২০০০ ধনীর সম্পদ বিশ্বের ৪৬০ কোটি গরিবের সম্পদের চেয়ে বেশি

৯:১৪ অপরাহ্ণ | সোমবার, জানুয়ারি ২০, ২০২০ ফিচার
rich

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ ২০১৯ সালে বিশ্বের দুই হাজার ১৫৩ জন শীর্ষ ধনীর হাতে ৪৬০ কোটি গরিব মানুষের সম্পদের চেয়েও বেশি পরিমাণ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ছিল। অথচ মজুরিহীন ও কম মজুরি পাওয়া নারী ও মেয়েদের শ্রম প্রতি বছর বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রযুক্তি শিল্পগুলোর চেয়ে তিনগুণ বেশি মূল্য সংযোজন করছে বলে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাটি জানিয়েছে।

সোমবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতাদের বার্ষিক বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম সম্মেলনের আগে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অক্সফাম এমনটি জানিয়েছে।

‘টাইম টু কেয়ার’ শিরোনামের এই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে নারীরা কোনও ধরনের পারিশ্রমিক বা স্বীকৃতি ছাড়াই প্রত্যেকদিন মোট ১ হাজার ২৫০ কোটি ঘণ্টা কাজ করেন। নারীদের অবৈতনিক এসব কাজের মূল্য অন্তত ১০ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার; যা বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রযুক্তি খাতের অবদানের প্রায় তিনগুণ।

অক্সফাম ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী আমিতাভ বেহার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “যে অর্থনীতি আমরা দেখছি সত্যিকারভাবে নারীদের মজুরিহীন সেবাই তার অলক্ষ্যে থাকা ইঞ্জিন, আমাদের এখানে নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এটির পরিবর্তন হওয়া দরকার।”

বেহার বিশ্ব অর্থনীতির অসাম্যের মাত্রা দৃষ্টিগোচর করার জন্য বুচু দেবী নামে ভারতীয় এক নারীর জীবন তুলে ধরেন।

তিনি জানান, বুচু দেবী প্রতিদিন ১৬ থেকে ১৭ ঘণ্টা কাজ করেন। তিনি হেঁটে তিন কিলোমিটার দূর গিয়ে সেখান থেকে পানি নিয়ে আসেন, তারপর রান্না করেন, ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত করেন এবং নিম্নমজুরির একটি কাজ করেন।

“অপরদিকে আপনি দেখেন, দাভোসে জমায়েত হওয়া বিলিওনিয়াররা তাদের ব্যক্তিগত বিমান, ব্যক্তিগত জেট ও বিলাসবহুল জীবনধারা নিয়ে আছেন।

“এই বুচু দেবী শুধু একজনই নন। ভারতে প্রায় প্রতিদিন এ ধরনের নারীদের সঙ্গে আমার দেখা হয়, আর পুরো বিশ্বজুড়েই এই একই গল্প। আমাদের এটি পরিবর্তন করা দরকার আর নিশ্চিতভাবে এই বিলিওনিয়ারের বাড়বাড়ন্তেরও ইতি ঘটানো দরকার।”

এর প্রতিকারের জন্য ধনীদের কর দেওয়া সরকারগুলোর নিশ্চিত করা উচিত বলে মনে করেন বেহার। ওই করের টাকা পরিষ্কার পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও উন্নতমানের স্কুলের মতো সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, “বিশ্বের দিকে তাকিয়ে দেখুন, ৩০টিরও বেশি দেশে প্রতিবাদ হচ্ছে। লোকজন রাস্তায় নেমে এসেছে। কী বলছে তারা?- তারা এই বৈষম্যকে মেনে নেবে না, তারা এ ধরনের পরিস্থিতিতে আর জীবনযাপন করতে চায় না।”

Loading...