• আজ ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মির্জাপুরে বিদ্যালয়ের জমি দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, জানুয়ারি ১৮, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর

মো. সানোয়ার হোসেন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি- টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ১২১ নং সৈয়দপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি ও এলাকাবাসীর যাতায়াতের রাস্তা দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

বিদ্যালয়ের জমি রক্ষা ও রাস্তা উদ্ধারের জন্য স্কুলের পরিচালনা কমিটির সদস্য আলমগীর হোসেন বাদি হয়ে গত বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) মির্জাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন। ঘটনার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সরজমিনে ঘটনাস্থলে গেলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও এলাকাবাসী ঘটনার সত্যতা তুলে ধরেন।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আঞ্চলিক রোড গোড়াই-সখীপুর–ঢাকা রোড সংলগ্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ও বর্তমান ইউপি সদস্য মো. আদিল খান জানান, গোড়াই ইউনিয়নের সৈয়দপুর মৌজার সাবেক দাগ-২৪৩৩, হাল দাগ-২৬৪২ ও খতিয়ান নং-৯০৭ এর মধ্যে ৭০ শতাংশ জমি রয়েছে বিদ্যালয়ের নামে। এই জমিতে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সরকারী কোষাগারে খাজনাও নিয়মিত ভাবে পরিশোধ করা হচ্ছে।

সৈয়দপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ খানের ছেলে মো. আজম খান (৫৫), জিহক খান (২৩) নিনা আজম (৪৪) সহ কতিপয় লোক বিদ্যালয়ের ৩০ শতাংশসহ জমি নিজের দাবি করে প্রভাব খাটিয়ে রাতারাতি পাকা ভবন নির্মান করেন। সেই সঙ্গে পাশের রাস্তাও দখল করে পাকা ঘর নির্মান করা হয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী তাকে বারবার নিষেধ করার পরও তিনি পাকা ভবন নির্মান থেকে বিরত না হওয়ায় বিদ্যালয়ের জমি রক্ষা ও রাস্তা উদ্ধারের জন্য এলাকাবাসীর পক্ষে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য আলমগীর হোসেন থানায় সাধারন ডায়রী এবং ইউপি সদস্য মো. আদিল খান বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে মো. আজম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সৈয়দপুর মৌজায় ২৪৩৫ নং ও ২৪৪৮ নং দাগের মধ্যে আমার পিতা মো. মজিদ খান, কেশব সরকার ও গয়ানাথ সরকার ৫০ শতাংশ জমি বিদ্যালয়ের নামে দান করে দিয়ে সৈয়দপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিদ্যালয়ের পাশে ২৪৩৩ দাগের মধ্যে আমার স্ত্রী নীনা আজমের নামে ৮৫ শতাংশ জমি রয়েছে। আমি সেই জমির উপর পাকা ভবন নির্মাণ করতে গেলে বিদ্যাললয় কর্তৃপক্ষ ও এলাকবাসীর মধ্যে কিছু লোকজন বাঁধা দিয়ে পাকা ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। এ নিয়ে কোর্টে মামলা রয়েছে।

তিনি দাবি করেন, আমি বিদ্যালয়ের কোন জমি জবর দখল করিনি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং কিছু লোকজন আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন মাষ্টার জানান, এটা বিদ্যালয়ের জমি। মো. আজম খান গংরা মিথ্যা ও ভুয়া ও জাল দলিল তৈরী করে বিদ্যালয়ের জমি জবর দখল করে যাচ্ছেন। তাদের বাঁধা দিতে গেলে নানাভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তারা বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবিও জানান।

এ বিষয়ে দেওহাটা ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের জমি জবর দখল হচ্ছে এমন একটি লিখিত অভিযোগ বিদ্যালয়ের পক্ষে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. আলমগীর হোসেন দিয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পাকা ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

Loading...