চরমোনাই অভিমুখে লাখো মুসল্লী

৯:৩৪ অপরাহ্ণ | সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০ দেশের খবর

সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: ২৬, ২৭,২৮ ফেব্রুয়ারী বুধবার থেকে বরিশালের চরমোনাই জামিয়া রশিদিয়া আহছানাবাদ মাদ্রাসা সংলগ্ন ময়দানে শুরু হচ্ছে ঐতিহাসিক বার্ষিক মাহফিল।

শুক্রবার হবে বৃহৎ জুমার নামাজ।

২৯ তারিখ শনিবার সকালে আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে তিন দিনব্যাপী এ মাহফিল। বুধবার মাহফিল শুরু হলেও সোমবার থেকেই নদী পথে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লঞ্চ কাফেলা আসতে শুরু করেছে। সড়ক পথেও যানবাহন আসছে।

চরমোনাই বিশ্বাসের হাট সেতু সংলগ্ন যানবাহন রাখার বিশাল মাঠ রাখা হয়েছে। মাহফিল শুরুর দুই দিন আগেই ১ নম্বর মাঠ ও ২ নম্বর মাঠ ভরে যায়। মাহফিল শুরু হবার আগের দিন ৫ টি বৃহৎ ময়দান কানায় কানায় ভরপুর হয়ে যায়। মানুষ আশপাশের ঝোপ ঝাড়, বাড়িঘরের উঠানে, পথে যেখানেই যায়গা পান তাবু টানিয়ে অবস্থান নেন।

বুধবার বাদ যোহর চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম-এর উদ্বোধনী বয়ানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।

মাহফিলে দেশে-বিদেশের শীর্ষ আলেমরা এবং দেশের বাইরে থেকেও বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশগ্রহণ করে থাকেন । বিশ্ব ইজতেমার পর এটিই দেশের সবচেয়ে বৃহৎ জনসমাগম হয়। প্রতিবছর মাহফিলের পরিধি বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির তত্বাবধানে এই মাহফিলটি হয়।

চরমোনাই মাহফিলকে কেন্দ্র করে কীর্তণখোলা নদীর তীরে ৫ টি ময়দানে প্রায় ১০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা ও ১০০ একর জায়গাজুড়ে চটের সামিয়ানা টানানো হয়ে হয়েছে। মাহফিল উপলক্ষে চরমোনাই সহ সন্নিহিত এলাকায় আগত মুসুল্লীয়ানদের অবস্থান, অজু-গোসল ও জামাতে নামাজ আদায়ের সব এন্তেজাম সম্পন্ন করার কাজ চলছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহে রয়েছে বড় মেগাওয়াট সম্পন্ন বড় কয়েকটি নিজস্ব জেনারেটর। চরমোনাই জামিয়া রশিদিয়া আহছানাবাদ মাদ্রাসায় তৈরি হয় অস্থায়ী হাসপাতাল ও ঔষধ বিভাগ। চরমোনাই অনুসারী ডাক্তারগন স্বেচ্ছায় চিকিৎসা সেবা দেন।

ময়দানে চট টানানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপত্তা, মাইক, লাইট, পানি সহ বিভিন্ন বিভাগের প্রস্তুত রয়েছে সবমিলিয়ে প্রায় ২০ হাজারের মত স্বেচ্ছাসেবক। নিরাপত্তার জন্য নিজস্ব চৌকস স্বেচ্ছাসেবক টিম রয়েছে।একেক টি টিমে দায়িত্ব রয়েছেন একজন করে কমান্ডার, ডেপুটি জোন কমান্ডার। কেউ অবসরপ্রাপ্ত সেনা, পুলিশ, বিভিন্ন বাহিনীতে কাজ অভিজ্ঞতা ছিল এমন লোকজনের সাথে অন্যদের সমন্বয় করে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়। যে যেই কাজে দক্ষ তাকে সেই কাজেই দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বয়ান শুনার জন্য ৫ টি মাঠে ১৫ হাজারের অধিক মাইক লাগানো হবে। চরমোনাই মাহফিলে পানির ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে ও টয়লেটের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। লাইট, মাইক, পানি, টেলিফোন এস বিভাগে আলাদা (L.M.T) স্বেচ্ছাসেবক টিম থাকে। আর্থিক নিরাপত্তার জন্য ব্যাংকের শাখা খোলা হয়েছে। মুসল্লীগনের মোবাইল নেটওয়ার্ক এর জন্য পাঁচটি অস্থায়ী টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে।

সঠিক ন্যয্য মুল্যে দোকানে জিনিসপত্র বিক্রি করতে হবে। পঁচা বাঁশি খাবার বিক্রি নিষিদ্ধ। নামাজের সময় দোকান বন্ধ থাকবে। বেহুদা জিনিস সিগারেট সহ এমন সব বিক্রি নিষিদ্ধ। মনিটরিং এর জন্য বিশেষ চৌকস নিজস্ব গোয়েন্দা টিম থাকবে। ধরা পড়লে দোকান বন্ধ ও জরিমানা।

Loading...