প্রথা ভেঙে যৌনকর্মীর জানাজা পড়লেন শত শত মানুষ

৫:৫০ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ
nana

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ দেশের বৃহত্তর যৌনপল্লী অবস্থিত রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায়। এই যৌনপল্লীতে কয়েক হাজার যৌনকর্মী রয়েছে। দৌলতদিয়ার এই যৌনপল্লীতে এতো দিন কোন যৌনকর্মীর মৃত্যু হলে পদ্মা নদীতে লাশ ডুবিয়ে দেওয়া হতো বলে। পরে পল্লীর পাশে একটি গোরস্থান হলেও সেখানে জানাযার নামাজ ও কাফনের কাপড় ছাড়াই যৌনকর্মীর মৃতদেহ মাটি চাপা দেওয়া হতো।

গত ২ ফেব্রুয়ারি রোববার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর একজন ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা প্রাক্তন যৌনকর্মী হামিদা বেগমের মৃত্যু হয়। প্রথা ভেঙে গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আশিকুর রহমান, পিপিএম (সেবা) মৃতের জানাজার নামাজ ও দাফন কাফনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ঐ দিন রাত ৯টায় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজার নামাজে ওসি ছাড়াও দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মন্ডল,ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল সহ স্থানীয়রা অংশ নেন।

হামিদা বেগমের জানাজা পড়াতে ইমামকে রাজী করাতে ভূমিকা রেখেছিলেন স্থানীয় পুলিশ প্রধান আশিকুর রহমান। তাকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ‘ইমাম প্রথমে জানাজা পড়াতে রাজী হচ্ছিলেন না। আমি তাকে বললাম, ইসলামে কি কোথাও নির্দেশ আছে যে যৌনকর্মীর জানাজা পড়ানো নিষেধ। আমার এই প্রশ্নের কোনো উত্তর ইমাম সাহেবের ছিলনা।’ পরে ঐ ইমাম জানাজা পড়াতে রাজী হন।

আশিকুর রহমান বলেন, ‘অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়েছিল সেদিন। জানাজায় অংশ দিতে অনেক মানুষ অনেক রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলেন। যৌনকর্মীদের চোখে পানি টলটল করছিল।’

ঝুমুর বেগম নামে স্থানীয় যৌনকর্মীদের একজন নেত্রী হামিদা বেগমের জানাজা পড়ানোর দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন।

মৃত্যুর পর যৌনকর্মীদের করুণ পরিণতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি কাউকে দাফন করতে যেতাম, গ্রামবাসীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের তাড়া করতো।’

প্রয়াত হামিদা বেগমের মেয়ে লক্ষ্মী, যিনি নিজেও একজন যৌনকর্মী বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমি স্বপ্নেও ভাবিনি যে এত সম্মানের সাথে আমার মায়ের শেষ বিদায় হবে। আমাকে মাকে মানুষ হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে’ বলেন তিনি।

দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মন্ডল বলেন,দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে যারা রয়েছে তারা তো আমাদের দেশেরই মানুষ। তারা যে কাজটা করছে সেটা তাদের পেশা। তারাও আমাদের মত অধিকার রাখে বেঁচে থাকার। মারা গেলে এখন ধর্মীয়ভাবে জানাজার নামাজ ও দাফন হচ্ছে এটা অনেক ভালো উদ্যোগ।

Loading...