• আজ ৭ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নিশ্চয়ই অপরাধে জড়িত ছিলেন বলেই গ্রেফতার, শরিয়ত বয়াতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী

৯:৪৩ অপরাহ্ণ | বুধবার, জানুয়ারি ২২, ২০২০ জাতীয়
hasi

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নিশ্চয়ই কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেই শরিয়ত বয়াতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (২২ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদে প্রশ্ন-উত্তরে জাসদের সংসদ সদস্য হাসানুল হক ইনুর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

জাসদের সংসদ সদস্য হাসানুল হক ইনুর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

এ সময় বাউল গান ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যে স্থান পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ইনু সম্প্রতি শরিয়ত বয়াতির গ্রেপ্তার হওয়ার কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “আইসিটি আইনে শরিয়ত বাউলকে গ্রেপ্তার ও ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, বাউল শিল্পীদের চুল কেটে দেওয়া হচ্ছে। গ্রাম থেকে তাড়িয়ে বের করে দেওয়া হচ্ছে। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সামরিক শাসকেরা যে জবর দখলের রাজনীতি শুরু করেছিল, তখন যাত্রা, পালাগানসহ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর একটি আক্রমণাত্মক তৎপরতা পরিচালনা করেছিল। তার রেশ এখনও চলছে।”

প্রধানমন্ত্রী ও সরকার বিশ্ব ঐতিহ্যের বাউল সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেবেন কি না, সে প্রশ্ন করেন জাসদ সভাপতি।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা উদ্যোগ নিয়ে বাউল গানকে বিশ্ব ঐতিহ্যে হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছি। বাউল গানের তো কোনও দোষ নেই। কিন্তু বাউল গান যারা করেন, তাদের ব্যক্তিবিশেষ কোনও অপরাধে জড়িত হলে আইন তার আপন গতিতে চলবে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর সঙ্গে গানের কোনও সম্পর্ক নেই। আর যারা বাউল গান করছেন, তারা সবাই অপরাধের ঊর্ধ্বে, এই গ্যারান্টি কেউ দিতে পারবেন? বাউল শিল্পীরা কোনও অপরাধ করেন না বা করেননি—এটা তো ঠিক নয়। নিশ্চয়ই কোনও অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

ইনুর প্রশ্নের সূত্র ধরে সামরিক শাসন আমলের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘পঁচাত্তরের পর যারা ক্ষমতায় ছিলেন, সেখানে গণতান্ত্রিক ধারা ছিল না। সংবিধান লঙ্ঘন করে তারা ক্ষমতায় এসেছেন। একের পর এক ক্যু হয়েছে। মিলিটারি ডিক্টেটররা ক্ষমতায় এসেই রেডিও-টেলিভিশনে ঘোষণা দিয়েছেন, ‘আজ থেকে আমি রাষ্ট্রপতি হলাম।’ আর হয়েই তাদের প্রথম কাজ ছিল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা। সুইপারের কাজটাই তারা আগে করেছেন। এটা আমরা সবসময় দেখেছি।

প্রথমে দেখা যায়, রাস্তার পাশে কঁচু-ঘেচু যা থাকে, কেটেকুটে সাফ করেন। দেয়াল মুছে পরিষ্কার করেন। আবার কেউ সাইকেল চালিয়ে সাশ্রয় করেন। সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার পর দেখা যাচ্ছে—পৃথিবীর সবচেয়ে দামি গাড়ি নিয়ে চলে এসেছে। ‘কেউ বলছেন কৃচ্ছ্রতাসাধন করছি।’ এরপর টি-শার্ট পরে লেগে গেলেন। কিন্তু দেখা গেলো প্যারিস থেকে স্যুট আসে। ফ্রেঞ্চ সিপন শাড়ি আসে। ওই সময়ের দামি ব্র্যান্ড সানগ্লাস ‘রেমন’ পরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এ রকম বহু নাটক মিলিটারি ডিক্টেটররা করেছেন। কাজেই চুল কাটাই শুধু নয়, এর বাইরেও অনেক কাজ তারা করেছেন।’

তবে, তাদের এসব উদ্যোগ বেশি দিন টেকে না, মাস ছয়েক থাকে। তারপরই চেহারা পাল্টে যায়। আর এখনও যদি কেউ অন্যায় করে, আমরা তা দেখবো। তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবো। অহেতুক কারও চুল কাটা বা গানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।’

উল্লেখ্য গত ২৪ ডিসেম্বর ঢাকার ধামরাই উপজেলার রৌহাট্টেক পীর এ কামেল হযরত হেলাল শাহ’র দশম বার্ষিক মিলন মেলায় পরিবেশনায় মুসলমানদের ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে’ আঘাতের অভিযোগ ওঠে শরিয়ত বয়াতির বিরুদ্ধে।

এই অভিযোগে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আগধল্যা গ্রামের জামে মসজিদের ঈমাম ফরিদুল ইসলাম মির্জাপুর থানায় মামলা করেন। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। রিমান্ড শেষে তাকে জেল হাজতে নেওয়া হয়।

Loading...