সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ২৬শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বসন্ত এসে গেছে……..

২:৩৪ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০ ফিচার
bosonto

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ আজ পহেলা ফাল্গুন। উন্মনা হাওয়ায় মনে দোলা লাগানো বসন্তের প্রথম দিন। প্রকৃতিতে তার ছোঁয়া সবখানে। প্রকৃতি সেজে উঠছে নানা রঙে। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে প্রকৃতির মতো মানুষের মনেও ছড়িয়ে পড়ে বসন্তের রঙ।

বসন্তকে বরণ করে নিতে তাই প্রকৃতির রঙে রঙ মিলিয়ে সবাই মেতে ওঠে উৎসবে। ‘ফুল ফুটুক-আর নাই বা ফুটুক-আজ বসন্ত।’ বাঙালির প্রিয় কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় বসন্তকে প্রতিভাত করে গেছেন এই একটি বাক্যেই।

দখিনা হাওয়ায় অকারণ শিহরণ, ঝরা পাতার অবগুণ্ঠন ভুলে সুশোভিত বৃক্ষরাজিতে নতুন পত্রপল্লবে বরণ, পলাশবনে মৌটুসী আর বুলবুলির আকণ্ঠ তৃপ্ত অবগাহন, রাঙা নেশা রঙে মেশা শিমুল কেশরে পাখপাখালির বিচরণ। এ নিয়েই বসন্তের দিন।

বাঁশরীলতা, কাঞ্চন, আর কাঠগোলাপের মায়ায় দূর থেকে ভেসে আসা কুহুতানে হঠাৎ মন উচাটন, বসন্ত কখনো মুছে যাওয়া দিনের অস্থির মনের হাতছানি দেয়া পিছুটান, আবার কখনো কাছে বা দূরে জমিয়ে রাখা এক ফালি অভিমান। বসন্ত তাই মিলনে মধুর, বিরহে বিধুর, বিচ্ছেদে করুণ আবার উদাসী মনের গুনগুন।

বসন্ত নিয়ে লেকেরা বলছেন, বিভিন্ন ধরনের ফুল ফোটে। আবহাওয়া পরিবর্তন হয়। সব রকমের ফুল ফোটে দেখতে ভালো লাগে। বসন্ত ঋতুতে প্রকৃতি সাজিয়ে ওঠে লাল, নীল হলুদ আরও অনেক রঙে।

বসন্তে প্রকৃতির এ নবরূপ নগরজীবনেও আনে নতুন প্রাণ আর সুরের কলতান।

বাংলা পঞ্জিকা বর্ষের শেষ ঋতু বসন্তের প্রথম দিনকে বাঙালি পালন করে ‘পহেলা ফাল্গুন-বসন্ত উৎসব’ হিসেবে। বাঙালির নিজস্ব সার্বজনীন প্রাণের উৎসবে এ উৎসব এখন গোটা বাঙালির কাছে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে। বাংলায় বসন্ত উৎসব এখন প্রাণের উৎসবে পরিণত হলেও এর শুরুর একটা ঐতিহ্যময় ইতিহাস আছে, যা অনেকের অজানা।

মোগল সম্রাট আকবর প্রথম বাংলা নববর্ষ গণনা শুরু করেন ১৫৮৫ সালে। নতুন বছরকে কেন্দ্র করে ১৪টি উৎসবের প্রবর্তন করেন তিনি। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বসন্ত উৎসব। তখন অবশ্য ঋতুর নাম এবং উৎসবের ধরনটা এখনকার মতো ছিল না। তাই পহেলা ফাল্গুন বা বসন্ত উৎসব কেবল উৎসবে মেতে ওঠার সময় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার গৌরবময় ঐতিহ্য, বাঙালিসত্তা। সে ঐতিহ্যের ইতিহাসকে ধরে রাখতে পারলেই বসন্ত উৎসবের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রজন্ম ছড়িয়ে দিতে পারবে বাঙালি চেতনাকে।

বঙ্গাব্দ ১৪০১ সাল থেকে প্রথম ‘বসন্ত উৎসব’ উদযাপন করার রীতি চালু হয়। সেই থেকে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ বসন্ত উৎসব আয়োজন করে আসছে। এছাড়া তরুণ-তরুণীরা বাংলা একাডেমি আয়োজিত একুশের বইমেলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, শাহবাগ, চারুকলা চত্বর, পাবলিক লাইব্রেরি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ধানমন্ডি লেক, বলধা গার্ডেন মাতিয়ে রাখবে সারাদিন। আজ দিনভর চলবে তাদের বসন্তের উচ্ছ্বাস প্রকাশ। ফোন, ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলবে বসন্তের শুভেচ্ছা বিনিময়। আজ নানা আয়োজনে বসন্তকে বরণ করবে বাঙালি।

বাংলা ১৪০১ সাল থেকে বসন্ত দিবস উদযাপন করা হতো ১৩ ফেব্রুয়ারি। তবে বর্ষপঞ্জিকা সংস্কারের কারণে এবারই প্রথম ১৪ ফেব্রুয়ারি পালিত হবে ভালোবাসা দিবস।

Loading...