‘আল্লাহর ওয়াস্তে ইভিএম বাদ দিন’- ঐক্যফ্রন্ট

৭:২৮ অপরাহ্ণ | শনিবার, জানুয়ারি ১৮, ২০২০ জাতীয়
rab

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ ‘ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ভোট চুরি নতুন পদ্ধতি’ এমন দাবি করে আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ বাতিল চেয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

শনিবার (১৮ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ আহ্বান জানান জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা আ স ম আব্দুর রব।

রব বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস নেই। সে কারণে সুষ্ঠু ভোট ছাড়াই ক্ষমতা দখল ও ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার নিত্যনতুন কূটকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। জনগণকে নানাভাবে হয়রানি ভয়ভীতি, সন্ত্রাস ও গ্রেফতারের মাধ্যমে নির্বাচন বিমুখ করা হয়েছে। নির্বাচনে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন। আর ইভিএম হলো ভোটচুরির নতুন পদ্ধতি। আল্লাহর ওয়াস্তে আপনারা ইভিএমপন্থা বাদ দিন। এটাকে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিন।

তিনি বলেন, যেকোনো যন্ত্র বা প্রযুক্তি চলে মানুষের কমান্ডে। কিন্তু যারা কমান্ডে আছে তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইভিএমের মাধ্যমে জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করবে একথা বলাই বাহুল্য। ইভিএমে প্রযুক্তি এবং তথ্য পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে, মধ্যরাতে ভোটের ধারাবাহিকতায় এটা হবে আরও একটি জঘন্য দৃষ্টান্ত। ইভিএম পদ্ধতি বিতর্কিত এবং সাংবিধানিকভাবে অগ্রহণযোগ্য। এভাবে ভোট করলে তা পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া, পদ্ধতি ও ব্যবস্থাকে অশুভ পরিণতির দিকে নিয়ে যাবে নিঃসন্দেহে।

জেএসডির সভাপতি আরো বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে নির্বাচন সম্পর্কে প্রকাশ্যে পেপার ব্যালটের কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে ভোটের গোপনীয়তা রক্ষিত হবে। কিন্তু ইভিএমে ভোটের গোপনীয়তা থাকে না, ভোটারদের কাছে কোনো প্রমাণ থাকে না। একটি সত্যিকারের গণতন্ত্রের মৌলিক অধিকার ও সংবিধান লঙ্ঘন। জনগণ সব ক্ষমতার মালিক। গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণ সেই মালিকানা প্রতিষ্ঠা করেন। তারা সুষ্ঠু ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করেন। কিন্ত বর্তমানে দেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। ভোট ছাড়াই নির্বাচন ও সরকার গঠিত হচ্ছে।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে করে কলঙ্কলেপন করেছেন। ২০২০ সাল বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর বছর। এই বছর আর ভোট কারচুপি না করে পদত্যাগ করুন।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাঈদ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিকল্প ধারার সভাপতি ড. নুরুল আমিন বেপারী, জেএসডির সানোয়ার হোসেন, শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, ঐক্যফ্রন্টের দপ্তর প্রধান জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু প্রমুখ।

Loading...