ভারতে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে টঙ্গীতে বিক্ষোভ মিছিল

৬:৪০ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০ ঢাকা
tungi

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ দিল্লির মুসলমানদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজ শেষে নগরীর টঙ্গী বাজার বড় মসজিদ চত্বর থেকে স্থানীয় ওলামায়ে কেরামের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।

মিছিলটি টঙ্গী বাজার হয়ে স্টেশন রোড এলাকায় সামনে গিয়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এ সময় সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা মোদী সরকারের প্রতি এ ব্যাপারে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, দিল্লির মুসলিমদের হত্যা করা হচ্ছে, মসজিদ ভাঙচুর ও পবিত্র কোরআন শরিফে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এসব নির্মম হত্যাকাণ্ড কোনভাবেই বরদাশত করা যায় না। আমরা বাংলাদেশ সরকারে কাছে রাষ্ট্রীয়ভাবে এ নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং নিন্দা জানানোর দাবি জানাচ্ছি।

বক্তারা আরো বলেন, অবিলম্বে দিল্লির মুসলিম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে মুসলিম নির্যাতন হত্যার বিরুদ্ধে সারা বিশ্বের মুসলমানকে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হতে হবে।

এদিকে ভারতের দিল্লিতে মুসলমানদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন মুসল্লিরা। শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজের পর সমমনা ইসলামী দলগুলোর ব্যানারে মসজিদের গেটে এ বিক্ষোভ হয়। এসময় মুসল্লিরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।

এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজ পর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, মুসলমানদের উপর নির্যাতনকারী মোদিকে বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখতে দেয়া হবে না। যেকোন মূল্যে মোদিকে প্রতিহত করা হবে। মোদি যদি বাংলাদেশে আসে তাহলে তাকে স্বাগত জানাতে আমরা কাফনের কাপড় পড়ে বায়তুল মোকাররম থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত দাঁড়াব। মোদিকে স্বাগত জানাতে সরকারের প্রয়োজন নেই। আমরাই যথেষ্ট।

উল্লেখ্য, বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী (সিএএ) আইনকে কেন্দ্র করে দাঙ্গা-সহিংসতায় ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এখন পর্যন্ত ৩৯ জন প্রাণ হারিয়েছে। সহিংসতার ঘটনা তদন্তে দু’টি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।

গত রোববার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) সমর্থক-বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলেও ধীরে ধীরে এটি সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় রূপ নেয়। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। বৃহস্পতিবারও অন্তত সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

তিন দিনের দাঙ্গায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০০। তাদের মধ্যে গুলিতে আহতের সংখ্যা ৪৬। বুধবার রাতেও উত্তর–পূর্ব দিল্লির ভজনপুরা–জোহরাপুরী এলাকা থেকে গোলমালের খবর পাওয়া যায়। তবে মারাত্মক কিছু ঘটেনি। তিন দিন নিষ্ক্রিয় থাকা পুলিশ বৃহস্পতিবার কিছুটা নড়েচড়ে বসেছে। এলাকায় এলাকায় শান্তি কমিটিও সক্রিয়।

Loading...