বহন করে মাঠে আসছেন। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট থেকে আসা মোহাম্মদ দুলাল মিয়া বলেন, আখেরি মোনাজাত শেষে মুরব্বিদের ঘোষণা এলে ইজতেমা স্থান ত্যাগ করবেন। ইজতেমা মাঠের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে তারা কখনোই ভাবেন না। তাদের এখানে আসার একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহ ও রাসুল (সা.) সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা। অর্জিত জ্ঞান দাওয়াতের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

বিশ্ব ইজতেমার মুরব্বি মাওলানা মেজবাহ উদ্দিন জানান, তাবলিগ জামাতের শূরার সিদ্ধান্তে বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব ভারতের মাওলানা ইব্রাহিম দেওলা আরবিতে বয়ান শুরু করেন। এর বাংলা তরজমা করেন হাফেজ মাওলানা জুবায়ের। আর এ বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমা। এরপর দ্বিতীয় পর্বে মাওলানা সা’দ কান্ধলভির অনুসারীদের ইজতেমা শুরু হবে আগামী ১৭ জানুয়ারি। আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ১৯ জানুয়ারি শেষ হবে এ পর্ব।

উল্লেখ্য বাংলাদেশে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ১৯৬৩ সাল থেকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মুসল্লিরা এই ইজতেমায় অংশ নেন বলে এটি বিশ্ব ইজতেমা হিসেবে পরিচিতি পায়। ২০০৯ সাল পর্যন্ত ইজতেমা তিন দিন ধরে অনুষ্ঠিত হতো। মুসল্লির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০১০ সাল থেকে দুই দফায় তিন দিন করে ইজতেমার আয়োজন করা হতো। তাবলিগের আমির মাওলানা সা’দ কান্ধলভি ও মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীদের বিরোধের কারণে গত বছর থেকে দুই পক্ষ আলাদাভাবে ইজতেমার আয়োজন শুরু করে।

Loading...