আবরার হত্যা: আসামি ইফতির ‘দুশ্চিন্তায়’ স্ট্রোক করে মারা গেলেন বাবা!

৭:৩৮ অপরাহ্ণ | রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২০ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর, রাজবাড়ী- বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার পাঁচ নম্বর আসামি ইফতি মোশাররফ সকালের বাবা স্ট্রোক করে মারা গেছেন।

ইফতির বাবা ফকির মোশাররফ হোসেন (৫৫) রাজবাড়ী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ধুনচি গ্রামের আটাশকলোনি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। ছেলের ‘দুশ্চিন্তায়’ অসুস্থ হয়ে গতকাল শনিবার গভীর রাতে তার মৃত্যু হয় বলে ইফতির পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ৩০ জানুয়ারি ঢাকার আদালতে ছেলে ইফতির শুনানির দিন ছিল। ওইদিন ছেলের শুনানিতে মোশাররফ হোসেন ঢাকায় গিয়েছিলেন। ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পর থেকেই ছেলের জন্য দুশ্চিন্তা করতে থাকেন তিনি। শনিবার রাতে হঠাৎ করে স্ট্রোক করেন তিনি।

প্রথমে তাকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে মারা যান মোশাররফ।

আজ রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টা ১০মিনিটের দিকে পৌর ১নং ওয়ার্ডের ২৮ কলনি পৌর কবরস্থানের সামনে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পড়ে ওই কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

এ সময় ফকির মোশাররফ হোসেনের পরিবারের সদস্য, জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানাজায় অংশ নেন। ফকির মোশাররফ হোসেন রাজবাড়ী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের ধুনচি গ্রামের আটাশ কলোনি এলাকার বাসিন্দা।

বাবার মৃত্যুর সংবাদ আবরাব হত্যাকারী সকাল জানে কীনা জানতে চাইলে কেউ কিছু জানাননি।

এদিকে স্বামীর মৃত্যুতে পাগলপ্রায় তার স্ত্রী রাবেয়া বেগম। রোববার দুপুরে ইফতিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বামীর জন্য বিলাপ করছেন আর বলছেন, ‘ছেলে জেলে, স্বামীও চলে গেল। এখন আমি কী করব।’

সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান এমএ খালেক বলেন, ফকির মোশাররফ অনেক ভালো মানুষ ছিলেন। ছেলের চিন্তায় আজ তিনি পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেলেন।

পৌর মেয়র মহম্মদ আলী চৌধুরী বলেন, আসলে সন্তান যত খারাপই হোক না কেন, বাবা তো তার জন্য চিন্তা করবেই। আজ সেই চিন্তা করতে করতে সকালের বাবা ফকির মোশাররফ মারা গেলেন। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন, তিনি যেন বেহেস্তবাসী হন।

ভাই আব্দুল হালিম বকুল বলেন, সকালের ছোট ভাই ৯ম শ্রেণির ছাত্র। সকালের বাবার টিউশনি টাকায় চলতো তাদের সংসার। হত্যা মামলায় ছেলে সকাল গ্রেফতারের পর থেকে সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় থাকতেন তিনি। ছেলের চিন্তায় স্ট্রোক করে মারা যান তিনি। সকালের বাবার জন্য আপনারা সবাই দোয়া করবেন এবং তাকে ক্ষমা করে দেবেন। ভাই চলে গেল, সকালও জেলে এখন সকালের মা ও ছোট ভাইয়ের কি হবে?

Loading...