সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

থানায় নারীকে গণধর্ষণের প্রমাণ পায়নি পিবিআই

৪:১১ অপরাহ্ণ | সোমবার, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২০ খুলনা, দেশের খবর

সময়ের কণ্ঠস্বর, খুলনা- খুলনা জিআরপি থানায় এক নারীকে রাতভর আটকে রেখে পাঁচ পুলিশের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগের প্রমাণ পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে ওই নারীকে থানায় রেখে মারপিট করার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থাটি।

এই ধর্ষণ মামলায় আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করেছে পিবিআই। আজ সোমবার দুপুরে পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। পিবিআই খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিছুর রহমান সাংবাদিকদের সামনে এ তথ্য উপস্থাপন করেন।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘২০১৯ সালের ২ আগস্ট বেনাপোল-খুলনাগামী ট্রেনের মধ্যে ফুলতলা থেকে এক নারীকে পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার করে খুলনা জিআরপি থানায় নিয়ে আনা হয়। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর তাকে রাতে থানা হাজতে রাখা হয়। ওই রাতে খুলনা রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ ওসমান গনি পাঠানসহ পাঁচজন পুলিশ গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে ধর্ষণ ও নির্যাতন করে বলে ৩ আগস্ট আসামি নিজে আদালতে অভিযোগ করেন।’

‘এরপর আসামি নিজেই বাদী হয়ে সাবেক অফিসার ইনচার্জ ওসমান পাঠানসহ পাঁচ পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে ২০১৩ সালের নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনের ১৫ (১) ধারায় মামলা দায়ের করেন। আদালতের আদেশে ওসমান পাঠানসহ পাঁচ পুলিশের বিরুদ্ধে খুলনা রেলওয়ে থানায় মামলা রুজু হয়। তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে ভিকটিমের স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ প্রদান করেন।’

তিনি জানান, এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার (কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেল) ফিরোজ আহমেদ তদন্তকালে ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আসামি বাদী হয়ে ওসমান গনি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। যা রেলওয়ে থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয় এবং পিবিআই খুলনাকে তদন্তের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন আদালত।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘পিবিআই’র তদন্তকারী কর্মকর্তা শেখ আবু বকর মামলাটি তদন্তকালে ১ নম্বর আসামি রেলওয়ে থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ ওসমান গনি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ কর্তৃক মামলার বাদীকে ধর্ষণ ও যৌন পীড়নের অভিযোগের সত্যতা পাননি। এ বিষয়ে রেলওয়ে থানার চূড়ান্ত রিপোর্ট (নং-০১, তাং-০২/০২/২০২০, ধারা-নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(৩)/১০/৩০) আদালতে দাখিল করেন। তবে তদন্তে সাবেক অফিসার ইনচার্জ ওসমান গনি পাঠান কর্তৃক বাদীকে মারপিট করার সত্যতা পাওয়া যায়।’

তিনি বলেন, হাসপাতালে ওই নারীর মেডিকেল পরীক্ষায় ধর্ষণের কোন আলামত মেলেনি। এছাড়া তাকে ডিএনএ পরীক্ষা করাতে গেলেও তিনি রাজি হননি। সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদেও ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

এদিকে এর আগেও ওই নারী মোবাইল চুরির অভিযোগে খুলনার দৌলতপুর ও যশোর কোতয়ালী থানায় গ্রেফতার হয়েছিল। এছাড়া তাকে বিদেশে পাচার করা হয়েছে জানিয়ে তার মা ঢাকার পল্লবী থানায় অপহরণ মামলা করে। পরে এক লাখ টাকা নিয়ে আসামির সাথে সমঝোতা করে মামলা প্রত্যাহার করা হয়।