শোক-শ্রদ্ধায় পিলখানা শহীদদের স্মরণ

১১:২৭ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- বাংলাদেশের ইতিহাসে জঘন্যতম অধ্যায় পিলখানা হত্যাকাণ্ড। ২০০৯ সালের এইদিনে ঢাকার পিলখানায় বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদরদফতরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারির পিলখানা ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারান ৫৭ জন সেনাসদস্য।

নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ১১ বছর পার হলেও এ ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের চোখের পানি শুকায়নি। হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জন এখনো তাদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। তাই সকাল থেকেই বনানী সামরিক কবরস্থানে জড়ো হয়েছেন পিলখানার ঘটনায় নিহত সেনা সদস্যের পরিবার। শোক, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় তারা স্মরণ করেন না-ফেরার দেশে চলে যাওয়া স্বজনদের। গভীর মমতায় ফুল ছড়িয়ে দেন তাদের শেষ স্মৃতিচিহ্নের ওপর।

শুধ স্বজনরাই নন, ‘পিলখানা হত্যা দিবসে’ নিহত সামরিক সদস্যদের স্মরণে তাদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। মঙ্গলবার সকালে বনানী সামরিক কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।

এর আগে, রাষ্ট্রপতির পক্ষে রাষ্ট্রপতি সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম শামিম উজ্জামান এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমেদ চৌধুরি নিহতদের কবরে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।

এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী ভারপ্রাপ্ত প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শাহিন ইকবাল, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত এবং বিজিবির মহাপরিচালক মোহাম্মদ সাফিনুল ইসলাম পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এরপর শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য এক মিনিট নীরবতা পালন শেষে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালটা শুরু হয়েছিল বার্ষিক বিশেষ আয়োজন দিয়ে। কিন্তু শেষ হলো রক্ত, লাশ আর বারুদের গন্ধে। সেদিন পিলখানায় বিডিআরের (বর্তমানে বিজিবি) বিদ্রোহী জওয়ানেরা নৃশংসভাবে হত্যা করেন ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনের। হত্যাযজ্ঞ আর বীভৎসতায় বিমূঢ় হয়ে পড়েছিল গোটা জাতি। আজ সেই মর্মন্তুদ ঘটনার ১১ বছর পূর্ণ হলো।

দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা এ হত্যাকাণ্ডের পর দুটি মামলা করা হয়- সেনা কর্মকর্তাদের নিহতের ঘটনায় দণ্ডবিধি আইনে করা হয় হত্যা মামলা। অপর মামলাটি হয় বিস্ফোরক আইনে। এর মধ্যে হত্যা মামলার বিচারকাজ শেষ। ইতোমধ্যে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছেন, তার পূর্ণাঙ্গ কপিও প্রকাশ হয়েছে। রায়ে সেদিনের বিদ্রোহে নেতৃত্বদানকারী ডিএডি তৌহিদসহ (মৃত) ১৩৯ আসামির ফাঁসি, ১৮৫ জনের যাবজ্জীবন ছাড়াও ২০০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এখন সে রায় কার্যকরের অপেক্ষায় আছেন সেদিন প্রাণে বেঁচে যাওয়া কর্মকর্তারা এবং যেসব কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছিল তাদের স্বজনরা। রায় কার্যকর হলে তা হবে তাদের চিরকালীন সে ক্ষতে সান্ত্বনার প্রলেপের মতো। তাই এতদিন পেরিয়ে এসে আজও চলছে সেই প্রতীক্ষা। অন্যদিকে ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে করা মামলাটির বিচারকাজ এখনো শেষ হয়নি।

এ ঘটনায় এরই মধ্যে বাহিনীর নিজস্ব আইনে করা মামলার বিচার শেষ হয়েছে। এ ছাড়া পিলখানায় নারকীয় হত্যার ঘটনায় করা মামলায় নিম্নআদালত ১৫২ জনের মৃত্যুদ- দেন। ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টে আপিলের রায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যুদ-ের রায় বহাল রাখা হয়।

সর্বশেষ গত ৮ জানুয়ারি বিডিআর হত্যা মামলার ডেথরেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের ওপর দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। রায়ের দৈর্ঘ্য ও মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামির সংখ্যার দিক থেকে এটিই বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ রায়। এই রায়ে ওই বিদ্রোহে নেতৃত্বদানকারী ডিএডি তৌহিদসহ ১৩৯ জনকে ফাঁসি, ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন ছাড়াও ২০০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়; খালাস দেওয়া হয় ৭৯ জনকে।

Loading...