‘রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে ফেরত নিতে হবে’- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২:৩০ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, জানুয়ারি ২৪, ২০২০ জাতীয়
sora

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, মিয়ানমারকে গণহত্যার দায় স্বীকার করে বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফেরত নিয়ে যেতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গত দু’দিনে সীমান্তে হত্যার ঘটনাগুলোর সূত্রপাত জেনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি তারা যথার্থই বলেছেন এ গণহত্যার দায় মিয়ানমারকে স্বীকার করতেই হবে। তাদের জোরপূর্বক তাদের নাগরিক আমাদের দেশে ঠেলে পাঠিয়ে দিয়েছি। তাদের ফেরত নিতেই হবে। আমি মনে করি আদালত থেকে রায়টি সেভাবেই আসবে।

এর আগে ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে ‘জাতিগত নিধন’ চালায় মিয়ানমার। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে এ সময় প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

এই নৃশংসতাকে গণহত্যা আখ্যা দিয়ে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর আইসিজেতে মামলা করে গাম্বিয়া। এ মামলায় বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা ও সংঘাত যাতে আরও তীব্রতর না হয় এজন্য অবশ্যই পালনীয় চারটি নির্দেশনা দিয়েছে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত।

অন্তর্বর্তী চার নির্দেশনা হলো-

এক. মিয়ানমারকে অবশ্যই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সব ধরনের হত্যা, হত্যা প্রচেষ্টা নিরসন করতে হবে। সেই সঙ্গে দূর করতে হবে তাদের যে কোনো রকমের শারীরিক বা মানসিক ক্ষতির আশঙ্কা। নিশ্চিত করতে হবে তাদের অধিকার।

দুই. দেশটির সেনাবাহিনী, আধা সামরিক বাহিনী বা যে কেউ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর ব্যাপারে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র, উস্কানি বা কুকর্মে সহযোগিতার সুযোগ পাবে না, তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিন. রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ধরনের প্রমাণ ধ্বংস করা যাবে না। সব প্রমাণ অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে।

চার. এসব নির্দেশ যথাযথভাবে যে পালিত হচ্ছে, ৪ মাস পর মিয়ানমার সে বিষয়টি নিশ্চিত করে আইসিজেকে প্রতিবেদন দাখিল করবে। এরপর থেকে চূড়ান্ত রায় দেওয়ার আগ পর্যন্ত প্রত্যেক ৬ মাস অন্তর অন্তর মিয়ানমারকে এ বিষয়ক প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। সেসব প্রতিবেদন গাম্বিয়াকে দেওয়া হবে। গাম্বিয়া সেগুলো পর্যবেক্ষণ করে নিজেদের মতামত জানাবে।

এর গত ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর তিনদিন হেগে এ মামলার শুনানি হয়। তাতে মিয়ানমারের পক্ষে স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি অংশ নেন। সে সময় তিনি রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। এছাড়া গাম্বিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করার অধিকার রাখে না বলেও দাবি করা হয় মিয়ানমারের পক্ষে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। সব মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১১লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে ৩৪টি শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছেন।

Loading...