• আজ ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

তাহিরপুরের শিমুল বাগানে সৌন্দর্য ও প্রকৃতি প্রেমিদের মিলন মেলা

১০:১২ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০ ফিচার

জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি- মৃদুমন্দ বাতাসে ভেসে আসা ফুলের গন্ধে বসন্ত জানিয়ে দিচ্ছে, সত্যি সত্যি সে ঋতুর রাজা। বসন্ত তারুণ্যেরই ঋতু। স্বাগত বসন্ত। প্রাণ খুলে তাই যেন কবির ভাষায় বলা যায়, ‘আহা আজি এ বসন্তে/ এতো ফুল ফোটে/এতো বাঁশি বাজে/এতো পাখি গায়’। বাঙালির জীবনে বসন্তের উপস্থিতি অনাদিকাল থেকেই।

কবিতা, গান, নৃত্য আর চিত্রকলায় আছে বসন্তের বন্দনা। ষড়ঋতুর দেশে আবহমান গ্রামবাংলার প্রকৃতিতেই মূলত বসন্ত জানান দেয় তার আগমনী বার্তায়। গ্রামের মেঠোপথ, নদীর পাড়, গাছ, মাঠভরা ফসলের ক্ষেত বসন্তের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। তেমনি এবারও মেঘালয় পাহাড় ও যাদুকাট নদীর তীরে প্রাকৃতির অপরুপ এক অনবদ্র কাব্যবিক ভাবনায় প্রান্তর দেশের বৃহত্তর জয়নাল আবেদিন শিমুল বাগানেও ফুটেছে শিমুল ফুল।

প্রতি বছরের মতই শীতের শেষে ফাল্গুনের আবাশে প্রয়াত বৃক্ষপ্রেমী জয়নাল আবেদিনের হাতে লাগানো সারিবদ্ধভাবে সাজানো ৩ হাজারের অধিক শিমুল গাছে সবুজের আবৃত্ত বেধ করে রক্তিম লাল শিমুল ফুল ফুটতে শুরু করে। আর ইতিমধ্যে প্রতিটি গাছের ডালে ডালে শিমুল ফুলের পাপড়ি মেলেছে। যার ফলে বাগানটাকে দূর থেকে দেখলে মনে হয় লাল ফুলের গালিছা বিছিয়ে ডাকছে দেশ-বিদেশের প্রকৃতি প্রেমী, পর্যটক ও সৌন্দর্য পিপাসুদের।

শিমুল বাগানে প্রকৃতি প্রেমী, পর্যটক ও সৌন্দর্য পিপাসুদের মিলন মেলায় পরিনত হয়েছে। এমনটাই মনে করছেন বাগান মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দাগন। আর আগত দেশ-বিদেশের পর্যটক, দর্শনার্থী ও প্রকৃতি প্রেমীদের নিরাপত্তা সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যানার্জি।

তিনি জানান, আগত সকল পর্যটকদের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্নক সহযোগীতা করা হবে। সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ও উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মাঝামাঝি স্থান মানিগাওঁ গ্রাম সংলগ্ন শিমুল বাগানটির অবস্থান।

এদিকে, আগতদের সুবিধার্ত্বে সম্প্রতি বাগানের মালিকদের পক্ষ থেকে একটি খাবার হোটেল নির্মাণ এবং বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে করে আগত পর্যটক ও দর্শনার্থীরা উপকৃত হবে বলে জানান, শিমুল বাগানের প্রতিষ্ঠাতা জয়নাল আবেদিনের ছেলে সাবেক বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আপ্তব উদ্দিন।

তিনি বলেন, বাবার রেখে যাওয়া এই দৃষ্টি নন্দন শিমুল বাগানটি দেখাশুনা করার পাশাপাশি আরো কি ভাবে ভাল রাখা যায় সৌন্দর্য ভাড়ানো যায় সে চেষ্টা আছে। এছাড়াও বাগানে আগতদের খাবার সুব্যবস্থার জন্য হোটেল,বসার স্থান নির্মাণ করা হয়েছে। যাতে করে আগতরা কষ্ট করতে না হয়। এছাড়াও এই বাগানটিকে ঘিরে পর্যটকদের স্বার্থে ও জেলার একটি আত্নর্জাতিক মানের রিসোর্স করা যায় সে চেষ্টাও আমরা পারিবারিকভাবে করছি।

পর্যটক আবুল কাশেম বলেন, এই বাগানটি দেখতে অসাধারণ, এত বড় শিমুল বাগান দেশের কোথাও আর দেখে নি। যার ফলে বাগানের ভিতরটায় গেলে এক অন্য রখম ভাল লাগার জন্ম নেয়। হারিয়ে যায় অন্য এক অজানা ভুবনে। নদী, পাহাড় আর শিমুল বাগান প্রকৃতির এক অপূর্ব মিলন মেলা এখানে। শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১৮ বছরের ব্যবধানে শিমুল চারা এখন ডালপালা পুষ্প পল্ববে এক অতুলনীয় দৃষ্টি নন্দত বাগানে পরিনত হয়েছে। শুধু তাই নয় এই বাগানে বিভিন্ন ছবি, নাটক ও গানের মিউজিক ভিডিওর শুটিং হচ্ছে।

বসন্তের এ দিনে কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভাষায় ‘ফুল ফুটুক আর না ফুটুক/আজ বসন্তৃ। ঋতুরাজ বসন্তের ফুল ফোটানোর পুলকিত সময় আজ। মাতাল হাওয়া, উড়াল মৌমাছিদের গুঞ্জরন, গাছের কচিপাতা আর কোকিলের কুহুতানে জেগে ওঠার দিন আজ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে আধুনিককালের বাউল কবির মনকেও বারবার দুলিয়েছে ঋতুরাজ বসন্ত। চোখ বুজলেও টের পাওয়া যায় এসব দৃশ্যপট। তবে নগর জীবনেও বসন্ত ছন্দ তোলে মৃদু হিল্লোলে। কংক্রিটের নগরীতে কোকিলের কুহুস্বর ধ্বনিত হয় ফাগুনের আগমন সামনে রেখে।

ফাগুন হাওয়ার দোল লেগেছে বাংলার নিসর্গ প্রকৃতিতেও। ফুলে ফুলে রঙিন হয়ে উঠছে প্রকৃতির সবুজ অঙ্গন। মাঘের শেষ দিক থেকেই গাছে গাছে ফুটছে আমের মুকুল। শীতে খোলসে ঢুকে থাকা কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, নাগলিঙ্গম এখন অলৌকিক স্পর্শে জেগে উঠেছে।

এই বাগানে বেড়াতে আসা স্থানীয় সোহেল আহমেদ সাজু, অনেকেই বলেন,দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীরা শিমুল বাগানে শীত,বর্ষায় সব সময় দল বেঁধে ছুঠে আসে সৌর্ন্দয উপভোগ করতে। ফলে হাওর,পাহাড়,নদীর পাশেই শিমুল বাগান সব মিলে মিশে মানিগাঁও গ্রামটি গড়ে উঠেছে প্রাকৃতির কাব্যবিক ভাবনায় প্রান্তরে।

জানাযায়, ২০০২ সালে বাদাঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত জয়নাল আবেদীন উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মানিগাঁও গ্রামে বালু আবরিত ৯৮বিঘা অনাবাদী জমি ক্রয় করে বানিজ্যিক ভাবেই এই শিমুল বাগান তৈরী করার জন্য তিনি প্রাথমিক ভাবে চিন্তার করেন। এই চিন্তা থেকেই তিনি এবাগানে সারিবদ্ধ ভাবে ৩হাজারের অধিক শিমুল চারা রোপন করেন।

কিভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে সরাসারি বিভিন্ন ধরেনের বাসে সুনামগঞ্জ। সুনামগঞ্জ আব্দুল জহুর সেতু থেকে সিএনজি বা মটর সাইকেল জন প্রতি একশত টাকা লাউড়েরগড় বাজার। বাজার পার হয়ে যাদুকাটা নদী আর নদী পার হলেই শিমুল বাগান। আবার সুনামগঞ্জ আব্দুল জহুর সেতু পাড় হলে বিভিন্ন ধরনের গাড়ি দিয়ে তাহিরপুর উপজেলা এরপর বাদাঘাট ইউনিয়নের বাদাঘাট বাজার হয়ে শিমুল বাগান।

Loading...