প্রয়াত আব্দুল মান্নানের স্মরণে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর আবেগঘন বক্তব্য

১০:০৫ অপরাহ্ণ | রবিবার, জানুয়ারি ১৯, ২০২০ জাতীয়
hasina

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বৈরী পরিবেশে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি এবং ধারাবাহিকভাবে সরকার পরিচালনা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আছে বলেই। দেশে উন্নতি হচ্ছে কিন্তু আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে বিশেষ করে পঁচাত্তরের পর বিরাট অবদান রেখে গেছেন সেই সমস্ত ছাত্র নেতারা চলে (মারা) যচ্ছেন।

রোববার (১৯ জানুয়ারি) সংসদের অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে স্পিকার ড. শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়।

আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সদ্য প্রয়াত আব্দুল মান্নানের শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, মনে একটা কষ্ট নিয়ে এখানে দাঁড়াতে হলো। পরপর তিনজন সংসদ সদস্য চলে গেলেন। আব্দুল মান্নানকে আমি ছাত্রলীগের সভাপতি করেছিলাম। তখন ছাত্রলীগের সভাপতি করার আগে আমি ডেকে ইন্টারভিউ নিতাম। আমি জিজ্ঞাসা করতাম সভাপতি না বানালে কী করবে?

‘তখন অনেকেই হাউমাউ করে কেঁদে দিতো। কিন্তু মান্নানকে জিজ্ঞাসা করলে সে বললো না বানালে কিছু করার নেই, আপনার সঙ্গে রাজনীতি করবো। আমি তখনই সিদ্ধান্ত নিলাম তাকে সভাপতি বানাবো।’

শেখ হাসিনা বলেন, পরবর্তী সময়ে তাকে আওয়ামী লীগে নিয়ে আসি, আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ছিল। বগুড়ার মতো জায়গায় ওকে নমিনেশন দিলাম। খুব কঠিন জায়গা ছিল, এলাকাটা দুর্গম এবং রাস্তাঘাট ছিল না। খুবই অনুন্নত একটি জায়গা। সেখানে তাকে যখন নমিনেশন দিলাম, মান্নান সেখানে থেকে জিতে আসল, পর পর তিনবার সেখান থেকে সংসদ সদস্য।

স্মৃতিচারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ঠিক মৃত্যুর দুইদিন আগে আমার সঙ্গে অনেক কথা বলল। আমাদের সেন্ট্রাল কমিটিতে নানক আসছে, ও আসতে পারেনি। বোধহয় মনে একটু দুঃখ ছিল। আমি বললাম আমি তো তোমাদের কাউকে ফেলে দেইনি। তুমি আওয়ামী লীগে ছিলে এবং তোমাকে আমি নমিনেশন দিয়েছি, সংসদ সদস্য হয়েছ। কথা বলার সময় দেখলাম তার শরীরটা একটু খারাপ। আমি ওকে বললাম তোমার শরীর মনে হয় ভালো না, তুমি একটু ভালোভাবে চিকিৎসা কর। ঠিক তারপরই হাসপাতালে ভর্তি।

তিনি বলেন, হাসপাতালে ভর্তির পর আমি প্রতিদিন একবার ডাক্তার সৌরভের সঙ্গে কথা বলতাম, যেদিন মারা গেল তার আগের দিন রাত ৯টার সময় ডাক্তার সৌরভের সঙ্গে কথা বললাম। প্রতিদিন সৌরভের সঙ্গে কথা বলে ওর স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর নিতাম। ওইদিনই ডাক্তার বললেন আপা ওর শরীরের অবস্থা ভালো না। ওকে আমরা কিছু করতে পারব বলে মনে হয় না। শরীরটা খুবই খারাপ। এমন অবস্থা ছিল যে, আমি বলেছিলাম ওকে যদি বাইরে পাঠানো যায়, ডাক্তার বলল যে বাইরে পাঠানোর অবস্থা নেই। পরদিন সকাল বেলায় মৃত্যুর খবর। এটি সব থেকে দুঃখজনক।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ছাত্রজীবন থেকে আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, এরশাদবিরোধী আন্দোলন, জিয়াবিরোধী আন্দোলন ও খালেদা জিয়াবিরোধী আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছে। বিভিন্ন সময়ে বহু ছাত্রনেতা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। একটা বৈরী পরিবেশে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি এবং ধারাবাহিকভাবে সরকার পরিচালনা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আজকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী সরকার আছে বলেই বাংলাদেশের উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু এই সমস্ত ছাত্র নেতারা দুঃসময়ে বিশেষ করে পঁচাত্তরের পর বিরাট অবদান রেখে গেছেন। অনেক কাজ করে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটা ক্ষেত্রে মান্নান অত্যন্ত দক্ষ ছিল, মেধাবী ছিল। যখন দলের প্রচার সম্পাদক ছিল, তখন প্রতিটি লিফলেট থেকে শুরু করে বিবৃতি লেখা আমি নিজে বসে থেকে ওকে দিয়ে লেখাতাম। যখন যে কাজ দিয়েছি প্রত্যেকটা দক্ষতার সঙ্গে করেছে। আমার হাতে গড়া ছাত্রনেতারা এরাই আগামীতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেবে। ভবিষ্যতে আমরা যখন থাকব না। আমার চোখের সামনে ওরা চলে যায়, সেটা সত্যিই খুব দুঃখজনক। ইউনুস মারা গেল, মান্নানের মৃত্যু, বাগেরহাটের মোজাম্মেল হক সাহেবের মৃত্যু। বাপ্পা মারা গেল। এটা আসলে দলের জন্য তো বটেই দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

আলোচনার পর শোক প্রস্তাবটি সংসদে গৃহীত হয়। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মো. নাসিম, মতিয়া চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান খান, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমদ পলক, ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ, মৃণাল কান্তি দাস, মোসলেম উদ্দিন, নজরুল ইসলাম বাবু, আনোয়ার আবেদীন খান, তাজুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির মশিউর রহমান রাঙ্গা, পীর ফজলুর রহমান, জাতীয় এক্যফ্রন্টের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ।

Loading...