৩ দিন পর সীমান্তে নিহত দুই বাংলাদেশির লাশ ফেরত দিল বিএসএফ

১১:০১ অপরাহ্ণ | শনিবার, জানুয়ারি ২৫, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ
lash

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ নওগাঁর পোরশা দুয়ারপাল সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত দুই বাংলাদেশি সন্দিপ কুমার ও কামাল হোসনের লাশ ফেরত দিয়েছে বিএসএফ। শনিবার রাত ৯টায় উপজেলার সীমান্তের নিলমারী বীল ২৩১ (১০) এস পিলার এলাকায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবি’র কাছে লাশ দুটি হস্তান্তর করে তারা।

ভারতের সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর (বিএসএফ) পক্ষে বিএসএফ-১৫৯-এর কোম্পানী কমান্ডার জসি হর্ষি আনুষ্ঠানিকভাবে লাশ হস্তান্তর করেন। বাংলাদেশের পক্ষে লাশ গ্রহণ করেন বিজিবি-১৬ ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফুল ইসলাম।

এসময় বিজিবি-১৬ নিতপুর ক্যাম্পের কমান্ডার সুবেদার মোহাম্মদ আলী ও হাঁপানিয়া ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার মোকলেসুর রহমান, পোরশা থানার ওসি শাহিনুর রহমান, তদন্ত কর্মকর্তা নিরেন চন্দ্র উপস্থিত ছিলেন।

বিজিবি ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে মফিজুল ইসলাম, কামাল হোসেন ও রনজিত কুমারসহ ১০-১২ জনের একটি দল পোরশা দুয়ারপাল সীমান্ত এলাকার ২৩১/১০ (এস) মেইন পিলারের নীলমারী বিল দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে গরু আনতে প্রবেশ করে। তারা গরু নিয়ে বাংলাদেশে ফেরার পথে বৃহস্পতিবার ভোর রাতে ভারতের ক্যাদারীপাড়া ক্যাম্পের বিএসএফ জোয়ানরা গরু ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়েন।

এ সময় অন্যরা পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও তিন গরু ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়। এতে গরু ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের ২শ’ গজ অভ্যন্তরে তার লাশ পড়ে ছিল। আর গরু ব্যবসায়ী রনজিত কুমার ও কামাল আহমেদের লাশ ভারতের ৮শ’ গজ অভ্যন্তরে পড়ে ছিল। পরে দুপুর দেড়টার দিকে লাশ দুটি বিএসএফের সদস্যরা নিয়ে যান।

এ নিয়ে ঘটনার দিন বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দুয়ারপাল সীমান্তের শূন্যরেখায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএসএফের পক্ষ থেকে তিন বাংলাদেশিকে হত্যার কথা স্বীকার করা হয়। এছাড়া এমন ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তারা। বৈঠকে দুইজনের লাশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ফেরত দেয়ার অঙ্গীকার করে বিএসএফ সদস্যরা। আজ (শনিবার) তিনদিন পর বিএসএফ দুই বাংলাদেশির লাশ ফেরত দেয়।

পোরশা থানার ওসি শাহিনুর ইসলাম বলেন, বিজিবি থেকে লাশ দুটি থানায় হস্তান্তর করা হয়। লাশ দুটি নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।