তসলিমা নাসরিনকে নাগরিকত্ব দিতে পারে ভারত!

১১:৪০ অপরাহ্ণ | রবিবার, জানুয়ারি ১৯, ২০২০ আন্তর্জাতিক
tas

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ বিতর্কিত সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনাকে অস্বীকার করেছেন। আইনটির পক্ষে সাফাই তুলে ধরতে তিনি বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন ও পাকিস্তানি গায়ক আদনান সামিকে উদাহরণ হিসেবে হাজির করেছেন। হিন্দুস্তান টাইমস এখবর জানিয়েছে।

নির্মলা সীতারমণ বলেন, নতুন এই আইন ধর্মীয় বিভাজনমূলক নয়। আর এটা বলতে গিয়েই তিনি তাসলিমা নাসরিনের উদাহরণ টেনে বলেন আদনান সামি, তসলিমা সীতারমণদের উদাহরণ দেখলেই বোঝা যাবে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন সৃষ্টিকারী নয়। একথার মানে হতে পারে তাদেরকে নাগরিকত্ব দিতে চলেছে ভারত সরকার।

২০০৪ সাল থেকে রেসিডেন্স ভিসা নিয়ে ভারতে বসবাস করছেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। ইসলামবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গির জন্য মৌলবাদীদের হুমকির মুখে দেশ ছাড়েন তিনি।

সিএএ-র নীতি স্পষ্ট করে নির্মলা দাবি করেন, ‘সিএএ নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন, কেড়ে নেওয়ার নয়। এটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর কিছু মানুষকে নাগরিকত্ব দেবে। ফলে নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে, এমন আশঙ্কায় যারা রয়েছেন, তাদের আমরা আশ্বস্ত করতে চাই।’

পরিসংখ্যানের কথা তুলে ধরে ভারতের অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গত দু’বছরে ৩৯১ জন আফগানিস্তানি এবং ১ হাজার ৫৯৫ জন পাকিস্তানিকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। আর গত ছয় বছরে ২ হাজার ৮৩৮ জন পাকিস্তানি, ৯১৪ জন আফগান এবং ১৭২ জন বাংলাদেশিকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। অবশ্যই নাগরিকত্ব পাওয়াদের মধ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষও ছিলেন।’

নির্মলা আরও দাবি করেন, ‘১৯৬৪ সালের পর থেকে শ্রীলঙ্কা থেকে আসা ৪ লাখের বেশি তামিলকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৯৫ হাজারের মতো শ্রীলঙ্কান তামিল এখনও ক্যাম্পে রয়েছে। আগামী দিনে তাদেরও নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।’

ভারতীয় মন্ত্রী বলেছেন, কোনও রাজ্যই কেন্দ্রের এই আইনকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে না।

উল্লেখ্য, প্রায় একই পরিস্থিতিতে পাক গায়ক আদনান সামিকে এদেশের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন পাস হওয়ার পর তসলিমার নাগরিকত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

তাছাড়া লেখিকা নিজে এই আইনকে সমর্থন করেছেন। তসলিমার মতে, এই আইনটি উদার। এ প্রসঙ্গে তিনি বলছেন, ‘শুনে ভালো লাগছে যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান আর আফগানিস্তানে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার মানুষেরা এদেশের নাগরিকত্ব পাবেন। এটা খুব ভাল এবং উদার ভাবনা।’

পাশাপাশি তিনি সরকারের কাছে আবেদন করেন, ‘যাঁরা আমার মতো উদারপন্থী মুসলিম, তাঁদের উপরও বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানে নিপীড়ন হয়। তাঁদেরও ভারতে থাকার অধিকার পাওয়া উচিত।’

Loading...