কাশ্মীরের বন্দি নেতাদের ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানালো যুক্তরাষ্ট্র

৩:৪০ অপরাহ্ণ | শনিবার, জানুয়ারি ২৫, ২০২০ আন্তর্জাতিক
kasm

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ কোনো অভিযোগ ছাড়াই কাশ্মীরের যে রাজনৈতিক নেতাদের বন্দি করে রাখা হয়েছে, তাদের ছেড়ে দিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন সরকারের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া সংক্রান্ত প্রিন্সিপাল ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যালিস ওয়েলস।

সম্প্রতি ১৫ দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীর থেকে ঘুরে গেছেন অ্যালিস। দেশে ফিরে শুক্রবার ওয়াশিংটনে সংবাদমাধ্যমে তিনি ওই দাবি জানান।

অ্যালিস ওয়েলস বলেন, ভারতে গিয়ে বুঝতে পারলাম, নাগরিকত্ব আইন নিয়ে সেখানে কী ঘটছে। বিষয়টি নিয়ে খুব জোরদার ‘গণতান্ত্রিক চর্চা’ চলছে ভারতে। জম্মু-কাশ্মীর সম্পর্কে তিনি বলেন, কোনও অভিযোগ ছাড়াই সেখানকার যে নেতাদের আটকে রাখা হয়েছে, তাঁদের মুক্তি দেওয়ার জন্য আমরা ভারত সরকারকে অনুরোধ করেছি।

নাগরিকত্ব আইন সম্পর্কে পরে তিনি বলেন, “বিষয়টি নিয়ে অনেকে পথে নেমেছেন। রাজনৈতিক বিরোধীরা সরব হয়েছেন। মিডিয়ায়, কোর্টে, সব জায়গায় ওই আইন নিয়ে চর্চা হচ্ছে। আমরা বরাবরই বলে আসছি আইনত সকলেরই সমান সুরক্ষা পাওয়া উচিত।”

জম্মু-কাশ্মীর সম্পর্কে অ্যালিস বলেন, “ভারত সরকার সেখানে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে। ইন্টারনেট পরিষেবা আংশিক চালু হয়েছে।” মার্কিন দূত ও অন্যান্য বিদেশি কূটনীতিকদের যেভাবে কাশ্মীরে যেতে দেওয়া হয়েছে, তাকেও ‘সঠিক পদক্ষেপ’ বলে তিনি মনে করেন। এরপরে তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে বরাবর বলে এসেছি, যে রাজনৈতিক নেতাদের নামে নির্দিষ্ট অভিযোগ নেই তাঁদের দ্রুত মুক্তি দিন’।

সামগ্রিকভাবে ভারতের বিদেশনীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, একসময় এই দেশ আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে তারা বিশেষ প্রতিক্রিয়া জানাত না। কিন্তু গত দুই দশক ধরে তারা নিজেদের স্বার্থে মুখ খুলছে। ভারতের বিদেশনীতি হয়ে উঠেছে আক্রমণাত্মক।

গত ৫ আগস্ট সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মীরের ‘বিশেষ মর্যাদা’ কেড়ে নেয় মোদী সরকার। এরপর থেকেই সেখানে বন্ধ করে দেওয়া হয় ফোন, ইন্টারনেটসেবা। নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় যে কোনও বড় জমায়েতেও। ফলে পুরো পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে কাশ্মীর। দেশে বিদেশে শুরু হয় সমালোচনা।

জম্মু ও কাশ্মীরের পাশাপাশি সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে যেভাবে দেশ জুড়ে বিক্ষোভ চলছে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মার্কিন শীর্ষ কূটনীতিক অ্যালিস ওয়েলস।

Loading...