সংবাদ শিরোনাম
করোনায় বিশ্বে প্রাণহানি ৬৪ হাজার ছাড়াল, আক্রান্ত ১২ লাখের বেশি | শাহজাদপুরে করোনা মোকাবেলায় জনপ্রতিনিধিরা নিস্ক্রিয়, আসছেনা সুফল | করোনা সংক্রমণ আতঙ্কের মধ্যেও চলছে ইয়াবা ব্যবসা! | দেবীগঞ্জে চিকিৎসকদের জন্য পিপিই দিলো ওয়ালটন | যুক্তরাজ্যে ৪৩১৩ জনের প্রাণ কেড়ে নিল করোনা | মৃত্যুপুরী ইতালিতে আরও ৬৮১ জনের মৃত্যু | রাজধানীর কারওয়ান বাজারের কলাপট্টিতে আগুন | করোনা মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা রোববার | ১১ই এপ্রিল পর্যন্ত পোশাক কারখানা বন্ধ রাখার আহ্বান বিজিএমইএ সভাপতির | শরীয়তপুরে জ্বর-মাথা ব্যথা নিয়ে এক নারীর মৃত্যু, ন‌ড়িয়ায় ক‌রোনা আক্রান্ত হ‌য়ে বৃ‌দ্ধের মৃত্যু |
  • আজ ২২শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পড়ালেখা করে সরকারি কর্মকর্তা হতে চায় শারীরিক প্রতিবন্ধী তুহিন

৬:০২ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০ দেশের খবর, ময়মনসিংহ

মইনুল হোসেন প্লাবন, শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুর সদর উপজেলার চরমোচারিয়া ইউনিয়নের মুকসুদপুর গ্রামের আলাল উদ্দিন ও মমতাজ বেগম দম্পতির ছেলে মৌত্তাছিম মিল্লা তুহিন। তার ২টি হাতই বাঁকা ও শক্তিহীন। ঘাড়ও খানিকটা বাঁকা।

২ পা সোজা করে দাঁড়াতে পারে না সে। হাত অনেকটাই অচল। সে ‘সেরিব্রাল পালসি’ রোগে আক্রান্ত হয়েছে বিধায় তার পুরো শরীরই প্রায় অবশ। কিন্তু এ প্রতিবন্ধিকতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। মনের জোরে সে এ বছর সদর উপজেলার ধাতিয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। শেরপুর শহরের আইডিয়াল প্রিপারেটরি অ্যান্ড হাইস্কুল উপ-কেন্দ্রের একটি কক্ষে একজন শ্রুতলেখকের সহযোগিতায় পরীক্ষা দিচ্ছে তুহিন।

জানা যায়, পড়ালেখার প্রতি প্রবল আগ্রহ তুহিনের। শ্রুতলেখকের সাহায্য নিয়ে এত দূর পর্যন্ত এসেছে সে। তার মা-বাবাও হাল ছাড়েননি। ৬ বছর বয়সে ছেলেকে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করিয়ে দেন মাঝপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ২০১৪ সালে জিপিএ-৩.০৮ পেয়ে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় পাস করে সে। এরপর ভর্তি হয় ধাতিয়াপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ে। ২০১৭ সালে জিপিএ-৪.২৯ পেয়ে জেএসসি পরীক্ষায় পাস করে। একই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে তুহিন। মৌত্তাছিমের বাবা আলাল উদ্দিন একজন কৃষিজীবী আর মা মমতাজ ধাতিয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের আয়া। মায়ের হাত ধরেই বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা করেছে সে।

তুহিনের পিতা আলাল উদ্দিন বলেন, তার ৫ ছেলেমেয়ের মধ্যে তুহিন সবার ছোট। জন্ম থেকেই সে শারীরিক প্রতিবন্ধী। তার কথাও অস্পষ্ট। অনেক চিকিৎসা করিয়েও লাভ হয়নি। তাার অন্য ছেলে মেয়েরা পড়ালেখা করেছে। তাই তুহিনকে অন্ধকারে রাখতে চাননি তিনি। শারীরিক প্রতিবন্ধী বলে সে যেন সমাজের বোঝা না হয়, এ জন্য আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পড়ালেখা করাচ্ছেন তাকে।

সোমবার পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, শ্রুতলেখনপদ্ধতিতে এসএসসি পরীক্ষা দিতে তুহিনকে সহযোগিতা করছে তারই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী খাইরুল ইসলাম। তুহিন প্রশ্নের উত্তর বলার পর তার সহযোগী খাইরুল খাতায় উত্তর লিখে দিচ্ছে। এ জন্য ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড থেকে অনুমতি নিতে হয়েছে। প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী হিসেবে নির্ধারিত সময় ৩ ঘণ্টার চেয়ে ২০ মিনিট বেশি পায় সে।

পরীক্ষা শেষে কথা হয় তুহিনের সাথে। পরীক্ষার কেমন হয়েছে, বড় হয়ে কী হতে চাও? ওইসব প্রশ্নে তুহিন জানায়, পরীক্ষা ভালো হয়েছে এবং ভালো ফলাফলের আশা করছে সে। পড়ালেখা করে স্বনির্ভর জীবন যাপন করতে ও সরকারি কর্মকর্তা হতে চায় তুহিন।

ধাতিয়াপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা জানান, শারীরিক প্রতিবন্ধী মৌত্তাছিম মিল্লা তুহিন মেধাবী শিক্ষার্থী। তার পড়ালেখার ব্যাপারে বিদ্যালয় থেকে সবসময় সহযোগিতা করা হয়েছে। সরকারি পর্যায় থেকে তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হলে, সে পরবর্তী সময়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে নিজেকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে বলে জানান প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা।

Loading...