সংবাদ শিরোনাম
যুক্তরাজ্যে ৪৩১৩ জনের প্রাণ কেড়ে নিল করোনা | মৃত্যুপুরী ইতালিতে আরও ৬৮১ জনের মৃত্যু | রাজধানীর কারওয়ান বাজারের কলাপট্টিতে আগুন | করোনা মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা রোববার | ১১ই এপ্রিল পর্যন্ত পোশাক কারখানা বন্ধ রাখার আহ্বান বিজিএমইএ সভাপতির | শরীয়তপুরে জ্বর-মাথা ব্যথা নিয়ে এক নারীর মৃত্যু, ন‌ড়িয়ায় ক‌রোনা আক্রান্ত হ‌য়ে বৃ‌দ্ধের মৃত্যু | করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ৮৫০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক | সৈয়দপুরে জীবাণুনাশক স্প্রে করল সিএসআর উইন্ডো বাংলাদেশ | প্রতিদিন ১০ হাজার মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করলেন গাঙ্গুলী | করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১ হাজার, আক্রান্ত সাড়ে ১১ লাখ |
  • আজ ২২শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

দিল্লিতে মসজিদে আগুন, মাইক ভেঙে মিনারে তুললো হনুমানের পতাকা

১০:২৪ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম বারের মতো ভারত সফরের মধ্যেই নাগরিকত্ব আইনের পক্ষে-বিপক্ষে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছে রাজধানী নয়াদিল্লি। বিক্ষোভ-সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে মঙ্গলবার সংঘর্ষ চলাকালে নয়াদিল্লির একটি প্রাচীন মসজিদে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। ‘জয় শ্রী রাম’ এবং ‘হিন্দুওকা হিন্দুস্তান’ স্লোগান দিয়ে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটায়।

ভারতীয় একটি ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার একদল উন্মত্ত জনতা অশক নগর এলাকার একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয়। যা ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে সেখানে দেখা গেছে, একদল লোক একটি মসজিদের মিনারে উঠছে এবং সেখানে একটি পতাকা স্থাপনের চেষ্টা করছে। তারা মসজিদের মিনারে উঠে মাইক ভেঙে ফেলে দেয় এবং সেখানে হনুমানের ছবি সম্বলিত একটি পতাকা উত্তোলন করে। কিছুক্ষণ পরেই আরও এক ব্যক্তি একটি ভারতীয় পতাকা নিয়ে আসে এবং সেটাও উত্তোলন করা হয়। ওই এলাকার দোকানগুলোতেও হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

স্থানীয় একটি হাসপাতালের কর্মকর্তা রাজেশ কালরা এএফপিকে বলেন, মঙ্গলবার ৩১ জনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অনিল মিত্তল নামে এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সহিংসতায় ১৫০ জনের মতো আহত হয়েছেন।

রোববার উত্তর দিল্লির মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অন্তত তিনটি স্থানে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। নাগরিকত্ব আইনের বিরোধী ও সমর্থকদের সংঘর্ষের সময় পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ, লাঠি চার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ সময় দুই পক্ষ পরস্পরকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর নিক্ষেপ করে।

এদিকে মঙ্গলবার রাতে  দিল্লির জাফরাবাদ, মৌজপুর, চাঁদবাগ, কারওয়াল নগরে ১৪৪ ধারা জারি করে বিক্ষোভকারীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েনের দাবি উঠেছিল। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, যথেষ্ট সিআরপি নামানো হয়েছে। এখনই সেনা ডাকার দরকার নেই।

সোমবারের পর মঙ্গলবারও দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মৌজপুরে এদিন এক সাংবাদিক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত চার সাংবাদিক। অনেক সাংবাদিকের কাছে ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে তাদের হেনস্থা করেছেন বিজেপির নেতাকর্মীরা।

পরিস্থিতি সামলাতে গোটা উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে আগামী এক মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে পুলিশ। দিল্লি-সংলগ্ন উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদেও ১৪৪ ধারা জারি হয়। নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয় গাজিয়াবাদ-দিল্লির সীমানায় যাতায়াতের উপর। টানা বন্ধ দু’দিন উত্তর-পূর্ব দিল্লির পাঁচটি মেট্রো স্টেশন। সংঘর্ষের ছবি না-দেখানোর পরামর্শ দেওয়া হয় বেসরকারি চ্যানেলগুলোকে।

কিন্তু অশান্তি থেমে থাকেনি। সংঘর্ষ পাথর-যুদ্ধ, গুলি, ভিড় জমিয়ে মারধর, অসংখ্য বাড়ি-দোকানে আগুন লাগানো, লুঠতরাজ— কিছুই বাকি থাকেনি। উত্তর-পূর্ব দিল্লির আকাশে সারা দিনই কালো ধোঁয়া পাকিয়ে পাকিয়ে উঠেছে। আগুন নেভাতে গিয়ে দমকল কর্মীরাই আক্রান্ত হয়েছেন।

দিল্লির প্রবীণরা বলছেন, ১৯৮৪-র শিখ-বিরোধী দাঙ্গার পরে শহরে গোষ্ঠী সংঘর্ষে এত প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। বছর পাঁচেক আগেও পূর্ব দিল্লির ত্রিলোকপুরীতে গোষ্ঠী সংঘর্ষ হয়েছিল। কিন্তু কোনও প্রাণহানি ঘটেনি।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবিউল

Loading...