ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভাঁড় বললেন খামেনি!

৮:০০ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, জানুয়ারি ১৭, ২০২০ আন্তর্জাতিক
trump

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর তীব্র সমালোচনা করে তার দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। গত আট বছরের মধ্যে এই প্রথম তেহরানে শুক্রবারের নামাজে ইমামতি করলেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একজন ভাঁড় বলে মন্তব্য করেছেন খামেনি।

খামেনি খুতবায় বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের জনগণের পাশে থাকার শুধুমাত্র অভিনয় করছেন, কিন্তু বাস্তবে তিনি জাতিকে পেছন দিক থেকে ‘বিষাক্ত ছুরি মারছেন’।

এদিনের খুতবায় হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন এবং খুতবার মাঝে মাঝে ‘আল্লাহ মহান’, ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ বলে আওয়াজ উঠে।

তিনি বলেন, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইউক্রেনীয় একটি বিমান ভূপাতিত হবার ঘটনাটি ব্যবহার করে ইরানের শত্রুরা জেনারেল কাসেম সোলেইমানি হত্যাকে ধামাচাপা দিতে চাইছে।

“কাসেম সোলেইমানি হত্যার ঘটনায় আমরা যতটা দুঃখিত হয়েছি, বিমান ধ্বংসের ঘটনায় আমাদের শত্রুরা ততটাই খুশি হয়েছে। তারা আমাদের বিপ্লবী গার্ড ও সশস্ত্রবাহিনীকে নিয়ে প্রশ্ন তোলার একটা সুযোগ পেয়ে গেছে,” বলেন খামেনি ।

হাজার হাজার মানুষের সামনে দেয়া ভাষণে তিনি গুলি করে ইউক্রেনের বিমান ফেলে দেয়াকে একটি ট্র্যাজেডি বলে বর্ণনা করেন। ওই ঘটনার কয়েক ঘন্টা আগেই মার্কিন ড্রোন আক্রমণে কাসেম সোলেইমানি হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইরাকে মার্কিন সেনাদের দুটি ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান।

ওয়াশিংটন প্রথমে বলেছিল ওই আক্রমণে কোন মার্কিন সৈন্য আহত হয়নি। পরে জানা যায়, কয়েকদিন পরে ১১ জনের মধ্যে অসুস্থতা দেখা দিলে তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়।

সংবাদদাতারা বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানে যে অস্থিরতা চলছে, সেই পটভূমিতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি তার কর্তৃত্ব জোরদার করতে চাইছেন। এই ঘটনার দায় স্বীকার করার পরই ইরানে সর্বশেষ দফা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আয়াতোল্লাহ খামেনির কথায় স্পষ্ট, নানা অস্থিরতা সত্ত্বেও ইরানের সরকার তাদের বর্তমান ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে চায়, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা যেসব দাবি জানাচ্ছে, তাদের ছাড় দেয়ার কোন ইচ্ছে কর্তৃপক্ষের নেই।

উল্লেখ্য ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হন তিনি। দেশটিতে তার কথার ওপরে কারো কোনো কথা বলার সুযোগ নেই। তিনিই দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন।

Loading...