চীন থেকে ফিরতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের নিবন্ধন শুরু

১২:৩৬ অপরাহ্ণ | বুধবার, জানুয়ারি ২৯, ২০২০ আন্তর্জাতিক
cha

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ চীনে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সেখান থেকে ফিরে আসতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের নিবন্ধন শুরু হয়েছে। এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে কতজন আসবেন তা নির্দিষ্ট হওয়ার পর সেখানে পাঠানোর জন্য বিমান নির্ধারণ করবে সরকার। তবে আগ্রহীদের দেশে ফেরানোর এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত চীনে যারা আছেন, তাদের সেখানকার সরকারের স্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে হবে।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে নিজের ফেসবুক পেজে এ বার্তা দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। চীন থেকে আগ্রহী বাংলাদেশিদের ফেরানোর সবশেষ আপডেট ও করণীয় জানিয়ে বার্তাটি দেন তিনি।

সোমবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকা চীনের উহানে আটকা পড়া বাংলাদেশিদের ফেরাতে প্রয়োজনে বিমানের বিশেষ ফ্লাইট পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে চীন সরকারকে চিঠি দেয়া হয়েছে। পরে চীনের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে জানানো হয়, করোনাভাইরাসের কারণে চীন থেকে বাংলাদেশিদের ফিরতে আরও ১৪ দিন লাগবে। ভাইরাসটির সংক্রমণ রোধের লক্ষ্যে ১৪ দিন পর্যন্ত উহানে কাউকে প্রবেশ করতে দেবে না স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন জানিয়ে ছিলেন, চীনের সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক বিধি নিষেধের কারণে তাদের আগামী ৬ ফেব্রুয়ারির আগে দেশে ফেরানো যাবে না।

এরইমধ্যে চীনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩২ জনে। আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ছয় হাজার। এ পর্যন্ত ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে অন্তত ১৬টি দেশে।

এর মধ্যে শ্রীলঙ্কা এবং জার্মানিতে প্রথমবারের মতো শনাক্ত করা হয়েছে ভাইরাসটি। এছাড়াও থাইল্যান্ডে নতুন করে ৬ জন এবং ফ্রান্সে এ পর্যন্ত ৪ জনের দেহে শনাক্ত হয়েছে করোনা।

এদিকে চার্টার্ড বা বিশেষ বিমানে করে নাগরিকদের চীনের উহানসহ দেশটির বিভিন্ন শহর থেকে ফিরিয়ে আনতে শুরু করেছে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ। ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে ব্রিটেন, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশ। অন্যদিকে ভাইরাসটির সংক্রমণ ঠেকাতে চীনের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছে হংকং।

এর মধ্যেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে চীন সফরে গেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রধান। ভাইরাসটি ব্যাপক আকারে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকলেও এখনি জরুরি অবস্থা জারির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশ এরইমধ্যে সর্বোচ্চ সতর্কতার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে। এজন্য দেশের সবকটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশাপাশি সমুদ্র ও স্থলবন্দরে স্ক্যানার বসানো হয়েছে। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া সব জেলা হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড করার জন্য সিভিল সার্জনদের চিঠি দেয়া হয়েছে।

গতকাল রাতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বিকেল পর্যন্ত চীন থেকে সরাসরি বাংলাদেশে এসেছেন ২ হাজার ৮৭০ জন যাত্রী। তাদের কেউ এই ভাইরাসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হননি।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ জানুয়ারি চীনের উহানে প্রথম এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সংখ্যা ১৩২ ছাড়িয়েছে।

Loading...