দিল্লি দাঙ্গায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯

১১:১৮ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০ আন্তর্জাতিক
delhi_pic

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ নাগরিকত্ব আইন নিয়ে সহিংসতার আগুনে পুড়ছে দিল্লি। গত কয়েকদিন ধরে চলা বিক্ষোভে উগ্রবাদীদের হামলায় প্রায় ৩৯ জনের নিহতের খবর জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো। এদিকে সহিংসতা থামাতে বিজেপি সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

গত রোববার নাগরিকত্ব আইনের পক্ষে-বিপক্ষে সংঘর্ষ থেকে এ দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এরপর মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভারতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফরকালেই ওই সহিংসতার জেরে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় দিল্লি।

তিন দিনের দাঙ্গায় দিল্লিতে আহত হয়েছেন অন্তত ২০০। তাদের মধ্যে গুলিতে আহতের সংখ্যা ৪৬। বুধবার রাতেও উত্তর–পূর্ব দিল্লির ভজনপুরা–জোহরাপুরী এলাকা থেকে গোলমালের খবর পাওয়া যায়। তবে মারাত্মক কিছু ঘটেনি। তিন দিন নিষ্ক্রিয় থাকা পুলিশ বৃহস্পতিবার কিছুটা নড়েচড়ে বসেছে। এলাকায় এলাকায় শান্তি কমিটিও সক্রিয়।

এদিকে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পুলিশ ও অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ বৈঠকে মঙ্গলবারই স্পেশাল পুলিশ কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এসএন শ্রীবাস্তবও যোগ দেন। তবে সহিংসতার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এখন তীব্র সমালোচনাও হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বিবিসি সংবাদদাতারা বলছেন, সংঘর্ষকারীদের কারও কারও হাতে বন্দুক দেখা গেছে। সহিংসতা হয়েছে মূলত উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে। এসব এলাকার সড়কগুলো এখন অনেকটা ধ্বংসস্তূপের মতো রূপ নিয়েছে, রাস্তায় পুড়ছে যানবাহন, উড়ছে ধোঁয়া এমনটাই বলছিলেন বিবিসি হিন্দির সংবাদদাতা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী।

দিল্লি পুলিশকে বুধবার কাঠগড়ায় তুলেছিলেন দিল্লি হাইকোর্টের দুই বিচারপতি এস মুরলীধর ও তালবন্ত সিং। হিংসায় ইন্ধন জোগাতে উসকানিমূলক ভাষণ দেওয়া সত্ত্বেও বিজেপির চার নেতার (যাঁর একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর) বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশ কেন মামলা দেয়নি, বিচারপতি মুরলীধর সে জন্য দিল্লি পুলিশের কড়া সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, চোখের সামনে আরেকটা ১৯৮৪ হতে দেওয়া যায় না। সলিসিটর জেনারেলকে তিনি বলেছিলেন পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে। সেই বিচারপতি মুরলীধরকে বুধবার রাতেই পাঞ্জাব–হরিয়ানা হাইকোর্টে বদলি করা হয়। এ নিয়ে রাজনীতি তোলপাড়।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী টুইট করে বলেন, ‘বিচারপতি লয়ার কথা মনে পড়ছে, যাঁকে বদলি করা হয়নি।’ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র লেখেন, ‘মধ্যরাতে বিচারপতি মুরলীধরের বদলির নির্দেশ মোটেই আশ্চর্যের বিষয় নয়। তবে নিশ্চিতভাবেই বেদনাদায়ক ও লজ্জার।’ বিজেপি অবশ্য এই বদলিকে ‘রুটিন’ বলতে চাইছে।

তবে দাঙ্গা পরিস্থিতি বর্তমানে কাটতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সহিংসতা এড়াতে দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় শান্তি আলোচনা ও বৈঠকও চলছে বলে জানিয়েছে তারা।

Loading...