সংবাদ শিরোনাম
চট্টগ্রামে ৬২১ নমুনা পরীক্ষায় ২০৮ জনের করোনা পজিটিভ | লালমনিরহাটে দুর্গম চরাঞ্চলে গিয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেন এসিল্যান্ড | করোনা আক্রান্ত মোহাম্মদ নাসিমকে আইসিইউতে স্থানান্তর | ভূঞাপুরে বিল সাঁতরে কৃষকের স্বপ্নের ধান বাড়িতে পৌঁছে দিলো ছাত্রলীগ | স্ত্রীর মামলায় স্বামী, শ্বশুর-শ্বাশুড়ি ও দেবর গ্রেফতার | লাদাখ সীমান্তের খুব কাছে উড়ছে চীনা যুদ্ধবিমান, সতর্ক ভারত | কাশ্মীর থেকে লাদাখ সীমান্তে হাজার হাজার সৈন্য আনছে ভারত | করোনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়াল | টাঙ্গাইলে ৩০২ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক | বিনামূল্যে অসহায় কৃষকের ধান কাটা কর্মসূচির উদ্বোধন |
  • আজ ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বছরের প্রথম ২৩ দিনেই বিএসএফের গুলিতে নিহত ১৫ বাংলাদেশি

১১:৪৩ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৩, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ
bsf

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ চলতি মাসে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৫ জন বাংলাদেশি। দুই দেশের সীমান্তরক্ষা বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠকে বার বার প্রতিশ্রুতির পরও থামছে না বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ড।

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে বছরজুড়ে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন ১৪ জন। সেখানে ২০২০ এর প্রথম মাসেই ২০১৮ এর সারা বছরের সীমান্ত হত্যার সংখ্যার চেয়ে বেশি সংখ্যক বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে বিএসএফ। ২০১৯ সালে ভারতের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী- বিএসএফ’র হাতে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৮ জন বাংলাদেশি। এক বছরের ব্যবধানে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে প্রায় তিনগুণ দাঁড়ায়।

এরমধ্যে আজ নওগাঁয় তিনজন এবং যশোরের বেনাপোল সীমান্ত একজন বিএসএফের হাতে নিহত হন। এছাড়া গতকাল লালমনিরহাটে নিহত হন দুই জন।

এদিকে, বিজিবির পক্ষ থেকে একের পর এক প্রতিবাদ ও পতাকা বৈঠকের পরও হত্যা বন্ধ না হওয়ায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক বাড়ছে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে।

ফেলানীসহ বিভিন্ন সময় সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে প্রাণ হারাচ্ছে বাংলাদেশিরা। এ নিয়ে দেশ-বিদেশে নানা সমালোচনার মুখে পড়ে বিএসএফ।

সবশেষ গত ২৫ থেকে ২৯ ডিসেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয় বিজিবি- বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক। সেখানে সীমান্ত হত্যা বন্ধে বাংলাদেশকে আশ্বাসও দেয় বিএসএফ।

তারপরও বন্ধ হয়নি সীমান্ত হত্যা। এরমধ্যে বৃহস্পতিবার নওগাঁ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। বিজিবি জানায়, সকালে জেলার দুয়ারপাল সীমান্তে যায় কয়েকজন গরু ব্যবসায়ী। এ সময় তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে ভারতের ক্যাদারীপাড়া ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা। এতে সন্দীপ, কামাল ও মফিজ উদ্দিন নামে তিনজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া সকালে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে গরু আনার পথে হানেফ (৩৩) নামে এক বাংলাদেশিকে তুলে নিয়ে বেধড়ক মারধর করে বিএসএফের সদস্যেরা। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এর আগে, বুধবার লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে প্রাণ গেছে দুই বাংলাদেশির। বিজিবি ও প্রশাসনের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের ২৩ দিনে বিএসএফের হাতে নিহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। এরমধ্যে শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিহত হয়েছেন ৬ জন, নওগাঁয় ৩, যশোরে একজন এবং রংপুর বিভাগের বিভিন্ন সীমান্তেও ঘটেছে পাঁচটি হত্যাকাণ্ড। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্ক বাড়ছে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের।

উল্লেখ্য গত এক বছরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে দেশটির সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর হাতে বাংলাদেশীদের প্রাণহানির সংখ্যা তিন গুন বেড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের আইন ও সালিশ কেন্দ্র। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি সংবাদপত্রের তথ্যের ভিত্তিতে ঐ প্রতিবেদন তৈরি করেছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালে বিএসএফ’র হাতে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৮ জন বাংলাদেশী। এর মধ্যে ৩৩ জন গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন এবং বাকি ৫ জনকে নির্যাতন করে মারা হয়েছে। অন্যদিকে ২০১৮ সালে সীমান্তে এমন প্রাণহানির সংখ্যা ছিল ১৪ জন।