‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানে ২ লক্ষ টাকার চেক পেয়ে কাদঁলো ঠাকুরগাঁওয়ের সুখি আক্তার

১২:৫১ অপরাহ্ণ | সোমবার, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২০ আলোচিত

রবিউল ইসলাম, নিউজ রুম এডিটর, সময়ের কণ্ঠস্বর- নাম সুখি আক্তার, ঠাকুরগাঁও জেলার সদর থানার গোয়ালপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী। নাম সুখি হলেও, জীবনে সুখ কি তা সে এখনো দেখেনি। বেঁচে থাকা আর শিক্ষা লাভের অদম্য ইচ্ছের জন্য তাকে প্রতিনিয়ত জীবন যুদ্ধ করে যেতে হচ্ছে। যা সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে।

জানা যায়, বাবা হামিদুল ইসলাম ও মা শিউলি বেগম তাদের প্রথম সন্তানের জন্মের পরই অনেক আশা করে আদরের বড় মেয়ের নাম রেখেছিলেন সুখি। কিন্তু আদরের মেয়েকে মাত্র ছয় বছর বয়সে রেখেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান বাবা।

এরপর থেকেই সংসারের হাল ধরেন বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মা শিউলি বেগম। অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে দুই বেলা খাবার জোগাতেন তিনি। কিন্তু বেশির ভাগ সময় শরীর অসুস্থ থাকায় আর কাজে যেতে পারছেন না শিউলি বেগম। নানি বৃদ্ধা, শ্রবণ প্রতিবন্ধী এবং বয়সের ভারে চলাফেরায় প্রায় অক্ষম। ছোট ভাইটিও ঠিকভাবে কথা বলতে পারেন না।

তাই বাধ্য হয়েই ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া অবস্থাতেই বাকপ্রতিবন্ধী মা শিউলি বেগম, নানি মরিয়ম বেগম ও ছয় বছর বয়সের ভাই সাইফুল্লার ভরণপোষণের দায়িত্ব নিয়ে সংসারের হাল ধরতে হয় সুখি আক্তারকে। সংসারে চার সদস্যের মুখে তিনবেলা খাবার জোগাড় করতে মেধাবী এই ছাত্রীকে লেখাপড়ার পাশাপাশি অন্যের বাড়িতে করতে হয় ঝিয়ের কাজ।

সুখি জানায়, প্রতিদিন পাশের একটি বাড়িতে কাজ করতে হয় সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত। এরপর বাড়িতে এসে পরিষ্কার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। বিকাল ৪টায় স্কুল থেকে ফিরে আবারো অন্য একটি বাড়িতে কাজে যেতে হয় তাকে। সেখান থেকে রাত ৯টায় বাসায় ফেরে সে। প্রতিদিন দুই বেলা দুটি বাড়িতে কাজ করে যে খাবার পায় তা নিয়ে বাড়িতে আসে সে। রাতে সেই খাবার সকলে মিলে ভাগ করে খেয়ে মধ্যরাতে পড়তে বসেন তিনি।

তবে শতকষ্টের পরও লেখাপড়া ছাড়তে চান না মেধাবী শিক্ষার্থী  সুখি আক্তার! ২০১৯ সালে জেএসসি পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন তিনি। সুখি বিশ্বাস করেন একদিন অনেক বড় হবেন, ভালো চাকরি করবেন। সেদিন সুখে থাকবে তার পরিবারও।

সম্প্রতি এসব দৃশ্য উঠে এসেছে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির মাধ্যমে। এবারের পর্বে এটিই ছিল বিশেষ আকর্ষণ। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় উঠেছে।

জানা যায়, হানিফ সংকেতের ইত্যাদির এবারের পর্ব ধারণ করা হয়েছিল হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। যা গত ৩১ জানুয়ারি (শুক্রবার) বিটিভিতে প্রচারিত হয়। স্কুলছাত্রী সুখিকে ইত্যাদির এই পর্বে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

বাবা হারা কন্যাটি যাতে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারেন সেজন্য ইত্যাদি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কেয়া কসমেটিকস এর সৌজন্যে তাকে দুই লাখ টাকা আর্থিক সহযোগিতা করা হয়।

ইত্যাদির নন্দিত উপস্থাপক হানিফ সংকেত দুই লাখ টাকার চেক সুখির হাতে তুলে দেন। চেক হাতে নিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন সুখি। এসময় হানিফ সংকেত ও ইত্যাদির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

পরে হানিফ সংকেত বলেন, এই সুখি আক্তারদের কিছুই নেই, আছে শিক্ষার প্রতি অনুরাগ, আছে পারিবারিক দায়বোধ। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে এরকম অসংখ্য সুখী আছে, যাদের একটুখানি সহায়তা দেবার কেউ নেই। সমাজের বিত্তবানেরা তাদের নিজ নিজ এলাকায় এমনি অসহায় সুখি আক্তারদের প্রতি একটু বাড়িয়ে দেবেন সাহায্যের হাত। দেখাবেন প্রকৃত সুখের মুখ।

Loading...